সূচিপত্র
সোহরাব পাশা
বালির ভেতর দীর্ঘ নদী
ঢেউশূন্য কোলাহল,
জলের প্রতিভা ওড়ে
অ্যাকোয়ারিয়ামে,
ছায়াগাছ তমসা কুহক
বসন্তের ঘ্রাণ নেই
দুপুরের চোখে
শোভন ঘুমিয়ে আছে
মেঘের তরঙ্গে
ঘুম সঙ্কলিত হচ্ছে
তমসার সূচিপত্রে
প্রিয় বাংলাদেশ
অঞ্জনা সাহা
যখন সাতচল্লিশে দেশভাগ হয়েছিল,
তখন আমাদের আত্মায় এনে দিয়েছিল
কিছু জিজ্ঞাসা আর প্রশ্নের বীজ।
শৈশবে এক মহাকালপুরুষের মতো তুমি তৈরি হয়েছিলে দিনে দিনে।
তোমার চেতনা উদ্দীপ্ত-করা ভাবনা ক্রমাগত তাড়িয়ে নিয়ে
জন্ম দিয়েছিল বাহান্নর ভাষা আন্দোলন।
তারপর ছেষট্টির ছয় দফা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও
সত্তরের মুক্তির বীজমন্ত্র বুনে দিয়েছিল স্বাধীনতার শপথ;
আমরা তোমার কাছ থেকে দীক্ষা নিয়ে
কালক্রমে দৃপ্তপায়ে নির্ভয়ে এগিয়ে গিয়েছিলাম তোমার দেখানো পথে।
বাউলের একতারায় বেজে উঠেছিল যে সুর,
রাখালের বাঁশিতেও ধ্বনিত হয়েছিল সে-সুরের মূর্ছনা।
তার তরঙ্গে নদীর জলে জেগেছিল বিপুল জোয়ার।
মুক্তির নেশায় পাগল হয়ে উঠেছিল বাঙালির উদ্বেল হৃদয়।
তারপর একাত্তরের সাতই মার্চ- তোমার বজ্রকণ্ঠের
সেই অবিস্মরণীয় ঘোষণা :
‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
সেদিন থেকেই ষড়যন্ত্রের ক্রূর থাবা মেলে দিয়ে দশ আঙুলে
হায়েনারা খুবলে নিতে চেয়েছিল বাংলা ও বাঙালির হৃদয়।
ওরা নীলনকশার ছক কষে ২৫শে মার্চের কালরাত্রির অন্ধকারে
পৃথিবীর ঘৃণ্যতম রক্তপাত ঘটিয়েছিল!
শুরু হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ- গ্রামেগঞ্জে-জনপদে পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড!
অতঃপর যেমন করে মাতৃগর্ভে বেড়ে ওঠে আকাক্সক্ষার ভ্রুণ,
তেমনি করে নয় মাসের যুদ্ধশেষে এই মাটিতে জন্ম নিয়েছিল
নতুন স্বদেশ, আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ।
বলেছি তো যাব না ফিরে
তাহমিনা কোরাইশী
যাব না ফিরে আর আমি যাব না ফিরে
থাকব তোমার ভালোবাসার চাদরে মুড়ে
প্রকৃতির মধু কুঞ্জবনে।
চৈত্রের ভ্যাপসা গরমে-
দেহে দেহ রবে ঘামে ঘামে
শীতলপাটির মতো জড়িয়ে তোমারই সর্বাঙ্গে।
কখনও বর্ষার নতুন জলে-
জলকেলিতে সঙ্গোপনে উর্বশী আমি
আঁখিতে আঁখি মুদি-
আহ্লাদি মন নিরন্তর
তোমারই খেলার সাথি হয়ে ভাসব সরোবর।
যাব না ফিরে আর আমি যাব না ফিরে
করি বসতি এই লোকালয়ে
তোমারই বলয় ঘিরে
মৌটুসী তুমি মধু আহরণে ভালোবাসার কালান্তরে
অবিরত আপন বলয়ে সাজাও পুষ্পসম্ভার
বলার ক্ষমতা তুলে দাও কণ্ঠে, তুমি যে মণিহার।
যাব না ফিরে আর আমি, যাব না ফিরে...
ঝরাপাতা
সালমা সুলতানা
একাকী বুক ভাঙে ঝরাপাতার, শূন্য সে, অযাচিত
সে নয় কারো আপন আর, নয় কারো আরাধ্য।
সন্ধ্যার বাতাসে নিঃসঙ্গ সে উড়ে যায় দূরে,
রিক্ত বুকে রাতের কান্না, ঢেউ তোলে অন্দরে।
প্রভাত হয়, দিন গড়ায়, কারো অহঙ্কারে সে চূর্ণ
ভুলে যায় সবাই, তার সুরে কেউ একদা হতো পূর্ণ।
ভালোবাসার ঢেউয়ে ছুঁয়ে ছিল পথ ও পথিক,
বিনিময়ে দিয়েছে দুঃখ, ভালোবাসার অধিক।
মাটির ললিত দেহে শেষ অশ্রু, বুকে প্রগাঢ় ব্যথা,
কে রাখে অতীত মনে!
চিরসখা
সাইয়্যিদ মঞ্জু
ফুলের পরাগে তোমার সুরভি ভ্রমরের কত গুঞ্জরণ
পাখিদের ঠোঁটে মধুচ্ছন্দা উৎসবে মাতে পুষ্পবন।
তোমার জীবন তোমার যাপন আমার নদীর বুকে
জোয়ারভাটায় স্বপ্ন আনো চিরসখা হয়ে চোখে।