৪ চিকিৎসক দিয়ে চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

সারাদেশ

চিকিৎসক সঙ্কটে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা। হাসপাতালে মোট চিকিৎসকের ২৬টি পদের মধ্যে

2025-03-12T11:59:00+00:00
2025-03-12T12:06:15+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
৪ চিকিৎসক দিয়ে চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১২ মার্চ, ২০২৫, ১১:৫৯ এএম  আপডেট: ১২.০৩.২০২৫ ১২:০৬ পিএম
রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক। ছবি: সময়ের আলো
চিকিৎসক সঙ্কটে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা। হাসপাতালে মোট চিকিৎসকের ২৬টি পদের মধ্যে ২২টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ৪ চিকিৎসকের মধ্যে তিনজন মেডিকেল অফিসার ও একজন সহকারী ডেন্টাল সার্জন রয়েছেন।

বর্তমানে ডেন্টাল চিকিৎসক বাদে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও অন্ত:বিভাগে চিকিৎসা দিচ্ছেন মাত্র তিনজন চিকিৎসক। এতে রোগীদের চাপে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে রোগী ও তাদের স্বজনরাও পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। বেশিরভাগ রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে বাধ্য হয়ে যাচ্ছেন জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল, নওগাঁ ও বগুড়া মেডিকেলসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে।

জানা যায়, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা ৩১ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ২০০৪ সালে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নত করা হয়। আক্কেলপুর উপজেলায় দুই লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র ভরসা এই হাসপাতালটি। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা থেকেও মানুষ এখানে আসেন সেবা নিতে। এখানে শুধুমাত্র বহির্বিভাগেই প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন ৪০০ থেকে ৫০০ মানুষ।

এ ছাড়া ৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি থাকে প্রায় দিগুণ রোগী। এ হাসপাতালে কাগজে কলমে ২৬ জন চিকিৎসক থাকার কথা। কিন্তু এর বিপরীতে রয়েছে মাত্র ৪ জন। জুনিয়র কনসালটেন্ট ১১টি পদ থাকলেও সবগুলো রয়েছে ফাঁকা।

মেডিকেল অফিসার/সহকারী সার্জন ১৪ জন থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র তিনজন। সহকারী ডেন্টাল সার্জন রয়েছেন একজন। স্ত্রীরোগ, সার্জারি বিশেষজ্ঞ ও অচেতনবিদ না থাকায় অস্ত্রোপচারের কক্ষ থাকলেও এখানে দীর্ঘদিন ধরে প্রসূতি অস্ত্রোপচারসহ সব ধরনের অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। এতে অস্ত্রোপচারের জন্য চিকিৎসা সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে জুনিয়র কনসালটেন্টের মেডিসিন, সার্জারি, স্ত্রীরোগ, শিশু, অর্থোপেডিকস, নাক-কান-গলা, চর্ম ও যৌন, চক্ষু, অ্যানেসথেসিয়া, ফিজিক্যাল মেডিসিন ও হৃদরোগ পদ খালি থাকায় এসব সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বাধ্য হয়ে অনেকেই জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল, বগুড়া ও নওগাঁয় যাচ্ছেন।

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার গোবরচাপা থেকে মেয়েকে নিয়ে এসেছিলেন মাসুদ রানা। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েকে আক্কেলপুর হাসপাতালে চর্ম বিষয়ক ডাক্তার দেখানোর জন্য এসেছিলাম। কিন্তু এসে শুনলাম এই ধরনের ডাক্তার এখানে নেই। এখন জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে যাব, না হয় নওগাঁতে যাব। এখানে ডাক্তার থাকলে সুবিধা হতো। এখন সময় নষ্ট করে অন্য জায়গায় যেতে হবে।’

আক্কেলপুর পৌর শহরের বিহারপুর এলাকার কোরবান আলী বলেন, ‘এই হাসপাতালে সবকিছুর সরঞ্জাম আছে। কিন্তু ডাক্তার না থাকার কারণে দীর্ঘদিন থেকে কোন অস্ত্রোপচার হয় না। আমরা চাই এই হাসপাতালে শূন্য পদগুলোতে ডাক্তার নিয়োগ করা হোক।’

উপজেলার খাদাইল গ্রামের শাহজাহান আলী বলেন, ‘আমি কয়েকদিন আগে এখানে ভর্তি হয়েছি। একজন ডাক্তার দিনে একবার দেখে গেলে সারাদিন আর কোন ডাক্তার আসে না। ২৪ ঘণ্টা পর একবার আসে। এজন্য এখানে আরও ডাক্তার দেওয়া প্রয়োজন।’

জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়ার সময় কথা হয় দায়িত্বরত ডাক্তার (আবাসিক মেডিকেল অফিসার) ডা. আসিফ আদনানের সাথে। তিনি বলেন, হাসপাতালে আমরা তিনজন চিকিৎসক হাসপাতালের বহির্বিভাগ, অন্ত-বিভাগ ও জরুরী বিভাগে সকল সেবা দিয়ে যাচ্ছি। হাসপাতাল ২৪ ঘণ্টার সেবামুলক একটি প্রতিষ্ঠান। শুধুমাত্র সকালে ডাক্তার থাকলে হয়না, বিকেলে থাকতে হয়, রাতে থাকতে হয়। বিগত সময়ে এই হাসপাতালে মানুষ ভাল চিকিৎসাসেবা পেলেও এখন চিকিৎসক সঙ্কটের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা এতোটাই মানসিক ও শারীরিক চাপ অনুভব করি সব সময়, যেন আমরাই যেকোনো সময় অসুস্থ হয়ে যাব। আমাকে সকাল, বিকেল ও রাতেও দায়িত্ব পালন করতে হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানোর পরও চিকিৎসক সঙ্কট সমাধান হচ্ছেনা। ২৪ জনের কাজ তো ৩ জনকে দিয়ে সম্ভব নয়। তবুও আমরা আমাদের সাধ্যমতো রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

এ বিষয়ে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদ বলেন, ৩ জন মেডিকেল অফিসারকে নিয়ে আমরা স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে যাচ্ছি। চিকিৎসক কম থাকায় সেবা দিতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ রোগী আসে। এজন্য অনেক সময় মেডিকেল এসিসট্যান্ট বা সিএমও দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা ধরে রাখতে হচ্ছে। আমিও রোগী দেখি।

তিনি বলেন, ১১ বছর এ হাসপাতালে কোন সিজারিয়ান ছিল না। গতবছরের জুলাই মাসে একজন সিজারিয়ান চিকিৎসক এখানে যোগদান করেছিলেন। তিনিও কয়েক সপ্তাহ আগে বদলী হয়ে গেছেন। এজন্য সিজারিয়ান অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছেনা। জুনিয়র কনসালটেন্ট না থাকায় সকল ধরনের অস্ত্রোপচার বর্তমান বন্ধ আছে।

গত মাসে চিকিৎসক সঙ্কট নিয়ে আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা-পরিচালকে দুইটি চিঠি পাঠিয়েছিলাম। এরপরও কোন ম্যাসেজ পাইনি। এ অবস্থায় গত ২০ জানুয়ারি আবারও শেষ আপডেট জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক সঙ্কট দুর হলে রোগীরা ভাল সেবা পাবে।


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: