শতবর্ষী বাঁশির সুর বাজে যে গ্রামে

রুবেল মজুমদার, কুমিল্লা

সারাদেশ

কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দী গ্রামে বৈশাখের আগমনে এক অনন্য উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী বাঁশি তৈরির ধুম লেগেছে। বাঁশির

2025-04-13T15:12:49+00:00
2025-04-13T17:38:30+00:00
 
  শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬,
২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
সারাদেশ
শতবর্ষী বাঁশির সুর বাজে যে গ্রামে
রুবেল মজুমদার, কুমিল্লা
প্রকাশ: রোববার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৫, ৩:১২ পিএম  আপডেট: ১৩.০৪.২০২৫ ৫:৩৮ পিএম  (ভিজিট : ১১০৪)
বাঁশি তৈরি করছেন এক শিল্পী। ছবি: সময়ের আলো
কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দী গ্রামে বৈশাখের আগমনে এক অনন্য উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী বাঁশি তৈরির ধুম লেগেছে। বাঁশির মোহন সুরে প্রাণ-প্রকৃতিতে সজীবতা এসেছে। অনেকের জীবনে এসেছে চাঞ্চল্য।

শ্রীমদ্দী গ্রামে প্রায় ১২০টি পরিবার বাঁশি তৈরি করছেন। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে এখানের মানুষের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। কারিগররা রাত পর্যন্ত বাঁশ সংগ্রহ, ছিদ্র করা এবং রঙিন সাজসজ্জার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

স্থানীয় কারিগরদের মতে, এই প্রাচীন শিল্প শুধু একটি বাদ্যযন্ত্র তৈরির প্রক্রিয়া নয়; বরং এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক শিকড়ের এবং আত্মার গভীর প্রতিফলন।

বৈশাখ আসলে শ্রীমদ্দীর বাঁশির চাহিদা বহু গুণে বেড়ে যায়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মেলায় এই বাঁশি জনপ্রিয় হস্তশিল্প হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে বাজারে প্রায় ৩০ টাকা থেকে ১৭০ টাকায় বাঁশিগুলো বিক্রি হয়।

বাঁশি আত্মার গভীর প্রেরণা
গ্রামের সবচেয়ে প্রবীণ বাঁশিশিল্পী আমির হোসেন (৬৫) তিনি জানান, ‘আমাদের পূর্বপুরুষেরা যখন বাঁশি তৈরি করতেন, তখন এতে কেবল কারিগরি দক্ষতা নয়, আত্মার এক গভীর প্রেরণা ছিল। বৈশাখের আগমন ঘটতেই চাহিদা বেড়ে যায়। বাঁশির সুরে আমাদের শিকড় মিলিয়ে ওঠে।’

নারীরাও ভালোবেসে বাঁশি বানান
বাঁশি বানানোর কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীরও সমান তালে কাজ করেন। গ্রামের গৃহবধূ রাহেলা খাতুন বলেন, ‘ঘরের কাজ শেষে আমরা বসে বাঁশিকে সাজাই। প্রত্যেকটি বাঁশি যেন আলাদা এক গল্প বলে। আমাদের তৈরি বাঁশি এখন শহরের বড় মেলায় পৌঁছে যায়।’

বিদেশে যায় শ্রীমদ্দীর বাঁশি
বর্তমান তরুণরা ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন। ইউটিউব, ফেসবুক ও অনলাইন মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে শ্রীমদ্দীর বাঁশির ইতিহাস এবং কারিগরি প্রচার হচ্ছে।

গ্রামাঞ্চলের কলেজ ছাত্র ফামিদুল বলেন, ‘আমরা এখন বাঁশি বানিয়ে অনলাইনে বিক্রি করছি; বিদেশ থেকেও অর্ডার আসছে। ডিজিটাল মাধ্যমের মাধ্যমে আমাদের ঐতিহ্যকে বহির্বিশ্বে উপস্থাপন করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’

বাঁশি তৈরি করছেন এক শিল্পী। ছবি: সময়ের আলো

তারা বললেন
হোমনা উপজেলার সংস্কৃতিকর্মী লুৎফর রহমান বলে, ‘বাঁশির শিল্প শুধুমাত্র অর্থ উপার্জনের মাধ্যম নয়; এটি আমাদের শিকড়ের, আমাদের আত্মার প্রতীক। প্রতিটি বাঁশি যেন দেশের ঐতিহ্য ও প্রাণ-প্রকৃতি বহন করে।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক সুমি আক্তার বলেন, ‘বাঁশির সুর আমাদের মনে গেঁথে যায়। সুর শুনলে শতবর্ষের ঐতিহ্য ও শিকড়ের প্রকৃত সুরের কথা মনে পড়ে। এই প্রাচীন শিল্প কেবল একটি বাদ্যযন্ত্র নয়; বরং বাঙালির আত্মার, সাংস্কৃতিক গর্বের এবং জাতীয় পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

হোমনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ক্ষেলালিকা চাকমা বলেন, ‘শ্রীমদ্দি একটি এতিহ্যবাহী গ্রাম। তারা দীর্ঘদিন ধরে এই শিল্পটাকে টিকিয়ে রেখেছে। অনেক পরিবার এই শিল্পের ওপর জীবিকা নির্বাহ করছে। তাদের সাথে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ থাকে। বিভিন্ন সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সহায়তা করে আসছে।


  বিষয়:   বাঁশি  শ্রীমদ্দী 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: