রাস্তা নির্মাণে বালুর পরিবর্তে মাটি, কাজ ভালো হওয়ার দাবি এলজিইডি কর্মকর্তার
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২২ মার্চ, ২০২৫, ৯:৩২ পিএম আপডেট: ২২.০৩.২০২৫ ৯:৪৯ পিএম (ভিজিট : ৩৬৯)
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে রাস্তা নির্মাণে বালুর পরিবর্তে মাটি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছবি: সংগৃহীতলক্ষ্মীপুরের কমলনগরে একটি রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাতের আঁধারে অজ্ঞাত স্থান থেকে নিন্মমানের সামগ্রী এনে রাস্তা নির্মাণ করছেন ফরহাদ হোসেন নামের এক বিএনপি নেতা। এতে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঈমান আলী মার্কেট থেকে বটতলী বাজার সড়কের এক হাজার মিটার রাস্তার দরপত্র আহ্বান করা হয়। রাস্তাটি পাকাকরণের দায়িত্ব পায় মেসার্স ফরহাদ টেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় এক কোটি টাকা। কাজটির মেয়াদ চলতি মাসের ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত।
অভিযোগ রয়েছে,কমলনগর উপজেলা এলজিইডি অফিসের প্রকৌশলীর দায়িত্ব অবহেলার কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন দায়সারাভাবে কাজ করছেন। বিশেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও হাজিরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফরহাদ মিয়ার মালিকানাধীন ইটভাটা থেকে ৩ নম্বর ইটের খোয়া ও ভাটার রাবিশ (মাটি মিশ্রিত) এনে রাস্তায় দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোন কর্মকর্তা একবার দেখতেও আসেনি। তারা অফিস বসে সময় পার করছেন। আর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের মতো করে কাজ করছেন। একে স্থানীয়রা শুধু পুকুর চুরি নয়, সাগর চুরির মত ঘটনা বলছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার ওপর নিম্নমানের ইটের টুকরা ও বালু পড়ে আছে। সেখানে ইটের খোয়া ও ব্রিকসের মাটি মিশ্রিত বালু ব্যবহার করা হয়েছে। শুধু তাই নয় বালু ও খোয়ার অনুপাতও ঠিক চোখে দেখা যায় নি।
স্থানীয় শাহজালাল ও মনির আহমাদ বলেন, রাস্তা নির্মাণ হচ্ছে। কিন্তু উপজেলা অফিসের কোনো লোক আসেনি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের মতো করে কাজ করছে। এই রাস্তা বেশি দিন টিকবেনা। আমরা বাধা দিলে বলবে চাঁদা চাচ্ছি। তাই আমাদের কিছু বলার নেই। ঠিকাদার বিএনপির নেতা।
অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারী ফরহাদ হোসেন বলেন, কাজ ভাল হচ্ছে-না খারাপ হচ্ছে এটা তো সাধারণ মানুষ বুঝবেনা। উপজেলা এলজিইডি অফিসের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করেন। তারাই ভাল বলতে পারবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির কমলনগর উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল আনোয়ার বলেন,কাজ ভাল হচ্ছে। আপনাদের রিপোর্ট করার দরকার নেই। প্রয়োজনে আমি সরেজমিনে গিয়ে দেখবো।