অনিয়ন্ত্রিত নলকূপে নামছে পানির স্তর

এম. মোফাজ্জেল, বরিশাল

সারাদেশ

সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার ২৩ বছর পার হলেও বরিশালে এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি ওয়াসা। পানির বিল ও প্রভাব হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায় ওয়াসা

2025-01-27T04:04:58+00:00
2025-01-27T04:04:58+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
অনিয়ন্ত্রিত নলকূপে নামছে পানির স্তর
এম. মোফাজ্জেল, বরিশাল
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৫, ৪:০৪ এএম 
অনিয়ন্ত্রিত নলকূপে নামছে পানির স্তর

সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার ২৩ বছর পার হলেও বরিশালে এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি ওয়াসা। পানির বিল ও প্রভাব হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায় ওয়াসা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে বরিশাল সিটি কপোরেশন (বিসিসি)। এদিকে পানির সংকট মোকাবিলায় ইচ্ছেমতো সাবমারসিবল স্থাপন করায় তার প্রভাব পড়েছে ভূগর্ভস্থ পানিতে।

বরিশাল জেলা থেকে বিভাগে উন্নীত হয় ১৯৯৩ সালে। বিভাগীয় এই শহরটি সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয় ২০০২ সালে। বিসিসির প্রতিষ্ঠা লগ্নে এই নগরীর জনসংখ্যা ছিল আড়াই লাখ, আর এখন জনসংখ্যা ৬ লাখ। পরিকল্পনাবিদদের মতে, মাত্র ৬৮ বর্গকিলোমিটারের এই নগরীতে এত বিশাল জনগোষ্ঠীর পানি চাহিদা পূরণে ওয়াসার বিকল্প নেই। বরিশাল উন্নয়ন অধিদফতরের পরিকল্পনাবিদ মো. বায়জিদ জানান, ২০০২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বরিশাল নগরীর জনসংখ্যা বেড়েছে সাড়ে ৩ লাখ। এত বিপুল জনগোষ্ঠীর পানির চাহিদা পূরণে একটা ভিন্ন প্রতিষ্ঠন থাকা দরকার। সে ক্ষেত্রে ওয়াসা একটা সমাধান হতে পারে। তারা পানির সঙ্গে পয়োনিষ্কাশনও দেখবে। এ ছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির বিপরীতে ওয়াসা সারফেস ওয়াটারের ব্যবহার করবে।

বরিশাল জনস্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, পানির সংকট মোকাবিলায় সাবমারসিবল টিউবওয়েল স্থাপন করায় নগরীতে পানির স্তর গত দশ বছরে দ্বিগুণেরও বেশি নিচে নেমে গেছে। ইতিমধ্যে নগরীর জাগুয়া, কাশিপুর, চরবাড়িয়া, রায়পাশা, চরকাউয়া ইউনিয়ন এলাকায় পানির স্তর ১৫ থেকে ৪০ ফুট নিচে নেমে গেছে। এতে শঙ্কা প্রকাশ করে বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্ট ল’ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেলা)।
বেলার সমন্বয়কারী লিংকন গায়েন বলেন, বরিশাল নগরীতে ১৫ ফুটের বিপরীতে এখন ৪০ ফুটেরও নিচে পানির স্তর পাওয়া যাচ্ছে। এখানে প্রায় ৪ হাজার টিউবওয়েল ব্যবহার করা হচ্ছে। কেননা বিসিসি নগরীর শতকরা ৫৪ ভাগ এলাকায় পানি দিতে পারছে না। এ অবস্থায় ওয়াসা এখানে বড় প্রয়োজন। তা না হলে আমাদের ভূগর্ভস্থ পানি আর থাকবে না। এমন হলে তা আমাদের পরিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।

বিসিসির পানি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুক জানান, ২০১৮ সাল থেকে বরিশাল নগরীতে ওয়াসা গঠনের চিঠি আসা শুরু হয়। ২০২২ সাল পর্যন্ত স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এমন চিঠি এসেছে মোট ছয়বার। তারা বরিশালের পানির চাহিদা ও সরবরাহ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছিল। কিন্তু কোনোবারই আমারা কোনো তথ্য দেইনি। এমনকি ২০২২ সালে এখানে ওয়াসা প্রতিষ্ঠায় নেতিবাচক জবাব দিয়ে উত্তর পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয় বরিশালে ওয়াসা গঠনের প্রয়োজন নেই।

বিসিসির এমন মনোভাবের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদ, সাধারণ মানুষ এমনকি বিসিসির কর্মীরা। তাদের মতে, পানির বিল বাবদ বছরে ১০ কোটি টাকার আয়কে বিসিসি বড় করে দেখেছে, অথচ জনসেবা এ ক্ষেত্রে ছিল উপেক্ষিত। পানি বিভাগ বিসিসির হাতছাড়া হলে তাদের ক্ষমতাও খর্ব হবে বলে তারা এটা করেনি। একজন ভুক্তভোগী জানান, বরিশাল বিভাগের এই ৩২ বছর বয়সে পাঁচজন মেয়র দায়িত্ব পালন করেছেন। এদের দায়িত্ব ছিল জনসেবা নিশ্চিত করা। এখন পাম্পেও পানি উঠছে না। এ অবস্থায় জনগণের দাবি ওয়াসা প্রতিষ্ঠার কেউ উদ্যোগ নেয়নি। কারণ হলো ওদের আয় কমে যাবে। অন্য এক বাসিন্দা বলেন, বিসিসি তাদের ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক লাভের বিপক্ষে কখনোই অবস্থান নেয়নি। ওয়াসার জন্য আমরা অনেক আন্দোলন করেছি।

বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেছেন, বরিশালে ওয়াসা দরকার। সবশেষ সিলেটেও ওয়াসা হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে আমাদের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। এটা আমাদের শহরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ওয়াসা থাকলে অনেক বড় বরাদ্দও আসে। স্থানীয় সরকার বিভাগে ইতিমধ্যেই আমরা কথা বলেছি। তারা আমাদের কাছ থেকে ওয়াসা প্রতিষ্ঠার প্রকল্প চেয়েছে, এটি দিলেই কার্যক্রম শুরু করা যাবে।

সময়ের আলো/আরএস/


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: