লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে আগাম নির্বাচনী হাওয়া বইছে। প্রবীণ রাজনীতিক, ঢাকসুর সাবেক ভিপি, স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলক ও সাবেক মন্ত্রী আ স ম আবদুর রবের আসন বলে খ্যাতি রয়েছে। এ আসন থেকেই তিনি ১৯৮৬, ১৯৮৮ ও ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। দায়িত্ব পালন করেছেন গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়েরও।
সম্প্রতিক সময়ে বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে স্পেস প্রদান মর্মে পাঠানো চিঠি ঘিরে তৈরি হয় নতুন আমেজ। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাস লক্ষ করা গেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আবারও এই জাতীয় নেতাকে পেতে যাচ্ছেন এমন খবরে রামগতি ও কমলনগরের সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা গেছে উৎসাহ উদ্দীপনা। জেএসডি ও বিএনপির তৃণমুল কর্মীদের মাঝে দেখা গেছে আনন্দ উল্লাস।
একসময়ের ‘জনপ্রিয়’ এ দলের নেতারা সংগঠন গোছাতে এখন কাজ করছেন। রামগতি-কমলনগরে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি এখন অনেকটা শক্তিশালী। সাথে রয়েছে বিএনপির ভোট ব্যাংক। জেএসডি ও বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হলে এ আসনটি আসম আব্দুর রবের জন্য অনেকটা নিশ্চিত বলে মনে করেন দল দুটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
এতে করে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া কর্মী-সমর্থকরা ‘জাগ্রত’ হতে শুরু করেছেন। যেটির প্রতিফলন দেখা যায় দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে। জেএসডির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রামগতি-কমলনগরে হাজার হাজার জনতার ঢল নেমে আসে। দীর্ঘদিন পর এ আসনে আসম আব্দুর রবের মত একজন জাতীয় নেতাকে পেয়ে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।
স্থানীয় চরকাদিরা ইউনিয়ন জেএসডির সহসভাপতি মোখলেছুর রহমান ধনু বলেন, দলটির নেতাকর্মীরা এখন আ স ম আবদুর রবকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে ঐক্যবদ্ধ। তার আমলের ভুলুয়া নদী খননসহ নানা উন্নয়ন অবকাঠামো নিয়ে মাঠপর্যায়ের প্রবীণ লোকদের মধ্যে ইতিবাচক বলাবলি চলছে। বিএনপির সমর্থনে জোটবদ্ধ প্রার্থী হলে জাতীয় এ বীরের জয়লাভ সুনিশ্চিত বলে মনে করছেন তিনি।
জাতীয় যুবপরিষদ কমলনগর উপজেলার যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ এহসান রিয়াজ বলেন, এ আসন থেকে আ স ম আবদুর রব এককভাবে তিনবার এমপি নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হয়ে তিনি মন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতা হন। মেঘনা নদীর ভাঙন রোধে ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেন তিনি। এলাকায় বিদ্যুতায়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, নদীর বাঁধ, কলেজ সরকারিকরণসহ স্থানীয় উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন তিনি।
কমলনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মোশারেফ হোসেন খোকন ও রামগতি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মুনীর চৌধুরী শামীম জানান, রাজনৈতিক দলের একজন কর্মীর দায়িত্ব হচ্ছে, দল যে সিদ্ধান্ত নেবে সেই অনুযায়ী কাজ করা। এখন দল আ স ম আব্দুর রবের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে তা বৃহৎ স্বার্থে দিয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবকিছু বুঝেই এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। সুতরাং দলের নিবেদিত কর্মী হিসেবে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য করার সুযোগ তাদের নেই।
জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রবকে তার নির্বাচনী এলাকা লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার জন্য বিএনপির কেন্দ্র থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর স্বাক্ষরিত ওই চিঠিটি লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব বরাবর প্রেরণ করা হয়।
লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবু বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, কেন্দ্রের নির্দেশনাটি ইতোমধ্যে স্থানীয় নেতাকর্মীদের অবগত করা হয়েছে। সবাইকে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে।