২৯ বছর ধরে চারদেয়ালের জীবন

মো. আবদুল মালেক রানীনগর

সারাদেশ

বাবা-মা শখ করে নাম রেখেছিল আকাশ। পুরো নাম আকাশ কুমার প্রামাণিক। জন্ম ১৯৯৬ সালে। জন্মের পর থেকেই বাবা-মা বুঝতে পারেন

2025-02-11T09:50:24+00:00
2025-02-11T09:50:24+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
২৯ বছর ধরে চারদেয়ালের জীবন
মো. আবদুল মালেক রানীনগর
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৯:৫০ এএম 
২৯ বছর ধরে চারদেয়ালের জীবন
বাবা-মা শখ করে নাম রেখেছিল আকাশ। পুরো নাম আকাশ কুমার প্রামাণিক। জন্ম ১৯৯৬ সালে। জন্মের পর থেকেই বাবা-মা বুঝতে পারেন ছেলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু। নিজেদের সাধ্যের ভেতরে সবটুকু উজাড় করে দিয়ে ছেলের চিকিৎসা করানোর চেষ্টা করে গেছেন তারা। নিম্নবিত্ত পরিবারটি এক পর্যায়ে চিকিৎসা থামিয়ে দিতে বাধ্য হয়। সেই থেকে আকাশের জীবনের ২৯ বছর কেটে গেছে বাড়ির এক পরিত্যক্ত ঘরে। ওই ঘরটিই আকাশের পৃথিবী। সেখানেই প্রস্রাব-পায়খানাসহ খাবার গ্রহণ সবই করতে হয়। ঘরের একটি ছোট্ট জানালা দিয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। ওইটুকু স্থানেই আকাশের মুখোমুখি।

এ ঘটনা নওগাঁর রানীনগর উপজেলার। কাশিমপুর স্কুলপাড়ায় দুজন প্রতিবন্ধীর জীবন কাটছে চারদেয়ালের মাঝে। শুধু প্রতিবন্ধী ভাতা ছাড়া কিছুই জোটেনি তাদের ভাগ্যে। গরিব পরিবারের সন্তান হওয়ায় অর্থাভাবে সন্তানের জন্য উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থাও করাতে পারেনি পরিবার। ফলে দুজন প্রতিবন্ধীর জীবন এখন চারদেয়ালের মাঝে বন্দি।

আকাশের মা অলোকা রানী জানান, উন্নত চিকিৎসা পেলে হয়তোবা আকাশ সুস্থ হয়ে উঠত। কিন্তু আমরা গরিব মানুষ। পরিবারের অন্য সদস্যদের পেটের ভাত জোটাব নাকি আকাশের উন্নত চিকিৎসা করব। সরকারের কাছ থেকে শুধু প্রতিবন্ধী ভাতাটুকুই পায় আকাশ। এ ছাড়া শীতের কম্বল কিংবা অন্য কোনো সহায়তাই আমার ছেলের ভাগ্যে জোটে না। যদি আকাশের উন্নত চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা পেতাম তা হলে ছেলের উন্নত চিকিৎসা করতাম।

আকাশের বাড়ির পশ্চিম দিকে আরেক বিশেষ চাহিদাস¤পন্ন দীপনম সূত্র (১৯)। সেও জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। দীপনমের বাবা একজন ভ্যানচালক। দীপনম সূত্রকে হুইলচেয়ার করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যেতে হয়। মুখে বুলি নেই তাই দীপ শুধু চেয়ে চেয়ে চারপাশ দেখে। উন্নত চিকিৎসা পেলে দীপও সুস্থ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করে দীপের পরিবার।

দীপনম সূত্রের মা চন্দনা নমসূত্র জানান, দীপ প্রথম সন্তান। দীপ প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেওয়ার পর গরিব মানুষ হিসেবে চেষ্টা করেছি চিকিৎসা করাতে। কিন্তু ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ আমাদের পক্ষে জোগানো সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তাই উন্নত চিকিৎসার আশা ছেড়ে দিয়েছি। শুধু প্রতিবন্ধী ভাতাটুকু পায় দীপ। সরকারের অন্য কোনো সহযোগিতা এখনও দীপের ভাগ্যে জোটেনি। সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পেলে ছেলের উন্নত চিকিৎসা করানোর চেষ্টা করতাম। উন্নত চিকিৎসা পেলে হয়তো দীপ কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠত।

এ ব্যাপারে রানীনগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম কচি বলেন, আকাশ ও দীপ দুজনেই প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে। আগামীতে উন্নত চিকিৎসার কোনো সুযোগ-সুবিধা এলে, তাদের জন্য সেই সুযোগ প্রদান করার চেষ্টা করব। আমাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার জন্য অনুরোধ করেছি তাদের। এতে নানা সময়ে আসা বিভিন্ন সুবিধা ওদের দেওয়ার চেষ্টা করব।


সময়ের আলো/এএ/


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: