লবণসহিষ্ণু শিমের নতুন জাত উদ্ভাবন

গাজীপুর সংবাদদাতা

শেষ পাতা

শিম বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় শীতকালীন সবজি। গ্রাম-বাংলার প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় এ ফসল আদিকাল থেকে আবাদ হয়ে আসছে। সিমের

2021-04-12T23:14:00+00:00
2021-04-12T00:10:44+00:00
 
  বুধবার, ১০ জুন ২০২৬,
২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
শেষ পাতা
লবণসহিষ্ণু শিমের নতুন জাত উদ্ভাবন
গাজীপুর সংবাদদাতা
প্রকাশ: সোমবার, ১২ এপ্রিল, ২০২১, ১১:১৪ পিএম  আপডেট: ১২.০৪.২০২১ ১২:১০ এএম  (ভিজিট : ৬৪১)
শিম বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় শীতকালীন সবজি। গ্রাম-বাংলার প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় এ ফসল আদিকাল থেকে আবাদ হয়ে আসছে। সিমের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে দেশের বহু স্থানে মাঠে ব্যাপকভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করা হয় সিম। আবাদের বিস্তৃতি ও পুষ্টিমান বিবেচনায় এর গুরুত্ব অপরিসীম। ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ ছাড়া ও শরীরের মাংস গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন সিম থেকে পাওয়া যায়।
গাজীপুরস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের (বশেমুরকৃবি) কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রফেসর ড. মো. গোলাম রসুলের নেতৃত্বে একদল গবেষক উচ্চ অ্যান্থসায়ানিন সমৃদ্ধ লবণসহিষ্ণু সিমের নতুন জাত বিইউ-৭ উদ্ভাবন করেছেন। সম্প্রতি জাতীয় বীজ বোর্ড এ জাতের অনুমোদন দিয়েছেন।
বশেমুরকৃবির গবেষণা সূত্রে জানা গেছে, লবণসহনশীল ও উচ্চ ফলনশীল হওয়ায় বাংলাদেশের বিস্তৃত দক্ষিণাঞ্চলে শীত মৌসুমে পতিত থাকা জমির সুষ্ঠু ব্যবহার এবং সেই সঙ্গে অধিক পরিমাণ সবজির উৎপাদন বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম হবে সিমের নতুন জাত বিইউ-৭।
জাতটি গাছ প্রতি ২.৪-৩.৫ কেজি ভক্ষণযোগ্য সিম উৎপাদিত হবে। সে হিসেবে হেক্টর প্রতি সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ফলনশীলতা ৩৫.০ টন। ১২ ডিএস-এম লবণাক্ততা সহনশীল হওয়ায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ১৯টি উপকূলীয় জেলাসহ সমগ্র দেশে আবাদ করা সম্ভব। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে রোপণ করলে ১৩০ দিনে ভক্ষণযোগ্য ফল সংগ্রহ করা যায়। তবে বীজ সংগ্রহের জন্য আরও ২০ দিন সময় বেশি লাগবে।
এ ছাড়া বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় ধারণা ছাদ কৃষির জন্য নতুন অবমুক্ত এ জাত একটি চমৎকার নির্বাচন হতে পারে। কেন না ফলন ও গাছের আকার বিবেচনায় একটি গাছ ছোট একক পরিবারের সিমের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।
দেশের সব জেলাতে শীত মৌসুমে এই জাতের বীজ রোপণ করা যেতে পারে। গোবর-মাটির মিশ্রণে ভরা (অর্ধেক-অর্ধেক) ছোট পলিথিন ব্যাগে চারা গজিয়ে পরবর্তী সময়ে মাঠে গর্তে লাগানোই ভালো। প্রতি গর্তে ১০ কেজি পচা গোবর, ১০ গ্রাম ইউরিয়া (দুইবারে), ৩০ গ্রাম টিএসপি ও ২০ গ্রাম পটাশ সার প্রয়োগ করতে হবে।
বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা শতকরা ৯০ ভাগ বিবেচনায় নিয়ে প্রতি হেক্টরে ৪.০ থেকে ৫.০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। এক কঞ্চি বিশিষ্ট বাউনি বা মাচা চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করে এই সিম উৎপাদন করা যায়।
প্রফেসর ড. মো. গোলাম রসুল জানান, অ্যান্থসায়নিন হলো পোলিফেনোলিক রঞ্জক যা পরাগায়নে সাহায্যকারী পতঙ্গ এবং বীজ বিস্তারকে আকর্ষণ করে ফসলের বংশ বিস্তারের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে গাছকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। শাক-সবজিতে প্রাপ্ত অ্যান্থসায়নিন মানবদেহের ভাস্কুলার প্রদাহ হ্রাস এবং থ্রম্বোসিস (রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধা) প্রতিরোধে যথেষ্ট কার্যকর বলে চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্বীকৃত।
সিমের জাতটি সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. গিয়াস উদ্দীন মিয়া বলেন, ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে টেকসই উন্নয়ন বজায় রাখতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। নতুন জাতের এই সিম উপকূলীয় এলাকার কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিপ্লব ঘটাতে সম্ভব হবে।




Loading...
Loading...
শেষ পাতা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: