"আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত, বিএনপি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। আর যদি জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তালবাহানা করে পাহাড় ও সমতল সবখানেই সমানভাবে সুপ্ত আগ্নেয়গিরির মত বিস্ফোরিত হবে। তাই নির্বাচন নিয়ে তালবাহানা চলবে না।"
রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ২টার দিকে গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে উত্তরণের জন্য নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে বান্দরবানে রাজার মাঠে বিএনপি'র সমাবেশে প্রধান অতিথি বিএনপি'র জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম-মহা সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এ কথা বলেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাজ জাতীয় নির্বাচন সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবস্থা করা। কিন্তু সরকার তা না করে দেশ সংস্কারের নামে জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত করছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কোনো ধরনের স্থানীয় নির্বাচন হবে না। সমাবেশ থেকে স্পষ্টভাবে বলে দিতে চায়, আগামী ডিসেম্বর মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিতে হবে। তা না হলে বিএনপি রাজ পথে আছে, রাজ পথেই থাকবে।
সমাবেশে বিএনপি'র জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম-মহা সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল তার বক্তব্যে বলেন, আমরাই ম্রো, আমরাই মার্মা, আমরাই খুমী, আমরাই বম, আমরাই চাকমা, আমরাই বাঙ্গালী। তাহলে আমাদের একটাই পরিচয় আমরা সবাই বাংলাদেশী। দেশে যে শস্য উৎপাদিত হয় তা আমাদের সবার রক্ত ঘামের পরিশ্রমের ফসল। সেতা হতে পারে পাহাড়ে হতে পারে সমতলের। তাই আমরা এক হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার ১৬ বছর ধরে যে লুটপাট চালিয়েছে তা আর হতে দেওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, ২০১৪ এবং ১০১৮ সালের নির্বাচনের মত পুকুর চুরির খেলা এ দেশে আর হতে দেওয়া যাবে না। ১৬ টি বছর এমন কোনো অত্যাচার নাই যে হিটলার হাসিনা করে নাই। আর যদি ফ্যাসিস্ট হাসিনা চক্রান্ত করে আমার ভায়ের ও বোনের উপর একটা গুলি চলে তাদের হাত ভেঙে দেওয়ার হুশিয়ারিও দেন।
এসময় সমাবেশে বিএনপি'র জাতীয় নির্বাহী কমিটির (চট্টগ্রাম বিভাগ) সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, বান্দরবান জেলা বিএনপি'র নব-গঠিত কমিটির আহ্বায়ক সাচিংপ্রু জেরি, কমিটির সদস্য-সচিব জাবেদ রেজা, সদস্য ম্যামাচিং এবং জেলার সাত উপজেলার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ, বান্দরবান জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা দুটি অংশে বিভক্ত দীর্ঘদিন ধরেই। দুটি পক্ষই আলাদাভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছে। ১৯৯১ সাল থেকে কোন্দল চলে আসছে জেলা বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে। এর এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন ম্যামাচিং মারমা, অন্য পক্ষে সাচিংপ্রু জেরি। দুজনই জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং সম্পর্কে মামি-ভাগনে। দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিবাদ দূর করতে এর আগে একাধিকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন কেন্দ্রীয় নেতারা। প্রায় দীর্ঘ ২২ বছর পর গত রোববার রাতে দুই পক্ষের শীর্ষ নেতারা মিলিত হয়েছেন জেলা বিএনপির কার্যালয়ে। ঘোষণা দিয়েছেন একসঙ্গে কাজ করার। ২২ বছর পর ম্যামাচিং-সাচিংপ্রুর ঐক্যের সুরে জেলা বিএনপির সমাবেশে একই মঞ্চে তাদেরকে দেখা যায়।