৪২০ সিসি ক্যামেরার সবই অচল

এম. মোফাজ্জেল বরিশাল

সারাদেশ

কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের আড়াই কোটিরও বেশি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা সিসি ক্যামেরাগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে। নগরবাসীর নিরাপত্তা

2025-02-16T08:12:31+00:00
2025-02-16T08:12:31+00:00
 
  শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬,
২০ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
৪২০ সিসি ক্যামেরার সবই অচল
বরিশাল সিটি করপোরেশনের উদাসীনতা
এম. মোফাজ্জেল বরিশাল
প্রকাশ: রোববার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৮:১২ এএম 
৪২০ সিসি ক্যামেরার সবই অচল
কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের আড়াই কোটিরও বেশি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা সিসি ক্যামেরাগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে। নগরবাসীর নিরাপত্তা দিতে যে ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয়েছিল তার সবই এখন পুরোপুরি অচল। চুরি হয়ে গেছে ৮০টি ক্যামেরাসহ ৪২০টি ক্যামেরার কেবল। বিসিসির উদাসীনতা ও অবহেলাকে এর জন্য দায়ী করছেন স্থানীয়রা। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, বর্তমানে একটি ক্যামেরাও চালু নেই। আমরা একটি কমিটি গঠন করে পুরো বিষয়টি দেখব। যন্ত্রপাতি যা আছে সেগুলো নতুন করে কাজ করবে কি না তাও দেখা হবে। অনিয়ম ও ঘাটতির জন্য এগুলোর বেহাল দশা হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, এই ক্যামেরাগুলো নগরবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে স্থাপন করা হয়েছিল। বিভিন্ন অপরাধ ঘটার পর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তার আইনি সমাধান করা ছিল উদ্দেশ্য। তখনকার পুলিশ প্রশাসনও এগুলো তাদের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু পরিষদ পরিবর্তনের পর তা আর হয়নি। এগুলো চলমান রাখতে যে সাপোর্ট দরকার ছিল তাও পরবর্তী সময়ে দেওয়া হয়নি। এখন এগুলোকে সচল করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বিসিসির সমন্বয় দরকার হবে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অহিদ মুরাদ বলেন, ২০১৭ সালে এ ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয়। একজন সাবেক মেয়র তার সময়ে সব বুথের সরঞ্জাম খুলে নিজের বাসায় নিয়ে যান। বিদায়ের সময় অবশ্য সেগুলো জমা দিয়ে যান। মূলত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো অর্থের বরাদ্দ না থাকায় আমরা সিসি ক্যামেরাগুলো সচল রাখতে পারিনি। ৮০টি ক্যামেরাসহ ৪২০টি ক্যামেরার সব কেবল চুরি হয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে বরিশাল সিটি করপোরেশনের অধীনে চালু করা হয় ৪২০টি সিসি ক্যামেরা। কোনোরকমে জোড়াতালি দিয়ে এর কার্যক্রম সচল ছিল ২০১৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত। বর্তমানে রাস্তার পাশে বিভিন্ন ল্যাম্পপোস্টে ঝুলছে অকার্যকর ক্যামেরাগুলো। অধিকাংশ কেবলই চুরি হয়ে গেছে। এ ছাড়া ৮টি সিসি বুথের সবকটিতে ঝুলছে তালা। চুরি হয়েছে ক্যামেরাসহ সব ক্যামেরার কেবল। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কর্তৃপক্ষ বলছে, অর্থের অভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় এমন অবস্থা হয়েছে। মূলত বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে ২০১৫ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বরিশাল নগরীর ৫৮টি স্পটে ৪২০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। নগর ভবন ও সম্প্রসারিত নগর ভবনসহ নগরীজুড়ে এ ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হলে এই দুই ভবনের ৭০টি ক্যামেরা ছাড়া বাকি ৩৫০টি ক্যামেরা কয়েক দিনের মধ্যেই বিকল হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে বিসিসির দুটি ভবনে হামলার ঘটনায় বাকিগুলোও অচল হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষের মতে, এগুলো নগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ছিল সহায়ক শক্তি। এগুলো পুনরায় চালু করতে দরকার সম্মিলিত উদ্যোগ। এদিকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ২০২১ সালের ২৭ জুন থেকে এখন পর্যন্ত বরিশাল মেট্রোপলিটান পুলিশ কর্তৃপক্ষ মহানগরীতে স্থাপন করেছে প্রায় ৪৫০ সিসি ক্যামেরা। কিন্তু যেসব স্থানে বিসিসির ক্যামেরা রয়েছে সেখানে স্থাপন করা হয়নি পুলিশের ক্যামেরা। পুলিশের বক্তব্য হলো, বিসিসির কেবল থেকে লিংক পেলে এসব এলাকাও কঠিন পুলিশ মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে পারত। কিন্তু বিসিসি তাদের প্রস্তাবে আগ্রহ দেখায়নি।

এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বিসিসির সিসি ক্যামেরা লিংক পেলে আমাদের জন্য আরও বেশি সুবিধা হতো। এ বিষয়ে বিসিসির সঙ্গে কথা বললে তারা আগ্রহ প্রকাশ করেনি। এ অবস্থায় আমাদের কিছুই করার নেই। তবে বিএমপির নিজস্ব সিসি ক্যামেরা নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। এগুলো ভালো কাজ করছে।

সামাজিক, রাজনৈতিক কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে নিরাপত্তার দলিল এসব সিসি ক্যামেরা সচলের দাবি সাধারণ নগরবাসীর। বিসিসির উদাসীনতাকে দায়ী করে তারা বলছেন, পুরো ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হোক। নগরীর সদর রোড এলাকার বাসিন্দা সঞ্জীব ঘোষ বলেন, বিসিসি শুধু নিতে জানে, দিতে জানে না। ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাও আমরা পাচ্ছি না। ক্যামেরাগুলো রক্ষায় আজ পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ তারা নেয়নি। ফলে সিটি এলাকায় অপরাধ বেড়েছে। সদর রোডের আরেক বাসিন্দা আবদুল হক বলেন, কেন ক্যামেরাগুলোর এমন হাল হলো নাগরিক হিসেবে তা জানার অধিকার আমাদের আছে। বিসিসির উচিত ছিল চুরির ঘটনা পুলিশকে লিখিত জানানো এবং প্রশাসনের মাধ্যমে এর সত্যতা উদঘাটন করা। কারণ আমাদের ট্যাক্সের টাকায় এগুলো কেনা হয়েছিল।


সময়ের আলো/এএ/


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: