নো প্যাসেঞ্জার নো লঞ্চ

এম. মোফাজ্জেল ব‌রিশাল

সারাদেশ

এবার ঈদে ‘নো প্যাসেঞ্জার নো লঞ্চ’ পদ্ধতিতে লঞ্চ চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটের লঞ্চমালিকরা। তারা বলছেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার

2025-03-21T01:47:44+00:00
2025-03-21T01:49:04+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
নো প্যাসেঞ্জার নো লঞ্চ
বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুট
এম. মোফাজ্জেল ব‌রিশাল
প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ মার্চ, ২০২৫, ১:৪৭ এএম  আপডেট: ২১.০৩.২০২৫ ১:৪৯ এএম
ছবি: সময়ের আলো
এবার ঈদে ‘নো প্যাসেঞ্জার নো লঞ্চ’ পদ্ধতিতে লঞ্চ চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটের লঞ্চমালিকরা। তারা বলছেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর তাদের লঞ্চ ব্যবসায় ধস নেমেছে। গত ঈদে তারা প্রচুর লোকসান দিয়েছেন। যাত্রী সংকটে লোকসান এড়াতে এবার ঈদ স্পেশাল সার্ভিস থাকছে না। লঞ্চমালিকরা পল্টনে যাত্রীর ভিড় দেখলেই শুধু ঘাটে লঞ্চ আনবেন। অন্যদিকে উল্টো চিত্র বাসে। ইতিমধ্যে অধিকাংশ বাসের ঈদের টিকেট বিক্রি হয়ে যাওয়ার তথ্য দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। টিকেট কালোবাজারি রোধে বাসমালিকরা কঠোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

অতীতে বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটে ঈদের ১৫ দিন আগে ও পরে উভয় প্রান্তে প্রতিদিন ২৮ থেকে ৩২টি লঞ্চ চলাচলের স্পেশাল সার্ভিস ঘোষণা করা হতো। কিন্তু এবার তা থাকছে না। পদ্মা সেতু চালুর পর সময়স্বল্পতার জন্য সড়কপথে যাত্রী বেড়ে যাওয়ায় এবার এমনটা ঘটছে বলে জানানো হয়েছে। ডাবল ট্রিপসহ ঈদ স্পেশাল সার্ভিস চালাতে গিয়ে গত বছর অনেক টাকা লোকসান হওয়ায় এবারে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে ১৮টি লঞ্চ দিয়ে তিনটি গুচ্ছ করে প্রতিদিন রোটেশনে ৬টি লঞ্চ চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাও আবার বিষয়টি নির্ভর করছে ঈদের আগে ঢাকার সদরঘাট এবং পরে বরিশাল নৌ-বন্দরে যাত্রী ভিড় থাকার পর। এত কিছুর পরও বরিশাল নৌ-বন্দর কর্তৃপক্ষ এবার ঈদযাত্রায় পর্যাপ্ত যাত্রী হবে বলে আশা করছে। তাদের মতে, লঞ্চ কোম্পানিগুলোও তাদের জাহাজ নিয়ে প্রস্তুতি সেরে রেখেছে। লোকসানের ভয়ে তারা আগাম ঘোষণা দিচ্ছে না।

বরিশালের বন্দর কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ সেলিম রেজা বলেন, সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়ন হওয়ায় এবারে লঞ্চ ব্যবসা চাপে আছে। তবে মনে হচ্ছে, এবারও লঞ্চে ভালো যাত্রী পাওয়া যাবে। আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছি। লঞ্চমালিকরাও দ্রুত প্রস্তুতি সেরে রেখেছেন। তবে তারা আগাম কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেন না। কারণ প্রতি ট্রিপে অনেক টাকা ব্যয়ের একটা বিষয় জড়িয়ে আছে।

