চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫ নিয়ে এখনও জলঘোলা চলছে। পাকিস্তানে গিয়ে খেলবে না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছে ভারত। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) জানানো হয় এশিয়া কাপের মতো ‘হাইব্রিড’ মডেলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজনের।
দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড সমঝোতায় না এলে গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আরও কিছু দিন সময় বেঁধে দেয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে। এক সপ্তাহ কেটে গেলেও সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। বৃহস্পতিবার ফের বৈঠকে বসার কথা ছিল আইসিসির সঙ্গে ক্রিকেট বোর্ডগুলোর। কিন্তু সেটা পিছিয়ে দেওয়া হয় আরেক দফা। আগামী শনিবার সেই বৈঠক হতে পারে বলে জানা গেছে। ভারতের গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে পরের বৈঠকে হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
জানা গেছে এশিয়া কাপের মতো পাকিস্তানের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হবে ম্যাচগুলো। বিশেষ করে ভারতের ম্যাচগুলো হবে আরব আমিরাতে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার।
যদিও এর জন্য কয়েকটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে পাকিস্তান। পিসিবি জানিয়েছে হাইব্রিড মডেলে যদি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজন হয় তা হলে ২০৩১ সাল পর্যন্ত যতগুলো আসর ভারতে হবে তার প্রত্যেকটি যেন হাইব্রিড মডেলে হয়।
২০২৫ সালে নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের আয়োজক ভারত। ২০২৬ সালে ভারত এবং শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে আয়োজন করবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ২০২৯ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজক ভারত। আর ২০৩১ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজন করবে ভারত।
পরিস্থিতিতে বিসিসিআই এবং পিসিবি দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড়। নতুন করে কোনো পক্ষই ছাড় দিতে চাচ্ছে না কোনোভাবে। পিসিবি ও বিসিসিআই ধরেই নিয়েছে এটি দুই দেশের সম্মান বাঁচানোর লড়াই। বিষয়টি এখন ক্ষমতা প্রদর্শনের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। পরস্পরবিরোধী অবস্থানের প্রেক্ষিতে ঝুলে রয়েছে আগামী বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ভাগ্য।
শেষ পর্যন্ত যদি হাইব্রিড মডেলেই আয়োজন হয় সে ক্ষেত্রে মোট ১৫টি ম্যাচের ১০টি হবে পাকিস্তানে। বাকি পাঁচটি ম্যাচ হবে আরব আমিরাতে। সেই ম্যাচগুলোর মধ্যে ভারতের গ্রুপপর্বের তিনটি, একটি সেমিফাইনাল ও ফাইনাল রয়েছে।
সূচি অনুযায়ী আগামী বছর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে শুরু হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসর। সময় দুই মাসের একটু বেশি বাকি থাকলেও দুই দেশের রেষারেষিতে এখনও সূচি প্রকাশ করতে পারেনি আইসিসি। এই আসরকে ঘিরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড স্টেডিয়াম সংস্কার থেকে শুরু করে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে হাত দিয়েছে।
২০০৯ সালে পাকিস্তানের লাহোরে শ্রীলঙ্কা দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর লম্বা সময় কোনো দল খেলতে যায়নি দেশটিতে। এরপর দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজন সচল হলেও এবারই প্রথম আইসিসির আসর হওয়ার কথা পাকিস্তানে। শেষ পর্যন্ত ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বে আইসিসি কী সিদ্ধান্ত দেয় সেটিই দেখার বিষয়।
সময়ের আলো/আরএস/