ভোলার মনপুরায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ১৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৩ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ মার্চ) রাতে ভোলার মনপুরায় এ ঘটনা ঘটে। মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসান কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, হাজির হাট উত্তর বাজার ও হাসপাতালে দুই দফা মারামারি হয়েছে। সংঘর্ষে জড়িতরা নাজিম উদ্দিন আলম ও নুরুল ইসলাম নয়ন গ্রুপের। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এ ঘটনায় কোনো গ্রুপ থানায় অভিযোগ করেনি।
জানা যায়, ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও ভোলা-৪ চার আসনের সাবেক সদস্য আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন আলম রাজনৈতিক সফরে মনপুরায় আসেন। তিনি অসহায় ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন। এদিন সন্ধ্যায় উপজেলা অডিটোরিয়ামে তার পূর্ব-নির্ধারিত কর্মীসভা ও ইফতার অনুষ্ঠান শেষে তিনি বিএনপির উপজেলা কার্যালয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর কেন্দ্রীয় যুবদল সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের সমর্থকরা একটি মিছিল বের করে। যার নেতৃত্ব দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদকের ছেলে মো. আপ্পান হাওলাদার।
স্লোগান দেওয়া নিয়ে মিছিলকারীদের সাথে নাজিম উদ্দিন আলমের সমর্থকদের উপজেলা যুবদলের সাবেক সম্পাদক লোকমান মেম্বারের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় নয়ন গ্রুপের হামলায় আলম গ্রুপের ৩ জন গুরুত্ব আহত হন। পরে নুরুল ইসলাম নয়ন সমর্থিত সংঘবদ্ধ নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে হাজীর হাট বাজার ও হাসপাতালে দুই দফা হামলা চালায়।
হামলায় গুরুতর আহত হন (আলম সমর্থক), আরাফাত রহমান কোকো পরিষদের সভাপতি মো. আব্দুর রহিম, স্বেচ্ছাসেবকদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, ছাত্রদল সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. দুলাল, ছাত্রদল নেতা মো. শাহিন আলম, আবুল কাশেম, সাবিত এবং সোহেল।
হাসপাতালে সংঘর্ষের সময় কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার পুলিশকে ফোন দেয়। পরে মনপুরা থানা পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যরা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নাজিম উদ্দিন আলমের সমর্থক লোকমান হোসেন মেম্বার বলেন, তিনি বিএনপির পার্টি অফিস থেকে বের হয়ে যাওয়ার পথে মান্নান হাওলাদারের ছেলে আপ্পান তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরে গাড়ি থেকে নামিয়ে তাকে ফের মারধর করা হয়। তাদের নেতাকর্মীরা বাধা দিতে আসলে তাদেরকেও বটি-দা ও লাঠিসোটা দিয়ে এলাপাতারি মারধর করে।
নয়ন গ্রুপের নেতা ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান হাওলাদার বলেন, ইফতার শেষে নাজিম উদ্দিন আলম চলে যাওয়ার পর তাদের (নয়ন গ্রুপের) সমর্থকরা মিছিল নিয়ে বাজারে যায়। এসময় আলম সমর্থকরা তাদের উপর হামলা চালায়। এতের তাদের ৬/৭ জন আহত হয়েছে। আহতদের নাম তাৎক্ষণিক জানাতে পারনেনি। তিনি আরও বলেন, নাজিম উদ্দিন আলমকে নিয়ে তাদের নেতাকর্মীরা কোন ধরনের উস্কানিমুলক বক্তব্য বা শ্লোগান দেয়নি তারপরও তাদের নেতাকর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা করা হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সামস উদ্দিন বাচ্চু চৌধুরী বলেন, বিএনপির সাবেক সম্পাদক মান্নান হাওলাদারের নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে। নাজিম উদ্দিন আলম যতবার মনপুরায় রাজনৈতিক সফরে এসেছেন ততবারই তারা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করেছে। তারা সত্যিকারার্থে আওয়ামীলীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছে।