বাংলাদেশের অবস্থান পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে। পৃথিবীর এই অর্ধেকে বছরের সবচেয়ে দীর্ঘতম দিন ২১ জুন। অন্যদিকে ২১ ডিসেম্বর হলো এ অঞ্চলে সবচেয়ে ছোট দিন। সে হিসেবে ২৫ ডিসেম্বর দিনটা তো ছোটই হওয়ার কথা। অথচ আমরা এই দিনটিকে বড়দিন কেন বলি?
আসলে ২৫ ডিসেম্বর দিনটি আয়তনের দিক দিয়ে কোনোমতেই বড় নয়, তবে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কাছে দিনটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই দিনটিকে তারা যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন হিসেবে উদযাপন করেন। এ জন্যই তারা এই দিনটিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন বা বড়দিন মনে করেন।
আসলে যিশুখ্রিস্টের জন্ম কবে হয়েছিল সে কথা কেউই জানে না। কোথাও লেখাও নেই তার জন্মদিনের কথা। ৩৫০ খ্রিস্টাব্দে পোপ জুলিয়াস ২৫ ডিসেম্বরকে যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন হিসেবে ঘোষণা করেন। তখন থেকেই এই দিনটি বড়দিন বা ক্রিসমাস ডে হিসেবে উদযাপিত হচ্ছে।
বড়দিনে ক্রিসমাস ট্রি সাজানোর রেওয়াজ হাজার বছরের পুরনো। উত্তর ইউরোপে সে আমলে ফারগাছ বা চেরিগাছকে আলো দিয়ে সাজানো হতো। আস্তে আস্তে এই রীতি ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশে^। আজকাল আমাদের দেশের খ্রিস্টানরাও বড়দিনে আলোয় আলোয় সাজিয়ে তোলেন ক্রিসমাস ট্রি।
খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী শিশুরা বিশ্বাস করে, যেসব শিশু সারা বছর বাবা-মায়ের কথা শোনে, লক্ষ্মী হয়ে থাকে, বড়দিনের আগের রাতে সান্তা ক্লজ তাদের উপহার দিয়ে যান। এ জন্য এই রাতে তারা ঘরের যেকোনো জায়গায় মোজা ঝুলিয়ে রেখে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যায়। সকালে উঠে তারা দেখে মোজার ভেতরে রয়েছে সুন্দর কোনো উপহার। আসলে শিশুদের মা-বাবা বা আপনজনেরা তাদের জন্য এসব উপহার রেখে দেন। রাতের এই সান্তাকে বাস্তবে দেখা না গেলেও বড়দিনের উৎসবে বিভিন্ন স্থানে কিন্তু সান্তা ক্লজকে দেখা যায়। বিভিন্ন হোটেল, রেস্টুরেন্ট বা বিনোদন পার্কে বড়দিনের উৎসবে দেখা মেলে মুখভর্তি সাদা দাড়ি-গোঁফ, পরনে লাল-সাদা আলখেল্লা, টুপি, চামড়ার বেল্ট ও বুট জুতা পায়ে সান্তা ক্লজের। সান্তা ক্লজ শিশুদেরকে কেক, চকলেট, খেলনা ইত্যাদি উপহার দিয়ে থাকেন।
অনেক দিন আগে তুরস্কে সেন্ট নিকোলাস নামে একজন ধর্মগুরু ছিলেন। সেন্ট নিকোলাস নাম থেকেই মূলত সান্তা ক্লজ নামের উৎপত্তি। নিকোলাস তার সব সম্পত্তি গরিবদের দান করে দিয়েছিলেন। ছোটবেলায় মা-বাবাকে হারিয়েছিলেন তিনি। তাই অনাথ বাচ্চাদেরও তিনি খুব ভালোবাসতেন। রাতের আকাশে যখন অর্ধেক চাঁদ থাকত তখন তিনি উপহার নিয়ে বের হতেন। এতে করে কেউ তাকে চিনতে পারত না।
মোজা ঝোলানো নিয়েও রয়েছে এক গল্প। এক ব্যক্তি টাকার অভাবে তার তিন মেয়েকে বিয়ে দিতে পারছিলেন না। এ কথা জানতে পেরে নিকোলাস গোপনে তাকে সাহায্য করার চিন্তা করেন। ওই ব্যক্তি সেদিন ছাদে মোজা শুকাতে দিয়েছিলেন। নিকোলাস ছাদে উঠে সেই মোজার মধ্যে সোনার মুদ্রা রেখে দেন। একবার নয়, তিনবার এভাবে সোনা রাখার জন্য যান তিনি। শেষবার সেই ব্যক্তি নিকোলাসকে দেখে ফেলেন। নিকোলাস তার সাহায্যের কথা কাউকে জানাতে নিষেধ করেন। কিন্তু এ ঘটনার কথা চাপা থাকে না, ধীরে ধীরে তা তুরস্ক ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে সব দেশে। এরপর থেকেই মানুষের মধ্যে এই বিশ্বাস জন্ম নেয় যে বড়দিনে মোজা ঝুলিয়ে রাখলে সান্তা ক্লজ এসে তাতে উপহার রেখে যান।
/জেডও/