চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়ে গেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

শেষ পাতা

চালের বাজার প্রায় বছরখানেক ধরেই অস্থির। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে চালের বাজার স্থিতিশীল করতে আগে থেকে উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।

2021-01-11T22:46:00+00:00
2021-01-11T11:56:14+00:00
 
  রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬,
২৮ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
শেষ পাতা
চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়ে গেছে
ধান-চাল মজুদে সরকারের সক্ষমতা কম : দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২১, ১০:৪৬ পিএম  আপডেট: ১১.০১.২০২১ ১১:৫৬ এএম
চালের বাজার প্রায় বছরখানেক ধরেই অস্থির। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে চালের বাজার স্থিতিশীল করতে আগে থেকে উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। তা ছাড়া সরকার চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিতেও দেরি করে ফেলেছে। এখন উদ্যোগ নিলেও গুটিকয়েক ব্যবসায়ীকে চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এতে আবারও চাল নিয়ে সিন্ডিকেট হতে পারে। তাই চাল আমদানি আগের মতোই উন্মুক্ত থাকা দরকার ছিল। এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আয়োজিত ‘চালের দাম বাড়ছে কেন? কার লাভ, কার ক্ষতি’ শীর্ষক একটি ভার্চুয়াল সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। সংলাপটি রোববার অনুষ্ঠিত হয়।
এসডিজি প্লাটফর্মের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সংলাপের সভাপতিত্ব করেন এবং বাংলাদেশে ধান উৎপাদনের সঠিক প্রাক্কলনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বলেন, এই প্রাক্কলনের ওপর ভিত্তি করেই নীতিনির্ধারকরা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। তিনি আরও বলেন যে, সরকারের ধান-চাল মজুদ করার সক্ষমতা কম হওয়ার কারণে বেশিরভাগ সময়ই সরকারের পক্ষে বাজার প্রভাবিত করার সুযোগ থাকে না। এ ছাড়াও তুলনামূলক ছোট কৃষকের কাছ থেকে ধান-চাল সংগ্রহ করতে হবে। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন, যে ছোট ও মাঝারি কৃষকের টিকে থাকার সক্ষমতা কম, তাই তাদের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
সংলাপে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে কৃষি খাতে যতখানি উন্নতি হয়েছে, ততখানি কৃষকের উন্নতি হয়নি। অন্যদিকে উৎপাদনের প্রাক্কলনেও সমস্যা রয়েছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে রক্ষা করাই এই খাতে মূল চ্যালেঞ্জ। আগামী বোরো ধান চাষের পরবর্তী সময়ে খাদ্য পরিস্থিতিকে নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে। বর্তমানে চালের বাড়তি দাম যেন উৎপাদকের কাছে পৌঁছতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে চালের দাম যেন নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি না করে তা খেয়াল রাখতে হবে। কৃষক, কৃষি খাতের সঙ্গে যুক্ত সব পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি ‘কৃষিপণ্য মূল্য কমিশন’-এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এই কমিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি প্রক্ষেপণ এবং স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে দাম নির্ধারণ করা সহজ হবে। এই কমিশনের মাধ্যমে বাজার সঙ্কেত পাবে, নীতিনির্ধারকরা পদক্ষেপ নিতে পারবে এবং গবেষণাকে কার্যকরভাবে উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল ও হাওর অঞ্চলের মোট ৯টি জেলা (গাইবান্ধা, পিরোজপুর, সাতক্ষীরা, সুনামগঞ্জ, মেহেরপুর, নীলফামারী, রংপুর, সিরাজগঞ্জ ও কুড়িগ্রাম) থেকে প্রায় ৪০ জন কৃষক, কৃষাণী এবং কৃষি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এই সংলাপে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। তারা বলেন যে, মিল মালিকরা আগেই ধান কিনে মজুদ করে রাখে, যে কারণে চালের দাম বাড়লেও কৃষক তার মূল্য পায় না। ধান চাষ খরচের তুলনায় কম দামে বিক্রি করতে হয়, তাই কৃষক ধান চাষ থেকে সরে আসছেন। তারা আরও বলেন যে, সরকার যে ধান সংগ্রহ করেন সেখানে সবাই অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না। তাই কম দামে মিল মালিকদের কাছে বিক্রি করতে হয়।
ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক এমপি সংলাপের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষি খাতে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন ভর্তুকি ও উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন এবং বলেন যে এসব সুবিধা কৃষক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকার বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে।
ধান চাষে লাভবান না হওয়ায় ধানের উৎপাদন ক্রমাগত কমছে বলে মনে করেন চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ। কৃষি খাতে অনেকে ধান চাষ থেকে উচ্চমূল্যের ফল-ফসলের দিকে ঝুঁকে যাওয়ায় এবং চাষযোগ্য জমি কমে আসায় ধান চাষের ক্ষেত্রে সঙ্কট তৈরি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন যে, সরকারি গুদামে ছোট কৃষকদের ফসল সংরক্ষণ করার সুযোগ করে দিতে হবে যেন ফসলের সঙ্গে সঙ্গে কৃষককে অল্প দামে ফসল বিক্রি না করতে হয়।
বাজারে চালের দাম বাড়লেও এই বাড়তি দামের কারণে কৃষক লাভবান হয় না বলে মনে করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা ইস্টিটিউট (বিআইডিএস) সাবেক গবেষণা পরিচালক ড. এম আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন যে, কৃষক অনেক আগেই কম দামে ধান বিক্রি করে দেয়। বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক ড. কাজী শাহাবুদ্দিন, প্রারম্ভিক বক্তা হিসেবে বলেন যে, সরকারের বর্তমানে খাদ্যশস্য মজুদ পর্যাপ্ত নয় এবং এটি খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, সরকার প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে চাল না কিনে মিলারদের থেকে ক্রয় করছে, তাই কৃষক উপকৃত হচ্ছে না। মিলার ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের মজুদদারির কারণে বাজারে চালের অপর্যাপ্ততার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিবছর বাম্পার ফলনের পরেও চালের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। সরকারকে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রয় কেন্দ্র করে সরাসরি কৃষক থেকে চাল ক্রয় করার পরামর্শ দেন তিনি। বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম খোরশেদ আলম খান বলেন যে, মিলাররা মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষকদের থেকে ১ হাজার ৫০ টাকায় ধান ক্রয় করেছে। চালের এই বাম্পার ফলনের কথার সঙ্গে দ্বিমত করে তিনি বলেন যে, এই মৌসুমের শুরু থেকেই সরবরাহ কম ছিল।
বাজারে চালের পর্যাপ্ততা নিয়ে বাংলাদেশ রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহ আলম বাবু বলেন, চালের আমদানি শুল্ক কমানো হলেও সঠিক সময়ে এই নীতি গ্রহণ না নেওয়ায় সে পরিমাণ চাল আমদানি করা যায়নি। ধান ও চালের তথ্য বিষয়ে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবির উৎপাদনের ভুল প্রাক্কলন নিয়ে সংলাপে উপস্থিত বক্তাদের মন্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, উৎপাদনের প্রাক্কলন সঠিক ছিল এবং তিনি খাদ্য সঙ্কটের সম্ভাবনা আছে বলে মনে করেন না।



Loading...
Loading...
শেষ পাতা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: