ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলায় ২২ বছর আগে কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণ করা হলেও আজ পর্যন্ত কোনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় সেতুটির সুফল ভোগ করতে পারছেন না এলাকাবাসী। সেতু থাকলেও কোনো সুবিধা না পেয়ে হতাশ আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এটি মূলত একটি পাকা ফুট ব্রিজ। উপজেলার নান্দাইল ইউনিয়নের বলদা বিল সংলগ্ন দাতারাটিয়া (পুতলাকান্দা) গ্রামে একটি বড় খালের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে। ২০০১ সালে খালের দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরে গিয়ে এ সংক্রান্ত তেমন কোনো তথ্য না মিললেও স্থানীয়রা জানান, ৩৭ মিটার দীর্ঘ ও ৩ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণে অন্তত এক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু তা ২৪ বছর ধরে এলাকাবাসীর তেমন কোনো কাজেই আসছে না।
বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় শুকনো মৌসুমে বলদা বিলে উৎপাদিত ধানসহ বিভিন্ন ফসল আনা-নেওয়ার জন্য অপরিহার্য এই সেতু। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরতে আশপাশের গ্রামের মানুষকে এই সেতু পার হতে হয়। এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আবদুল মালেক বিশ্বাস বলেন, নান্দাইল উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে অনেক আগে পাকা সেতুটি করা হয়েছিল। সেতুটির কাগজপত্র জেলা অফিসে জমা আছে। তাই কাগজপত্র না দেখে এই মুহূর্তে আমি কিছু বলতে পারছি না। তবে দুয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক নির্মাণের পদক্ষেপ নেবেন বলে আশ্বস্ত করেন প্রকৌশলী আবদুল মালেক বিশ্বাস।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খালটি ঝালুয়া বাজারের পাশ দিয়ে লংগাড় পাড় হয়ে নরসুন্দা নদীতে গিয়ে মিশেছে। উপজেলার সবচেয়ে বড় বিল বলদার পানি এ খাল দিয়েই নরসুন্দা নদীতে যায়। সেতুটির দক্ষিণ পাশে দাতারাটিয়া গ্রাম। সেখানে আঁকাবাঁকা আইলের মতো রাস্তা থাকলেও ছোটখাট যানবাহন দূরে থাক, হেঁটে যাওয়াও কষ্টকর। অথচ এ পথেই আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা নান্দাইল উপজেলা সদরসহ ঝালুয়া বাজারের সঙ্গে খুব সহজে যোগাযোগ করতে পারেন। সেতুটির দক্ষিণ পাশ ছাড়া কাছাকাছি আর কোথাও সেভাবে বসতি নেই। উত্তর পাশে নিচু মাটির রাস্তা থেকে সেতুটির অবস্থান অনেক ওপরে। সেতুর দক্ষিণ পাশে রাস্তার কোনো অস্তিত্ব নেই। কোনো যানবাহন চলাচল দূরে থাক, পথচারীদের হেঁটে সেতুটি পার হওয়াও খুবই কষ্টকর।
কথা হয় কাটলীপাড়া গ্রামের সেকান্দর আলীর সঙ্গে। এ সময় তিনি বলেন, বিকল্প রাস্তা না থাকায় এই সেতু পাড়ি দেওয়া ছাড়া স্থানীয় লোকজনের আর কোনো উপায় নেই। কখনো না জেনে সাইকেলে করে আইসক্রিমওয়ালারা এ পথে চলে এলে বিপদে পড়ে যায়।
তখন ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের সহায়তা নিয়ে তাদের সেতুটি পার হতে হয়। আর এ কাজের জন্য আইসক্রিমওয়ালাদের বেশ কয়েকটি আইসক্রিম ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের পেছনে ব্যয় করতে হয়।
দাতারাটিয়া গ্রামের সদুত মিয়া বলেন, সাবেক মন্ত্রী চেষ্টা করেছিলেন একটি সংযোগ সড়ক তৈরি করার জন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি।
এএডি/