ধান আবাদে নতুন রেকর্ড

আমির হামজা, রাউজান (চট্টগ্রাম)

সারাদেশ

চট্টগ্রামের রাউজানে এবার বিগত কয়েক বছরের তুলনায় বোরো ধানের সবচেয়ে ভালো ফলন হয়েছে। বাম্পার ফলনে দারুণ খুশি স্থানীয় কৃষকরা। এ

2025-05-13T03:35:25+00:00
2025-05-13T03:35:25+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
ধান আবাদে নতুন রেকর্ড
আমির হামজা, রাউজান (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ মে, ২০২৫, ৩:৩৫ এএম 
ফাইল ছবি
চট্টগ্রামের রাউজানে এবার বিগত কয়েক বছরের তুলনায় বোরো ধানের সবচেয়ে ভালো ফলন হয়েছে। বাম্পার ফলনে দারুণ খুশি স্থানীয় কৃষকরা। এ বছর একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কম হানা দিয়েছে, অন্যদিকে ধানে কোনো রোগবালাই না হওয়ায় বোরো ধান উৎপাদনে রীতিমতো নতুন রেকর্ড গড়েছেন রাউজানের কৃষকরা। ইতিমধ্যে উপজেলাজুড়ে বোরো ধানের সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা টপকে গেছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে রাউজান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুম কবির বলেন, চলতি মৌসুমে রাউজান উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং রোগবালাই কম হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। উপযুক্ত সময়ে কৃষকরা জমিতে ধান রোপণ করার পাশাপাশি জমিতে সেচসহ পরিচর্যা করেছেন। আমাদের কৃষি অফিস থেকে স্থানীয় কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলন অনেক বেশি ভালো হয়েছে। ইতিমধ্যে স্থানীয় কৃষকরা প্রায় ৭৫ ভাগ ধান কাটা সম্পন্ন করেছেন বলেও জানিয়েছেন রাউজান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুম কবির।

এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে রাউজান উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার সুশীল বলেন, চলতি মৌসুমে রাউজান উপজেলাজুড়ে ৫ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। কৃষকরা হাইব্রিড জাতের ধানের আবাদ করেছেন ১ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে। এ ছাড়া ৩ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে উফসি জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। এবার ২৫ হাজার টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান রাউজান উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার সুশীল।

সরেজমিন রাউজান উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, কৃষকরা জমি থেকে ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠজুড়ে সবুজ ধান পেকে সোনালি রং ধারণ করেছে। বাতাসে দোল খাচ্ছে সোনালি ধানের শীষ। উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়ন ও সীমান্ত এলাকা বৃন্দাবনে এরই মধ্যে ধান কাটা প্রায় শেষ হয়ে গেছে। সেখানে বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকজন ধান শুকিয়ে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমিতে ধানের বাম্পার ফলন হলেও শ্রমিকের মজুরি বেশি। ধান কাটার জন্য শ্রমিকদের ১৩শ থেকে ১৫শ টাকা পর্যন্ত মজুরি দিতে হচ্ছে। তবে ফলন ভালো হওয়ায় ধান লাগানো, সেচ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ থাকবে বলে আশা করছেন তারা। কথা হয় স্থানীয় কৃষক মো. মাহবুবের সঙ্গে। এ সময় তিনি বলেন, আমি এবার দুই বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। ধান এবার খুব ভালো হয়েছে। তবে তীব্র গরমে ধান কাটা একটু কষ্টদায়ক হচ্ছে। এ ছাড়াও ধান কাটা শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। তারপরও সবমিলিয়ে মোটামুটি ভালোই লাভ থাকবে। স্থানীয় আরেক কৃষক মো. কোরবান আলী বলেন, বোরো ধান চাষ বেশ ব্যয়বহুল। অনেক খরচ গুনতে হয়। তবে এবার ফলন এত বেশি ভালো হয়েছে যে, মাঠে ধান লাগানো, সেচ, সার, কীটনাশক এবং শ্রমিকের মজুরি বাদ দিয়েও লাভ থাকবে আমাদের।

এসকে/ 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: