নারী ক্রিকেটে ২০২৩ সালটা দারুণ কাটিয়েছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে ভারত এবং পাকিস্তানকে হারানোর পর দক্ষিণ আফ্রিকায়ও বিজয়কেতন উড়িয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। টাইগ্রেসদের এমন সাফল্যে বড় ভূমিকা ছিল মারুফা আক্তারের। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে অভিষেকের পর অল্প দিনেই টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডেতে অপরিহার্য হয়ে উঠা এই পেসার স্থান করে নিয়েছেন আইসিসির বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটারের সংক্ষিপ্ত তালিকায়।
বয়সভিত্তিক দলে আলো ছড়িয়ে জাতীয় দলে জায়গা করে নেন মারুফা। ডানহাতি এই পেসার ছিলেন ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই ২৩ রান খরচায় নেন ৩ উইকেট। আসরটিতে সবমিলে ৪ উইকেট নেন মারুফা। মিতব্যয়ী বোলিংয়ে নজর কাড়েন সবার। জুলাইয়ে ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও আগুন ঝরান তিনি। ১৯ বছর বয়সি এই পেসার প্রথম ম্যাচেই ২৯ রানে নেন ৪ উইকেট, দলের ঐতিহাসিক জয়ে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তার বোলিং নিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন ভারতের তারকা ব্যাটার স্মৃতি মান্ধানাও।
সিরিজনির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচেও পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল ছিলেন মারুফা। নেন দুই উইকেট। তার দুর্দান্ত বোলিংয়েই ম্যাচটা টাই করে বাংলাদেশ। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিল ৩ রান, প্রথম দুই বলে ২ রান খরচ করলেও তৃতীয় বলে উইকেট তুলে অলআউট করে দেন অতিথিদের। বছরের শেষ দিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজেও নেন ৩ উইকেট। সবমিলে ২০২৩ সালে ৯ ওয়ানডে খেলে ১০ উইকেট নেন মারুফা। গেল বছর ১৪ টি-টোয়েন্টিতে তার শিকার সংখ্যাও ১০।
এমন নজরকাড়া পারফরম্যান্স দিয়েই আইসিসির বর্ষসেরা উদীয়মানের খেতাব জয়ের দৌড়ে মারুফা। এখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন অস্ট্রেলিয়ার ফিবি লিচফিল্ড, ইংল্যান্ডের লরেন বেল এবং স্কটল্যান্ডের ডার্সি কার্টার। এই চারজনের মধ্যে সেরা নির্বাচিত হবেন গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের প্যানেল, আইসিসি ভোটিং একাডেমি এবং সমর্থকদের ভোটে। আইসিসির ওয়েবসাইটে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন সমর্থকরা। ভোটে যদি জিতে যান মারুফা, তা হলে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে খেতাবটা জিতবেন তিনি। ২০১৬ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এটি জিতেছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান।
সময়ের আলো/আরএস/