কুয়াকাটায় রাখাইন সম্প্রদায়ের জলকেলি উৎসব শুরু
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৫, ৭:১৬ পিএম আপডেট: ১৮.০৪.২০২৫ ৭:১৯ পিএম
পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় রাখাইন সম্প্রদায়ের জলকেলি বা ‘সাংগ্রাই’ উৎসব। ছবি : সময়ের আলো পটুয়াখালীর পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় রাখাইন সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব জলকেলি বা ‘সাংগ্রাই’ উৎসব শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় রাখাইন নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এ উৎসব কেরানীপাড়া রাখাইন মার্কেট মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
রাখাইনদের বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, পুরনো বছর ১৩৮৬ সালকে বিদায় এবং নতুন বছর ১৩৮৭ সালকে বরণ করে নিতে উৎসবে রাখাইন তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সের নারী-পুরুষ অংশ নেন। রাখাইন তরুণীদের মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবের শুরু হয়। এরপর একে অপরের গায়ে ভালোবাসা আর আনন্দের জল ছিটিয়ে চলে আনন্দঘন জলকেলি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এমং তালুকদার। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশ জোনের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির, কুয়াকাটা খানাবাদ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ড. শহিদুল ইসলাম শাহীন, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান প্রমুখ।
রাখাইন সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানান, পুরনো বছরের দুঃখ-গ্লানি জল ছিটিয়ে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো এ উৎসবের মূল উদ্দেশ্য। টানা তিনদিন ধরে চলবে এই জলকেলি উৎসব।
রাখাইন তরুণী ইয়াংসা বলেন, ‘পুরনো বর্ষকে বিদায় এবং নতুন বর্ষকে বরণের এ জলকেলি উৎসব আমাদের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক রীতি। উৎসবকে ঘিরে বাড়িতে বাড়িতে রান্না হচ্ছে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী খাবার।’
প্রধান অতিথি মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘জলকেলি উৎসব রাখাইনদের হলেও এটি এখন এই অঞ্চলের মানুষেরও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। এ উৎসব শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি প্যান্ডেলে পুলিশ সদস্যদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে।’