চৈত্র সংক্রান্তির দিনটিকে কেন্দ্র করে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অনুষ্ঠিত হলো চরক পূজা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রাচীন এই লোকজ উৎসব ঘিরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
উপজেলার বিভিন্ন মন্দির চত্বরে ও মেলা প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই ভক্তদের আনাগোনা দেখা যায়। পুরোহিতদের বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
চড়ক দোলায় অংশগ্রহণ করতে দেখা যায় নানা বয়সী সন্ন্যাসীদের। দড়িতে বাঁধা অবস্থায় তারা ঘূর্ণায়মান অবস্থায় আকাশে ভেসে বেড়ান, যা দেখার জন্য ভিড় করেন হাজার হাজার মানুষ।
চড়ক পূজাকে কেন্দ্র করে বসে যায় বিশাল মেলা। স্থানীয় পণ্যের পসরা নিয়ে হাজির হন বিক্রেতারা। উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিল সরব, যাতে উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
পূজায় অংশ নেওয়া ভক্ত বলেন, এই পূজায় অংশ নিতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। প্রতি বছর এই দিনে আমরা মানত করি, আর সেটা পূরণ হয়। এ পূজার মাধ্যমে বিশ্বের সকল মানব জাতির জন্য মঙ্গল কামনা করা হয়।
সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ চাঁদ মিয়া বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রাচীন এই লোকজ উৎসবে নিরাপত্তা দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত ছিল। সুষ্ঠুভাবে তাদের এ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী পিন্টু চন্দ্র বর্মন জানান, চৈত্রসংক্রান্তিতে উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের সোনাকান্দর সার্বজনীন কালী ও দুর্গা মাতা মন্দিরে দীর্ঘদিন ধরে বার্ষিক চরক পূজার আয়োজন করা হয়। ৫ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এ অনুষ্ঠান। ১১ দিন ব্যাপী পূজার্চনা ও প্রার্থনা মত্ত থাকবে তারা। সোনাকান্দর গ্রামের দেব ভক্তবৃন্দ ও শিব যুবসংঘ এ বার্ষিক চরক পূজার আয়োজন করেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, চড়ক পূজার মাধ্যমে তারা দেব-দেবীর আশীর্বাদ লাভ করে।