লঞ্চমালিক রেজাউল কবির বলেন, গত ঈদে আমাদের লোকসান গুনতে হয়েছে। লোকসান এড়াতে আমরা এবার ১৮টি লঞ্চ নিয়ে তিনটি গ্রুপ করেছি। কেউ কোনো ডাবল ট্রিপ দেবে না। প্রতিদিন ৬টি লঞ্চ ছাড়বে। ক, খ এবং গ এই তিন ভাগে ১৮টি লঞ্চের আপাতত শিডিউল রয়েছে। ঈদযাত্রা শুরু হবে ২৫ মার্চ ঢাকা থেকে। ওইদিন ঢাকা থেকে বরিশাল আসবে খ গ্রুপভুক্ত ৬টি লঞ্চ। ২৬ মার্চ ঢাকা থেকে বরিশাল আসবে গ গ্রুপভুক্ত ৬টি লঞ্চ। ২৭ মার্চ ঢাকা থেকে বরিশাল আসবে ক গ্রুপভুক্ত ৬টি লঞ্চ। এসব লঞ্চের পাশে অবশ্য অতিরিক্ত লঞ্চ থাকবে। যদি অতিরিক্ত যাত্রী হয় তবে সেগুলো ব্যবহার করা হবে। যাত্রী থাকলেই শুধু আমরা লঞ্চ দেব, নতুবা নয়। ঈদের সময় যাত্রী সংকটের এমন ঘটনা আগে কোনোদিন ঘটেনি। আমরা লাভ ছাড়া লঞ্চ চালাব না। এবার বরিশাল নগরীর লঞ্চ অফিসগুলোতে যাত্রীদের চাপ নেই বললেই চলে। অনেক কোম্পানির কাউন্টারে এখন পর্যন্ত ঈদ লঞ্চের কোনো শিডিউল এসে পৌঁছায়নি। অফিসের কর্তারা বলছেন, যাত্রীপ্রাপ্তির অনিশ্চয়তার কারণে এমনটা হচ্ছে। বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটে প্রতি বছর যেখানে কমপক্ষে ৩ থেকে ৫ লাখ ঈদযাত্রী হতেন সেখানে এ বছর মিলছে না কোনো নিশ্চয়তা।

কাউন্টার স্টাফ আশরাফুল বলেন, আগে ঈদের সময় টিকেট নিয়ে হিমশিম খেতাম যাত্রীদের চাপে। এখন কোনো ভিড় নেই, টিকেটের চাপ নেই। আমরা এখনও শিডিউল পাইনি। কবে আমাদের লঞ্চ থাকবে তাও জানি না। আগে ঈদযাত্রার ১৫-২০ দিন আগেই স্পেশাল সার্ভিসের ঘোষণা আসত। কিন্তু এবার সেই চিত্র পাল্টে গেছে। আগে ঈদযাত্রায় সবাই গ্রামের বাড়িতে আসত লঞ্চে। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। ঈদ রোটেশন সার্ভিসে যে ৬টি লঞ্চ প্রতিদিন থাকবে সেগুলোও যাত্রী পাবে কি না সন্দেহ আছে। লঞ্চ প্লেসিং না হওয়ায় ঈদের পরের লঞ্চ টিকেট নিয়েও বিপাকে আছেন অনেক যাত্রী।

লঞ্চযাত্রী শাহিনুর বেগম বলেন, আগে ১৫ দিন আগে এসেও টিকেট পেতাম না। এবার টিকেট পাচ্ছি। সেই তুলনায় বাসের টিকেট পাওয়া এবারে বেশ মুশকিল। হাবিবুর রহমান খোকন বলেন, মেয়ের জামাই ঈদ করতে আসবে। এখানে এসে ঈদ টিকেট পেয়ে গেলাম। আগে ১৫ দিন আগেও পেতাম না। আরেক যাত্রী বলেন, আমি ঈদের পরে ঢাকা যাওয়ার জন্য কেবিনের টিকেটের জন্য এসেছিলাম। কিন্তু লঞ্চের কোনো শিডিউলই নেই। আগে আসা-যাওয়ার দুটি টিকেটই মিলত। শিডিউল আগাম ঘোষণা করা দরকার। কারণ লঞ্চের নিশ্চয়তা না পেলে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়। লঞ্চ এখনও গাড়ির চেয়ে নিরাপদ।

এদিকে ঢাকা-বরিশাল রুটে ঈদের সময় প্রতিদিন অন্তত ৭শ-৮শ বাস চলাচল করবে। মানসম্পন্ন ব্র্যান্ড গাড়িগুলোর টিকেট ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে। বরিশাল বাসমালিক গ্রুপের সম্পাদক মনোয়ার হোসেন বলেন, মালিক ও শ্রমিকদের নিয়ে সভা করে জানিয়ে দিয়েছি যে, সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় টিকেট বিক্রি করতে হবে। কোনো কালোবাজারি চলবে না। ৭শ-৮শ বাস চলাচল করবে। কোনো গাড়ি অনিয়ম করলে সেই গাড়ির চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের শিডিউল বাসের টিকেটই ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। ২৫ মার্চ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সব টিকেট বিক্রি শেষ হয়েছে। এবারে রাস্তায় যানজট কম। অল্প সময়ের মধ্যেই বরিশাল আসা যাচ্ছে বিধায় বাসের দিকে যাত্রীরা ঝুঁকেছে। যেকোনো সময় বাস পাওয়া যাচ্ছে বলেই যাত্রীরা এমুখো হচ্ছেন। এবার বাসের টিকেট কালোবাজারি রোধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে বরিশাল বাসমালিক গ্রুপ।


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: