সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় ঈদ উল আযহায় কোরবানির চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন পশু কোরবানিদাতারা।
শনিবার ( ৬ জুন) এ দুই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
জানা যায়, ঈদের দুপুর থেকে উপজেলার সদরসহ বিভিন্ন গ্রামে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়া কেনা শুরু করলেও, বিকেলের দিকেই চামড়ার বাজারে ধস নামে। এসময় অনেকেই সংগৃহীত চামড়া বিক্রির জন্য উপজেলা সদরে নিয়ে এলেও সেখানে উপযুক্ত মূল্য না পেয়ে হতাশ হয়েছেন। কেউ কেউ চামড়া ফেলে রেখে চলে গেছেন, আবার অনেকেই স্থানীয় মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে দান করে দিয়েছেন। এই অপ্রত্যাশিত দরপতনে কোরবানিদাতাদের পাশাপাশি মৌসুমী ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সূত্র জানায়, এ বছরে সরকারের পক্ষ থেকে মফস্বলে লবণজাত চামড়ার জন্য ১,১৫০ টাকা দাম নির্ধারণ করা হলেও, কাঁচা চামড়ার ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ওপর দাম নির্ধারণের ভার ছেড়ে দেওয়া হয়। এর ফলস্বরূপ, একটি বড় গরুর চামড়া মাত্র ৫০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর ছাগলের চামড়ার ক্ষেত্রে ক্রেতারা কোনো দামই বলছেন না, মাত্র ১০-২০ টাকা হাঁকা হচ্ছে।
রায়গঞ্জ উপজেলার আমসড়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, তিনি ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ষাঁড় গরু কোরবানি দিলেও, চামড়া বিক্রি করতে গিয়ে স্থানীয় ক্রেতারা মাত্র ৫০০ টাকা দাম বলছেন।
তাড়াশ পৌর সদরের বাসিন্দা মো. শমীউল হক শামীম বলেন, ১ লাখ ৬১ হাজার টাকা মূল্যের ষাঁড় কোরবানি দিয়েও ক্রেতা না পেয়ে ৭০০ টাকায় চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হন।
তবে বিকাল গড়াতেই চামড়ার দাম আরও কমতে থাকে। গ্রামে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেকে তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলা সদরে চামড়া নিয়ে আসেন। কিন্তু সেখানেও একই চিত্র দেখে অনেকেই চামড়া ফেলে রেখে চলে যেতে বাধ্য হন।
এ সময় তাড়াশ মডেল মসজিদ সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে দেখা যায়, বৃষ্টিতে ভিজে নাকাল হয়ে পড়েছেন চামড়া বিক্রেতারা। ক্রেতা না পেয়ে বহু কোরবানিদাতা তাদের চামড়া ফেলে রেখে গেছেন।
তাড়াশ ইসলামী ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা মো: এম.এ মাজিদ বলেন, কোরবানির সময় মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের পক্ষ থেকে চামড়া সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। চামড়া বিক্রির টাকা তাদের বার্ষিক আয়ের একটি অন্যতম উৎস। কিন্তু চামড়ার মূল্য না পেলে তারা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হোন। তবে ইসলামি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে চামড়া সংরক্ষণের জন্য কোরবানির আগেই এসব মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করা হয়েছে।
চকজয় কৃষ্ণপুর গ্রামে বাসিন্দা সোহেল রানা বলেন, তিনি এ বছরে ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ছাগল কোরবানি দিয়েছেন। কিন্তু চামড়ার মূল্য না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষায়, গরুর চামড়ার কিছুটা মূল্য থাকলেও ছাগলের চামড়ার মূল্য একেবারেই নেই।
তাড়াশ পৌর সদরের মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী মো: মফিজ উদ্দিন বলেন, মোকামের দরের সাথেই আমাদের চামড়া কিনতে হচ্ছে। এ কারণে স্থানীয় বজারে এর প্রভাব পড়ছে।
তবে এ প্রসঙ্গে তিনি আরেকটি কথা যোগ করে বলেন, পেশাদার লোক ছাড়া চামড়া ছেলা হলে তা ত্রুটিপূর্ণ থেকে যায়। এ কারণেই অনেক ক্রেতাই ওই চামড়া কিনতে চান না। তবে লবণজাত করা গেলে আগামীতে তারা ন্যায্য মূল্য পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সময়ের আলো/এমএইচ