সিরাজগঞ্জের তাড়াশে মাঠে মাঠে সরিষার বাম্পার ফলন ও আবাদ হয়েছে ভালো। দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকেরা মহাখুশি। যে জমিগুলোতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে সেগুলোতে বাম্পার ফলনের পিছনে পোকার আক্রমণ থেকে সরিষা রক্ষা করতে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আগেই বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল বলে কৃষকরা জানান।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে তাড়াশ উপজেলায় ১১হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছর অর্জিত হয়েছিল ১০ হাজার ৩শত ১২ হেক্টর। চলতি বছরে এ পর্যন্ত অর্জিত জমির পরিমাণ হলো ১০ হাজার ৩০৫ হেক্টর। এর মধ্যে বারি-১৪ জাতের সরিষা ৫ হাজার ৯৫২ হেক্টর, বারি-১৭, ২ হাজার ৬৫ হেক্টর ও স্থানীয় টরি-৭ জাতের ৩ হাজার ১শত হেক্টর জমিতে রোপণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই স্বল্প পরিসরে পাকা সরিষা তোলা শুরু করেছেন কৃষকরা।
তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের ধাপতেতুলিয়া গ্রামের কামাল হোসেন বলেন, তিনি ১৫ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। বিঘা প্রতি ৭থেকে ৮মণ হারে সরিষা হচ্ছে। প্রতিবিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করতে বীজ,সার, হালচাষসহ খরচ হয় প্রায় ৫/৬ হাজার টাকা করে। আর সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা বিঘা প্রতি লাভ হয়। তাছাড়া সরিষা আবাদী জমিতে ইরি-বোরো ধানে আবাদে খরচও খুব কম হয়। তাতে সামান্য পরিমাণ সার খরচ হওয়ায় এক সাথে কৃষকের লাভের অংশটা বেশি।
উপজেলার নওগাঁ হাটে নতুন সরিষা বিক্রি করতে আসা কামাল পাশা জানান, গত বছরের চেয়ে এবছর সরিষার দাম বেশি পেয়েছেন। মণ প্রতি ২৮শত টাকা থেকে ৩হাজার ২০০ টাকা করে বিক্রি করছেন। ফলন ভালো হওয়ায় ও দাম পেয়ে তিনি খুব খুশি। তাছাড়া কৃষি অফিসের লোকজন সব সময় তদারকি করার ফলে সরিষার কোন রকমের ক্ষতি হয়নি।
সরিষা ব্যবসায়ী মহসীন আলী বলেন, শুকনা সরিষার প্রতিমণ ৩ হাজার টাকা থেকে ৩হাজার ২শত টাকা করে ক্রয় করছেন। এছাড়া কাঁচা ভেজা সরিষা ২হাজার ৬শত থেকে ২হাজার ৮শত টাকা করে বেচা-বিক্রী হচ্ছে। তিনি আরো জানান, এ বছর সরিষার দাম অনেক বেশি।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রতিবিঘা জমিতে ৭/৮ মণ হারে সরিষা হচ্ছে। আর প্রকারভেদে প্রতিমণ সরিষার দাম বর্তমান বাজারে শুকনা সরিষার প্রতি মণ ৩ হাজার টাকা থেকে ৩হাজার ২শত টাকা এবং কাঁচা ভেজা সরিষা ২হাজার ৬শত থেকে ২হাজার ৮শত টাকা করে বেচা-বিক্রী হচ্ছে।
সময়ের আলো/এএ/