সাবেক ওসিকে মারধরের ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বহিষ্কার

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সারাদেশ

চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নেজাম উদ্দিনকে মারধরের ঘটনায় চকবাজার থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে বহিষ্কার

2025-01-07T20:20:33+00:00
2025-01-07T20:25:37+00:00
 
  শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬,
২০ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
আরেক ওসি এসআইয়ের নির্যাতন মামলা পুনঃতদন্তের নির্দেশ
সাবেক ওসিকে মারধরের ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বহিষ্কার
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৫, ৮:২০ পিএম  আপডেট: ০৭.০১.২০২৫ ৮:২৫ পিএম
সাবেক ওসিকে মারধরের ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বহিষ্কার
চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নেজাম উদ্দিনকে মারধরের ঘটনায় চকবাজার থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক এম আবু বক্কর রাজুর সই করা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বহিষ্কৃত শহীদুল ইসলাম শহীদ চকবাজার ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব।

চট্টগ্রাম নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু বলেন, সাবেক ওসি নেজাম উদ্দিকে মারধর ও লাঞ্ছিত করা দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজ। এ ধরনের কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে চকবাজার থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শহীদুল ইসলাম শহীদকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান ও সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গত সোমবার দুপুরে নগরের পাঁচলাইশ থানার পেছনে পাসপোর্ট অফিসের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন নেজাম উদ্দীন। তাকে দেখা মাত্র চকবাজার থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শহিদুল ইসলাম শহীদ এবং দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নুর হোসেনসহ নেতাকর্মীরা ছুটে আসেন। এ সময় নেজাম উদ্দিনকে কলার ধরে টেনেহিঁচড়ে পরনের শার্ট ছিঁড়ে ফেলে বিক্ষুব্ধরা। তাকে মারধরও করা হয়। তাকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত না করতে নেজাম উদ্দিন বার বার অনুরোধ করলেও শুনেননি কর্মীরা। পরে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। 

তাকে মারধরের ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়। ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন গণমাধ্যমকর্মীরা। এসময় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শহীদুল ইসলাম শহীদ ফেসবুক লাইভ করেন পুরো ঘটনা। ফেসবুকে ‘সবাই পাঁচলাইশ থানার সামনে আসেন, ওসি নেজামকে ধরছি’ লিখে একটি স্ট্যাটাসও দেন। এরপর পাঁচলাইশ থানার সামনে জড়ো হন শতাধিক বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা ওসি নেজামকে মারধর করেন। ছিড়ে ফেলেন শার্ট। 

ওই সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে ওসি নেজামের ভয়াবহ নির্যাতনের নানা অভিযোগ তুলে ধরেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কর্মীরা। অনেকে নির্যাতনের ক্ষত চিহ্ন দেখান সাংবাদিকদের। তার বিরুদ্ধে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেফতারের দাবি জানান কর্মীরা।

এদিকে পুলিশ জানায়, মারধরে আহত ওসি নেজাম উদ্দিন বর্তমানে নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি মারধরে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন কিনা কেউ নিশ্চিত করেনি।

আরেক ওসির বিরুদ্ধে মামলা তদন্তের নির্দেশ

চট্টগ্রামে পুলিশ হেফাজতে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগে পাঁচলাইশ থানার সাবেক ওসি নাজিম উদ্দিন মজুমদার ও একই থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল আজিজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ফের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) সকালে অতিরিক্ত চিফ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরকার হাসান শাহরিয়ারের আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

এ ব্যাপারে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন, মামলাটির ব্যাপারে সিআইডি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিলেও আমরা নারাজি দিয়েছিলাম। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আমাদের আবেদন খারিজ হয়ে গেলে মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন করি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর আদালত আবেদন শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। আদালত মঙ্গলবার শুনানি শেষে সাবেক ওসি নাজিম উদ্দিন মজুমদার এবং এসআই আজিজের বিরুদ্ধে করা মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তার মাধ্যমে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে ১০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ডায়ালাইসিস ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে রোগী ও তাদের স্বজনরা আন্দোলনে নামে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা সংঘর্ষ হয়। এসময় পাঁচলাইশ থানার তৎকালীন ওসি নাজিম উদ্দিন মজুমদার নিজের মুঠোফোন বের করে বিক্ষোভকারীদের ভিডিও ধারণ করেন এবং তাদের পরে দেখে নেবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন। এরপর একযোগে সবাই ওসির বিরুদ্ধে হইচই শুরু করেন এবং ভিডিও ডিলিট করার দাবি জানান। এক পর্যায়ে মোস্তাকিম নামে এক তরুণকে পেটাতে পেটাতে চমেকের প্রধান ফটকের বিপরীতে এপিক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেও তাকে আরেক দফা মারধর করা হয়। কিছুক্ষণ পর এপিকের সামনে থেকে আরও একজনকে ওসি ধরে ভেতরে নিয়ে যান। পাশাপাশি অন্য পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে দেন। পরে মোস্তাকিমকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তাকে থানায় এনে বেধড়ক পেটানো হয়। মোস্তাকিম জামিনে মুক্ত হয়ে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. বেগম জেবুননেছার আদালতে পিটিশন মামলা করেন। সেই মামলাটি আদালত পুনঃতদেন্তর আদেশ দিয়েছেন।

সময়ের আলো/আরআই


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: