রাওয়ালপিন্ডিতে ইতিহাস গড়েছে টিম বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম টেস্টে হারিয়ে দিয়েছে পাকিস্তানকে। এতে স্বাভাবিকভাবেই বাহবা পাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। ১৯১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলা মুশফিকুর রহিম, হাফসেঞ্চুরি হাঁকানো সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, লিটন দাসদের নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। ব্যাট-বলে সমানতালে আলো ছড়ানো মেহেদী হাসান মিরাজও থাকছেন আলোচনায়। কিন্তু নেপথ্যে থেকে যারা এই সাফল্য পেতে কাজ করেছেন, কোচিং স্টাফের সেই সদস্যদের নিয়ে কোনো আলোচনা নেই।
সোমবার বিষয়টি সামনে এনেছেন খ্যাতনামা কোচ, ক্রিকেট বিশ্লেষক এবং বিসিবি পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিম। তার সাফ কথা, আড়ালের কারিগররাও কৃতিত্বের দাবিদার। আড়ালের কারিগর বলতে তিনি কেবল জাতীয় দলের কোচিং প্যানেলকে বোঝাননি। এর বাইরে থেকে যারা কাজ করছেন, তাদের বুঝিয়েছেন।
মিজানুর রহমান বাবুল, সোহেল ইসলাম, তারেক আজিজের কথাই ধরুন। বাংলা টাইগার্স দল নিয়ে কাজ করেছেন তারা। টেস্ট দলের নিয়মিত মুখ এবং দলের আশপাশে থাকা ক্রিকেটারদের অনুশীলনে রাখতেই বাংলা টাইগার্স প্রোগ্রাম চালু করে বিসিবি। সেই ক্যাম্পে অভিজ্ঞ মুশফিক-মুমিনুলরা যেমন ছিলেন, ছিলেন নাহিদ রানা, খালেদ আহমেদরাও।
জাতীয় দল যখন সীমিত ওভারের ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ত ছিল, সোহেল-বাবুলরা তখন টেস্ট দলের ক্রিকেটারদের প্রস্তুত করেছেন। এর বড় প্রভাব দেখা গেছে রাওয়ালপিন্ডিতে, মুশফিক-মুমিনুলদের পারফরম্যান্সে। ম্যাচসেরা হয়ে মুশফিক যেমন স্থানীয় কোচদের কৃতিত্ব দিয়েছেন। এমন কৃতিত্ব সবদিক থেকেই পাওয়ার দাবিদার তার, ফাহিম সেটাই মনে করিয়ে দিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এদিন তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, এখানে মিডিয়ারও দায় আছে। মিডিয়া কখনোই সেটা (কোচদের অবদান) উল্লেখ করে না। হয়তো আমরাও করি না। আমরা বলতে, বোর্ড থেকে সেটা অ্যাপ্রিসিয়েট করি না। মিডিয়াও সেটা হাইলাইট করে না যে আমাদের স্থানীয় কোচদের অবদান কোথায় কতটুকু আছে।’
ফাহিম আরও বলেছেন, ‘যার যতটুকু অবদান, সেটা যেন উঠে আসে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটা দল; এটা কিন্তু বিশাল এক কর্মযজ্ঞ। এখানে অনেক কাজ আছে। প্রত্যেকটা কাজ যদি সুষ্ঠুভাবে করতে পারি তা হলে আমাদের ভালো করার সম্ভাবনা বাড়বে। এ জন্য যারা ভালো কাজ করবে প্রত্যেককে অ্যাপ্রিসিয়েট করতে হবে। তারা যে লম্বা সময় ধরে কাজ করেছে, এটা প্রভাব তো অবশ্যই আছে।’
জাতীয় দলের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে নিয়েও কথা বলেছেন ফাহিম, ‘যেভাবে দলটাকে খেলতে দেখলাম তাতে মনে হয়, ড্রেসিংরুম ভালো অবস্থায় আছে। ড্রেসিংরুম ভালো অবস্থায় থাকার জন্য কোচের কিছু ভূমিকা থাকতে হয়। এই কৃতিত্বটা ওকে (হাথুরুসিংহে) দিতে হবে নিশ্চিতভাবেই। তবে একটা কোচকে মূল্যায়ন করতে হবে লম্বা সময় ধরে তার যেই কাজ, সেই কাজের ভিত্তিতে।’
সময়ের আলো/জিকে