দল ঘোষণাকালে দলীয় অধিনায়কের উপস্থিতি, ক্রিকেটে এমন নজির বিরল। তাই সোমবার ২০২৪ সালের প্রথম দিনে নির্বাচক হান্নান সরকার আর প্রথম কোচ স্টুয়ার্ট লর সঙ্গে যখন সংবাদ সম্মেলনে হাজির হলেন মাহফুজুর রহমান রাব্বি, তখন তা কৌতূহল উদ্দীপকই ছিল। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার হলো, এর নেপথ্যে বিশেষ কোনো কারণ নেই।
উপলক্ষটা জানাই ছিল, ১৯ জানুয়ারি থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় শুরু হতে যাওয়া অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা। এক এক করে খেলোয়াড়দের নাম বলে গেলেন নির্বাচক হান্নান। সেখানে নতুন কিছু পাওয়া গেল না। গত মাসে আরব আমিরাতে যুব এশিয়া কাপে যে দলটা খেলেছে, সেই দলটাকে অপরিবর্তিত রেখেই পাঠানো হচ্ছে বিশ্বকাপে। নেতৃত্বেও বদল নেই। এশিয়া কাপজয়ী অধিনায়ক মাহফুজুরের ওপরই আস্থা রাখা হয়েছে।
আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক। যেটির এক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিলেন অধিনায়ক মাহফুজুরও এবং তা বেশ আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে। ‘এ’ গ্রুপে আয়ারল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়ার পরও তিনি ভাবলেশহীন। দীপ্ত কণ্ঠেই জানালেন, ভারতকেও আর দশটা দলের মতো করেই দেখেন তারা। শুধু ভারত কেন, কোনো প্রতিপক্ষকে নিয়েই নাকি ‘অত চিন্তা’ মাহফুজুরদের নেই। তারা কেবল নিজেদের প্রক্রিয়া অনুসরণেই মনোযোগী।
যুব ক্রিকেটের পরাক্রমশালী দল ভারতকে নিয়ে মাহফুজুর বলছিলেন, ‘ভারতের বিপক্ষে ম্যাচও আমাদের কাছে আর দশটা খেলার মতোই। আমরা সাধারণত কোনো ম্যাচ নিয়েই অত বেশি কিছু ভাবি না। একটা ক্রিকেট ম্যাচ ভেবেই মাঠে নামি। বিশেষ কিছু চিন্তা করি না। আমরা প্রতিপক্ষ নিয়ে অত চিন্তা করি না। নিজেদের প্রক্রিয়া ঠিক রাখার চেষ্টা করি। প্রধান কোচ স্টুয়ার্ট ল স্যার, বোলিং কোচরা যে পরিকল্পনাগুলো দেন, সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করি।’
এবারের বিশ্বকাপটা হওয়ার কথা ছিল শ্রীলঙ্কায়। নানান কারণে তা দক্ষিণ আফ্রিকায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই দক্ষিণ আফ্রিকাতেই ২০২০ সালে ইতিহাস গড়েছিল আকবর আলীর দল। ভারতকে হারিয়েই জিতেছিল যুব বিশ্বকাপ। সেই দলটা বেশ ভালো ছিল, মানসিকভাবে শক্ত ছিল। মাহফুজুরের এমনই অভিমত, ‘২০২০ বিশ্বকাপে বড় ভাইরা অনেক ভালো করেছেন। তারা মানসিকভাবে অনেক শক্ত ছিলেন। পরিণত খেলোয়াড় ছিলেন, তাই বিশ্বকাপ এসেছে।’
মানসিকভাবে এবারের দলটাও শক্ত। বাকি যে কয়েকটা দিন আছে, এই সময়ে তাদের আরও শক্ত করে তোলার কাজ করবেন কোচ। স্টুয়ার্ট ল এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘যা আমাদের হাতে আছে তা নিয়ন্ত্রণ করতে চাই। আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে প্রস্তুতি। কীভাবে আমরা এগোব, নিজেদের পরিকল্পনায় অনড় থাকা, ভিন্ন প্রতিপক্ষের জন্য কৌশল সাজানো এবং সব কাজ করে প্রতি ম্যাচে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাঠে নামা। আমাদের মনোযোগের কেন্দ্রে এগুলোই।’
এশিয়াজয়ী মাহফুজুর-শিবলিরা ২০২০ সালের পুনরাবৃত্তি করতে পারেন, সেই সামর্থ্য তাদের আছে, এমনই অভিমত স্টুয়ার্ট ল আর নির্বাচক হান্নানের। মাহফুজুরও ভালো কিছু করে দেখাতে আত্মবিশ্বাসী। প্রতিপক্ষ নিয়ে অত না ভেবে নিজেদের সামর্থ্যইে আস্থা রাখছেন এই তরুণ।
সময়ের আলো/জেডআই