কোরবানি মুসলিমদের আত্মত্যাগের অনন্য এক ইবাদত পবিত্র ঈদুল আজহা। এ সময় পশুর পাশাপাশি চাহিদা থাকে দা, ছুরি, বঁটি, চাকু, চাপাতি, কুড়ালসহ কোরবানির পশুর মাংস কাটার লোহার তৈরি বিভিন্ন সরঞ্জামের। এ বছরও পশুর মাংস কাটার সে চাহিদা পূরণে ব্যস্ততা বেড়েছে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বিভিন্ন কামারপল্লীতে। গরম লোহাকে হাতুড়ি দিয়ে পেটানোয় দম ফেলার যেন সময় নেই এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগরদের।
মঙ্গলবার (২৭ মে) সকালে উপজেলার উলিপুর বাজার, চৌমহনী বাজার, বুড়াবুড়ি, দূর্গাপুর ডালিমেরপাড়, পুরাতন অনন্তপুর কামারপাড়াসহ কামারশালা গুলোতে গিয়ে দেখা যায়, হাঁপরের টানে কয়লার চুলায় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। জ্বলে ওঠা আগুনের ফুলকিতে লোহাও যেন ধারণ করেছে সুর্যবর্ণ।
দগদগে গরম লোহায় দিনরাত হাতুড়ি পেটানোর টুং-টাং শব্দে মুখর কামারপল্লীর এলাকাগুলো। শহর থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যায়ে কামারপল্লীতে এখন এ শব্দে মুখর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যেন ব্যস্ততাও বাড়ছে। কেউবা দা, ছুরি এবং বটিতে শান দিতে আবার কেউবা নতুন নতুন হাতিয়ার তৈরিতে ব্যস্ত।
ঘন্টু কর্মকারসহ কয়েকজন কামারের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্প্রিং লোহা (পাকা লোহা) ও কাঁচা লোহা দিয়ে উপকরণ তৈরি করা হয়। স্প্রিং লোহা দিয়ে তৈরি উপকরণের মান ভালো তবে দাম বেশি। আর কাঁচা লোহার তৈরি উপকরণ গুলোর দাম তুলনামূলক ভাবে কম। এছাড়া অ্যাঙ্গেল, ব্লাকবার, রড, স্টিং, রেললাইনের লোহা, গাড়ির পাত এ গুলো দিয়ে দা, ছুরি, বঁটি ও কুঠার ইত্যাদি তৈরি করে থাকি। মানভেদে পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি দেড়শ থেকে ২শ টাকা, চাপাতি ৫শ থেকে ৮শ টাকা, দা সাড়ে ৩শ থেকে ৫শ টাকা, বঁটি ৩শ থেকে ৫শ টাকা, পশু জবাইয়ের ছুরি ৫শ থেকে ১ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে।
পুরাতন অনন্তপুর কামারপাড়ায় ছুরি বঁটি কিনতে আসা নুরনবী মিয়া জানান, গরু কোরবানি দিবো। নতুন ছুরি-বঁটি কিনতে হবে। দাম বেশ চড়া, তারপরও কিনতে হচ্ছে।
পুরাতন অনন্তপুর কামারপাড়ার বিশ্বনাথ কর্মকার বলেন, আমাদের পুর্বপুরুষের পেশা এটি। আমার বাপ-দাদা কামারের কাজ করতো। তাদেরকে সহযোগিতা করতে করতেই এ পেশায় জড়িয়ে যাওয়া। ঈদকে সামনে রেখে আমার দোকানে কর্মব্যস্ততা অনেক গুণে বেড়েছে। এ বছর নতুন হাতিয়ার তৈরির পাশাপাশি পুরোনো হাতিয়ারের মরিচা ছাড়িয়ে নেয়ার তোড়জোড়ই বেশি।
ফকিরেরহাট আলিম মাদ্রাসার ভাইস-প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল জলিল বলেন, কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাত করতে লোহার তৈরি ধারালো অস্ত্রের প্রয়োজন হয়। এজন্যই ঈদুল আজহা’তে কামারদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়।
উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, ঈদুল আজহার নাম করে নাশকতা করার জন্য কেউ হাতিয়ার প্রস্তুত করছেন কি না সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এএডি/