রাজধানীর মালিবাগে বাস চাপায় পলাশ মোল্লা (৪৫) নামে মোটরসাইকেল আরোহী ও এলিফ্যান্ট রোডে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আব্দুল মান্নান (৬১) নামে দুই ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এই পৃথক সড়ক দুর্ঘটনা দুটি ঘটে। গুরুতর অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক দুজনকেই সন্ধ্যা ৭টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে সৈয়দ জুলফিকার ও মো. ফয়সাল নামে দুই পথচারী জানান, মালিবাগ-মগবাজার ফ্লাইওভারের মালিবাগ চৌধুরীপাড়া ঢাল দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিল মৃত পলাশ। এসময় ভিক্টর পরিবহনের একটি বাস মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেলসহ বাসের নিচে আটকে পড়েন তিনি। তখন পথচারীরা মিলে তাকে বাসের নিচ থেকে বের করে স্থানীয় কমিউনিটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি দেখে সেখান থেকে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয়রা বাসটি জব্দ করেছে এবং বাসের চালককে গণপিটুনি দিয়েছে।
মৃত পলাশ মোল্লার ভাতিজা রেজওয়ান শরীফ জানান, পলাশের বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া থানার চর-বল্লাহাটি গ্রামে। তার বাবার নাম আক্তার মোল্লা। ১ ছেলে ও ১ মেয়ের জনক তিনি। রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে থাকতেন। মতিঝিলে "বিনিময় মানি এক্সচেঞ্জ" নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার।
এদিকে এলিফ্যান্ট রোডে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত আব্দুল মান্নানের জামাতা রফিকুল ইসলাম জানান, তাদের বাড়ি গাইবান্ধার সদর উপজেলার পলাশপাড়া গ্রামে। থাকতেন রাজধানীর জিগাতলা তল্লাবাগ রোডে। এ্যালিফ্যান্ট রোডের বিএস ভবনে "পেন্টাগন টেইলার্স" নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি। তিন মাস আগে আব্দুল মান্নানের স্ত্রী নুরজাহান বেগম মারা গিয়েছেন। তাদের ১ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে।
মার্কেটের আরেক টেইলার্স ব্যবসায়ী সোয়েব হোসেন জিতু জানান, ইফতারের আগ মুহূর্তে তিনি মার্কেট থেকে বের হয়ে রাস্তার বিপরীত পাশে যাচ্ছিলেন ইফতার সামগ্রী আনতে। তখন দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয়। মোটরসাইকেলের সঙ্গে আটকে পড়ে প্রায় ১শ গজ দূর পর্যন্ত টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় তাকে। পরে মোটরসাইকেল চালকও ছিটকে পড়ে। পরে তাদের দুজনকেই উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়। তবে চিকিৎসক মান্নানকে মৃত ঘোষণা করেন। আর হাসপাতাল থেকে কাউকে কিছু না বলে চলে গিয়েছেন আহত ওই মোটরসাইকেল চালক। তার নাম পরিচয় জানা যায়নি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।