এক টুকরো স্বপ্ন। এক ঝলক শিমুল রাঙা বিকেল। আর তার মাঝখানে বাঁশ ও কাঠে গড়া এক নিঃশব্দ বিপ্লব। এটা কোনো সিনেমার সেট নয়। এটি ঝিনাইদহের শৈলকুপার শ্রীরামপুর গ্রাম। যেখানে মানুষের উদ্যোগই গড়ে তুলেছে সৌন্দর্যের এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত।
নদীর উপর বাঁশ আর কাঠের এই সেতুটি শুধু চলাচলের মাধ্যম নয়। এটা এখন মানুষকে কাছাকাছি আনার ব্রিজ। মনের, সম্পর্কের, আনন্দের সেতুবন্ধনে পরিনত হয়েছে।
এখানে একসময় পারাপারের একমাত্র ভরসা ছিল নৌকা। এখন সেখানে প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত মানুষ। বিশেষ করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে এটি এখন এক জনপ্রিয় 'ডে আউট স্পট'। সেতুর আশেপাশের প্রকৃতিও যেনো প্রকৃতির রঙতুলিতে আঁকা এক জলরঙ।
চায়ের কাপ আর পেয়াজুর গন্ধে মুখরিত টঙ দোকানগুলো। স্বচ্ছ বাতাসে ঘেরা এই জায়গাটা যেন এক বিশুদ্ধ অবকাশ। প্রায় ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে কোনো সরকারি বরাদ্দ ছাড়াই কেবল ভালোবাসা আর দায়বদ্ধতা থেকেই ২০২২ সালে এ এলাকার তরুণরা নিজস্ব উদ্যোগে তৈরি করেছেন এই সেতু। তারপর থেকেই এই সেতু হয়ে উঠেছে স্থানীয় পর্যটন স্পট।
শৈলকুপার কালী নদীর সাঁকো এটি শুধু একটি সেতু নয়। এটা একটি প্রতীক— যেখানে স্বপ্ন, শ্রম আর সম্প্রীতির ছোঁয়ায় গড়ে ওঠে নতুন সম্ভাবনা।