ফেনীর সোনাগাজী-নোয়াখালী আঞ্চলিক সড়কের ওলামা বাজারের ইসলামপুর এলাকায় মঙ্গলবার সকালে বিএনপির আবুল হাসেম নামের এক কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হামলাকারীরা বোরকা পরে এসে হামলা চালায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাসেল (৩৫) নামের এক যুবককে আটক করছে পুলিশ।
নিহত আবুল হাসেম সোনাগাজী উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের পশ্চিম চরদরবেশ গ্রামের শুক্কুর মিয়ার ছেলে। তিনি সোনাগাজী পৌরসভার ইসলাম মুহুরি রোড এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। নিহত আবুল হাসেম সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গিয়াস উদ্দিন ওরফে গিয়াস চেয়ারম্যানের সহযোগী ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ আকন বলেন, খবর পেয়ে থানা-পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে একজনকে আটক করেছে। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী, নিহতের পরিবার ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল সকালে আবুল হাসেম সোনাগাজী পৌরসভার ইসলাম মুহুরি রোড এলাকার ভাড়া বাসা থেকে মোটরসাইকেলে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে চরদরবেশ ইউনিয়নের ওলামা বাজার এলাকায় পৌঁছালে বোরকা পরা কয়েক ব্যক্তি তার মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রকাশ্যে এলোপাতাড়ি কোপানো হয় তাকে। পরে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় আবুল হাসেমকে উদ্ধার করে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পাঠানো হয়। ঢাকায় নেওয়ার পথে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে তার মৃত্যু হয়।
নিহত হাসেমের ভাতিজা মোহাম্মদ টিপু বলেন, তার চাচার সঙ্গে প্রতিবেশী বেলাল নামের এক ব্যক্তির জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ২০২১ সালের ৩১ মে দুই পক্ষের মারামারির সময় বেলাল মারা যান। ওই মামলার প্রধান আসামি ছিলেন আবুল হাসেম। তিনি প্রায় তিন বছর কারাগারে থেকে কয়েক মাস আগে জামিনে বেরিয়েছিলেন।
সেই ঘটনার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।