সাহিত্যের আড্ডা, আড্ডার সাহিত্য

মাহমুদ কামাল

সাহিত্য

লেখালেখির ক্ষেত্রে আড্ডা এবং সাহিত্য সংগঠনের ভূমিকাকে খাটো করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। সাহিত্যের আড্ডায় চিন্তার আদান-প্রদান যেমন থাকে; পাশাপাশি

2021-12-24T14:23:09+00:00
2021-12-24T14:23:09+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬,
৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
সাহিত্য
সাহিত্যের আড্ডা, আড্ডার সাহিত্য
মাহমুদ কামাল
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২১, ২:২৩ পিএম 
লেখালেখির ক্ষেত্রে আড্ডা এবং সাহিত্য সংগঠনের ভূমিকাকে খাটো করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। সাহিত্যের আড্ডায় চিন্তার আদান-প্রদান যেমন থাকে; পাশাপাশি কবির নতুন লেখাপাঠ, তার বিচার-বিশ্লেষণ কবির লেখাকে পরিপুষ্ট করে তোলে। সাংগঠনিক ভিত্তির মধ্য দিয়ে সাহিত্য সম্মিলনও কবি-লেখককে কাছাকাছি নিয়ে আসে। সাহিত্যের আন্দোলনও পুরনোকে ফেলে নতুন চিন্তা প্রকাশের একটা ভিত্তিভূমি তৈরি করে। আজকাল সাহিত্যের আড্ডা প্রায় উঠেই গেছে। যা হয় তার অধিকাংশই পরনিন্দা, অস্বীকার করা এবং নিজেকে জাহির করার প্রবণতা। আড্ডাবাজ হিসেবে বাঙালির সুনাম সবকালেই ছিল। লেখকদের তো কথাই নেই।

রবীন্দ্রনাথ- আমৃত্যু লিখেছেন, সময় নষ্ট করেছেন কম, তিনিও আড্ডাপ্রিয় ছিলেন। একবার তিনি ভারতবর্ষ পত্রিকা দফতরে হঠাৎ উপস্থিত। আব্দুল মান্নান সৈয়দ ‘আড্ডা’ শিরোনামের লেখায় প্রসঙ্গটি এভাবেই উপস্থাপন করেছেন- ‘আড্ডা দেয়ার লোভেই একবার তিনি হাজির হয়েছিলেন জলধর সেনের ভারতবর্ষ পত্রিকার দপ্তরে। জলধর সেনকে সবাই ‘জলধর-দা’ বলতেন। রবীন্দ্রনাথের চেয়ে জলধর সেন ছোট ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ আসরে এসেই ‘জলধর-দা’ কেমন আছেন?- বলে আসর জমিয়ে দিয়েছিলেন।’

প্রতিটি মানুষের জীবনেই যেমন গল্পের উপাদান থাকে, আড্ডা নিয়েও নানা মুখরোচক গল্প রয়েছে। আড্ডা সম্পর্কে প্রয়াত রফিক আজাদের মন্তব্য ‘আড্ডা আমার রক্তে, কবিতা আমার শিরা উপশিরায়।... আড্ডা আমার রক্তে বটে, তবে কোনোমতেই তা আমার তুচ্ছ জীবনের প্রধান বিবেচ্য নয়। নিয়মে তো নয়ই। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে আমি উপভোগ করেছি, আড্ডা থেকে শিখেছি অনেক, যা ক্লাশরুমশিখিনি। মানুষকে আমি পাঠ করি অপার আগ্রহে, অনিঃশেষ আড্ডায়। জীবন, জ্যান্ত মানুষের জীবন- আমার কাছে চিরকালই পাঠ্য বিষয়।’

কবি শহীদ কাদরী ছিলেন প্রচণ্ড আড্ডাবাজ। পুরানা পল্টনে তার শ^শুরালয়ে চলত দিনের পর দিন আড্ডা। বন্ধু, তরুণ, অতি তরুণ কবিরা ছিলেন সেই আড্ডর নিত্যদিনের সদস্য। শহীদ কাদরী যত না কবিতা লিখেছেন তার চেয়ে আড্ডায় সময় দিয়েছেন বেশি। কবি ফজল শাহাবুদ্দীন আমৃত্যু আড্ডাবাজ ছিলেন। বিখ্যাত ‘হার”ন ডায়েরী’ কার্যালয়ে ঘটত সাহিত্যের উজির-নাজিরদের উপস্থিতি। অধুনালুপ্ত ‘দৈনিক বাংলা’ পত্রিকা অফিসে চলত ধুম আড্ডা। ‘সচিত্র সন্ধানী’ সাপ্তাহিকীটি এখন আর বের হয় না। এই পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশক প্রয়াত গাজী শাহাবুদ্দীন আহমদ এবং নির্বাহী সম্পাদক প্রয়াত কবি বেলাল চৌধুরীকে ঘিরে কবিরা তাদের খেয়াল-খুশি উপহার দিতেন। আড্ডাবাজ হিসেবে বেলাল চৌধুরীর খ্যাতি এপার ছাড়িয়ে ওপারের কৃত্তিবাস গোষ্ঠীর সীমানার ভেতরে পৌঁছেছিল যা এখন ইতিহাস। বেলাল চৌধুরী দীর্ঘদিন কলকাতায় ছিলেন। পুরনো ঢাকার বিউটি বোর্ডিংয়ে বসত নিয়মিত আড্ডা। সেখানে আসতেন কবি শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, সৈয়দ শামসুল হক, শহীদ কাদরী, মাহমুদুল হক, আসাদ চৌধুরী, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসসহ দেশবরেণ্য কবি লেখকরা। 

দীর্ঘদিন কবি রফিক আজাদ বাংলা একাডেমিতে চাকরি করেছেন। তিনি একাডেমির পত্রিকা ‘উত্তরাধিকার’ দেখভাল করতেন। একই কক্ষে বসতেন কবি আসাদ চৌধুরী। একাডেমিতে ছিলেন কথাসাহিত্যিক রশীদ হায়দার ও কবি মুহম্মদ নূর”ল হুদা। তাদের কেন্দ্র করে চলত তুমুল আড্ডা। সত্তর দশকের প্রধানতম কবি অকালপ্রয়াত আবিদ আজাদ ‘শিল্পতরু’ নামে একটি সাহিত্যের কাগজ বের করতেন। ওই নামে ছিল তার প্রকাশনা ব্যবসা। আড্ডা হতো নিউমার্কেটের ‘রেক্স’ এবং ‘মনিকা’ নামের রেস্তোরাঁয় কখনো-বা বিভিন্ন দোকানের বারান্দায়। প্রয়াত কবি সিকদার আমিনুল হকের বাড়িতেও জমাট আড্ডা হতো। 

ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রনেতাদের আড্ডা ছিল কিংবদন্তির মতোই। কি সরকারি কি বিরোধী ছাত্রসংগঠন মাঠে-ময়দানে পক্ষে-বিপক্ষে যতই গরম বক্তব্য হোক মধুর ক্যান্টিনে সেই উত্তাপ কমে যেত সহাবস্থানে আড্ডার মধ্য দিয়ে। রাজনৈতিক সহনশীলতার যে সংস্কৃতি ছিল গৌরবের এখন তা একেবারেই অনুপস্থিত। ব্যক্তিগত কুশলাদি তো দূরেই- প্রতিপক্ষের দেখা হলেই উত্তমমধ্যমের সংস্কৃতি এখন দৃশ্যমান। এই মধুর ক্যান্টিনেই পরিকল্পনা হয়েছে বাংলা কবিতার এক অধ্যায় ‘স্যাড জেনারেশনের’। ১৯৬৪ সালে স্যাড জেনারেশনের একমাত্র বুলেটিন প্রকাশের ঘটনা বর্ণনা করেছেন কবি বুলবুল খান মাহবুব তার ‘মধুর ক্যান্টিন’ গ্রন্থে এভাবে- ‘মধুর ক্যান্টিনে বসে আছি আমরা। আমি, রফিক আজাদ, আসাদ চৌধুরী আর শহীদুর রহমান। আসাদ চৌধুরী চলে গেল একটু পরেই। আমরা তিনজন বেশ উত্তেজিত। তো হবেই না বরং এর প্রকাশক হিসেবে ভবিষ্যতে গর্ববোধ করবি।’ 

এতক্ষণ আড্ডার অতীত ইতিহাসের সামান্য বর্ণনা দিলাম। এবার হোক হাল সাকিন। আজিজ মার্কেট এই সেদিনও বইপাড়া হিসেবে বিখ্যাত ছিল। বর্তমানে নানা আনুসঙ্গিক দোকানের ভিড়ে বই মার্কেট সঙ্কুচিত হলেও আজিজ মার্কেটকেন্দ্রিক আড্ডা এখনও বিদ্যমান। অনতিদূরে কনকর্ড টাওয়ারের বেজমেন্টে গড়ে উঠেছে আরেকটি বইপাড়া। সেখানেও চলে নিত্যদিনের আড্ডা। এখান থেকেই সত্তরের বিশিষ্ট কবি বিমল গুহ বের করেন ‘পান্থজনের সখা’ নামে একটি সাহিত্য-সংবাদধর্মী কাগজ। আড্ডা বসে তার ছোট অফিসেও। প্রতি শুক্রবার ‘ম্যাজিক লণ্ঠনে’র কবিতা-আড্ডা বসে কনকর্ড টাওয়ারেই। পরীবাগে সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে বুদ্ধিবৃত্তিক আড্ডা, গাউছুল আজম মার্কেটে তৃণমূল অনুপ্রাস, গুলশানে ছড়া লেখক স. ম শামসুল আলমের আনন ফাউন্ডেশন এবং কবি রুবী রহমানের বাড়িতে বসে সাহিত্যের আড্ডা। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলাতেও সাহিত্যের আড্ডা হয়। কিন্তু প্রাণের আড্ডা এখন অনুপস্থিত। 

কবির এই দেশে কবিদের সম্মিলন নতুন কিছু নয়। কবি বা সাহিত্য সম্মেলনের প্রসঙ্গ উঠলেই ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনের দিকে নজর দিতে হয়। ১৯৫৭ সালের ৭ ফেব্র”য়ারি মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর আহ্বানে টাঙ্গাইলের সন্তোষে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কাগমারী ও সন্তোষ পাশাপাশি এলাকা। সম্মেলনের পরিচিতি পায় কাগমারী এলাকার নামেই। মূলত সারা দুনিয়ার শান্তি কামনার লক্ষ্যেই মওলানা ভাসানী এই সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন। সেই সম্মেলনে তিনি পাকিস্তানিদের ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে বিদায়বার্তা জানিয়ে দিয়েছিলেন।

আফ্রো-এশীয় এই সম্মেলনে যোগদানের জন্য ভারতসহ পৃথিবীর প্রখ্যাত কবি, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। হাজার হাজার দর্শক-শ্রোতায় মুখরিত ওই সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন ছিল সাহিত্য সম্মেলন। উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী আতাউর রহমান খান। ভারত থেকে যোগ দিয়েছিলেন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রবোধকুমার সান্যাল, রাধারানী দেবী, কাজী আবদুল ওদুদ এবং ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ‘নদী ও নারী’ উপন্যাস খ্যাত হুমায়ুন কবীর। এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডেভিট গার্থ, কানাডা থেকে চার্লস এডামস, ইংল্যান্ড থেকে এফ. এইচ. সিন। আর পূর্ব বঙ্গের বরেণ্য ব্যক্তিরা হলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, ড. মুহম্মদ এনামুল হক, ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব, ড. উসমান গণি, ড. হেদায়েত উল্লাাহ, ড. এম. এন. হুদা, ড. আখলাকুর রহমান, ড. কাজী মোতাহার হোসেন, ড. কুদরাত-এ-খুদা, বেগম শামসুন্নাহার মাহমুদ, শওকত ওসমান, কবি ফয়েজ আহমদ ফয়েজ প্রমুখ।

১৯৭৪ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম আন্তর্জাতিক মানের সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজক বাংলা একাডেমি। সেই সম্মেলনে বাংলাদেশ, ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন, জি ডি আর, হাঙ্গেরি এবং মঙ্গোলিয়ার অনেক কবি-সাহিত্যিক অংশগ্রহণ করেন। ১৪ ফেব্র”য়ারি থেকে ২১ ফেব্র”য়ারি পর্যন্ত আট দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত সাহিত্য সম্মেলন উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন কবি জসীম উদ্দীন। অন্নদাশঙ্কর রায়ের নেতৃত্বে ভারত থেকে এসেছিলেন লীলা রায়, মনোজ বসু, মন্মথ রায়, রমা চৌধুরী, আশুতোষ ভট্টাচার্য, বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায়, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, হরপ্রসাদ মিত্র, অজিতকুমার ঘোষ, নরেন্দ্রনাথ মিত্র, জীবেন্দ্র সিংহ রায়, বিনয় সরকার, দেবনারায়ণ গুপ্ত, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সবিতাব্রত দত্ত, প্রবোধকুমার ভৌমিক, বরেন গঙ্গোপাধ্যায়, বিশ্বনাথ সেন, আশিস সান্যাল, সুচিত্রা সেন, মায়া সেন ও প্রদীপ ঘোষ।
 
ঢাকাসহ সারা দেশেই প্রায় প্রতিবছরই কবি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে গড়ে ওঠা জাতীয় কবিতা পরিষদ প্রতিবছরই দুদিনব্যাপী কবিতা পাঠের আয়োজন করে থাকে। দেশ-বিদেশের বিশেষ করে ভারতের বিশিষ্ট কবিদের জাতীয় কবিতা পরিষদ আমন্ত্রণ জানায়। 

ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা কবিরা একমঞ্চে কবিতা পাঠ করেন। ম্যাজিক লণ্ঠন নিয়মিত প্রতি সপ্তাহে আয়োজন করে কবিতাপাঠ। এই সংগঠনের প্রাণপুরুষ কবি ও কথাসাহিত্যিক রতন মাহমুদ। ঢাকার বাইরে টাঙ্গাইলে আয়োজন করা হয় জমজমাট নানা অনুষ্ঠান। টাঙ্গাইলকে বলা হয় ‘কবিধাম।’ কবিধামের এই শহরে কাব্য আন্দোলনের ইতিহাস দীর্ঘ। এই শহরে ‘অরণি’র আয়োজনে বাংলাদেশে প্রথম দর্শনীর বিনিময়ে কবিতাপাঠের আয়োজন করা হয়েছে ১৯৮০ সালের ৮ জুন। সেই অনুষ্ঠানে কবি শামসুর রাহমান তার আবেগঘন বক্তৃতার এক পর্যায়ে বলেন, ‘অরণি’ আজ ইতিহাস সৃষ্টি করল। পাঁচবার আয়োজন করা হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ কবিতা উৎসব। আয়োজক টাঙ্গাইল সাধারণ গ্রন্থাগার। ২০০৬ সাল থেকে কবি ফরিদ আহমদ দুলালের ‘স্বতন্ত্র’ পত্রিকার উদ্যোগে প্রায় প্রতিবছর ভারত-বাংলার কবিদের সমাবেশ ঘটছে। সমুদ্রের শহর কক্সবাজারে ‘কবিতা বাংলার’ উদ্যোগে কবি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বগুড়া লেখক চক্র তিরিশ বছর থেকে অবদান রেখে চলেছে ছোট-বড় নানা মাপের অনুষ্ঠান আয়োজন করে। ১৯৮৯ থেকে বগুড়া লেখক চক্র কবিতা, গদ্য, সাংবাদিকতা ও লিটিল ম্যাগসহ নানা বিষয়ে সম্মাননা প্রদান করে আসছে। রাজশাহীতে ‘কবিকুঞ্জের’ উদ্যোগে কবি আরিফুল হক কুমারের নেতৃত্বে জীবনানন্দের জন্মবার্ষিকীকে সামনে রেখে বড়মাপের সাহিত্য সমাবেশের আয়োজন করা হয়। 

বাংলাদেশের প্রায় জেলাতেই কবিতাপাঠের আসর বসে। এর ফিরিস্তি না দিয়ে সারাৎসার এরকম: চট্টগ্রামে বড়মাপের সাহিত্য সম্মেলন, শিশু সাহিত্যের সমাবেশ, লিটল ম্যাগ সমাবেশসহ প্রতিনিয়তই সাহিত্যের অনুষ্ঠান হচ্ছে। যশোরে মাইকেল স্মরণে প্রতিবছর মধুমেলার আয়েজন করা হয়। কুষ্টিয়ার আকর্ষণ লালন মেলা। নারায়ণগঞ্জে আয়োজন করা হয় বড়মাপের কবি সম্মেলনের। রংপুরে কবি মহফিল হক ভারত-বাংলার কবিদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। কিশোরগঞ্জে জাহাঙ্গীর আলম জাহানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয় ছড়া উৎসব। জীবনানন্দের শহর বরিশালে তপংকর চক্রবর্তী করেন জীবনানন্দ মেলা। খুলনার ‘কবিতালাপ গোষ্ঠী’ বহুবার কবি সম্মেলনের আয়োজন করেছে। গাইবান্ধায় কবি সরোজ দেব ও এবং লালমনিরহাটে ফেরদৌসী রহমান বিউটি আয়োজন করেন কবি সম্মেলন। তবে কোনো কোনো লিটল ম্যাগ এবং সেই কাগজের সংশ্লিষ্টরা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়ে নিজেরাই ছোটখাটো প্রতিষ্ঠান তৈরি করে ফেলেন। কলকাতার আনন্দবাজার গোষ্ঠী একটি বড় ধরনের প্রতিষ্ঠান। আমাদের দেশে এরকম কোনো প্রতিষ্ঠান এখনও গড়ে ওঠেনি। কবিতার ক্ষেত্রে আঙ্গিক বিচারে যদিও এক দশক থেকে পরবর্তী দশকের ভিন্নতা মেলে কিন্তু এর কোনো সমন্বয় রূপ এখনও মান্যতা পায়নি। প্রয়োজন নিখাদ সাহিত্যের আড্ডা, সাহিত্যের সংগঠন এবং সাহিত্যের আন্দোলন। আমরা কিন্তু আশাবাদী। আমাদের বহু সংগঠন এক দশক কেন, যুগ যুগ ধরে টিকে আছে।

/আরএ





  বিষয়:   সাহিত্য  আড্ডা 


Loading...
Loading...
সাহিত্য- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: