তখন ২০২০ সালের ১২ এপ্রিল। করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবায় বিপর্যস্ত পৃথিবী।
বাংলাদেশ মুষড়ে পড়েছে এর থাবায়। লকডাউন চলছে সারাদেশে। সাংবাদিক মো. মনিরুল ইসলামের বাবা বাড়ি থেকে বের হলেন এক কাজে। কিন্তু বাবা আর ফিরে এলেন না। আজ ছয় বছর হলো। এর মধ্যে বাবাকে কত খুঁজেছেন মনির। কতজনকে বাবার কথা জিজ্ঞেস করেছেন। কেউ বাবার সন্ধান দিতে পারেননি।
মনিরুল ইসলামের বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার ৪নং দেলুয়াবাড়ী ইউনিয়নের ক্ষিদ্র লক্ষ্মীপুর গ্রামে। বাবার নাম মাওলানা আতাউর রহমান (আক্তার)।
মাওলানা আতাউর রহমান চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন জায়গায় প্রায় দুই দশক ধরে ইমামতি করেছেন। তিনি শিবগঞ্জ, কানসাট, রহনপুর, আমনুরা, গোদাগাড়ীসহ নানা এলাকায় মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে বক্তব্য দিতেন। জীবনের শেষ দিকে কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন।
নিখোঁজের সময় তার বয়স ছিল আনুমানিক ৫৫ বছর। গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা, মুখমণ্ডল গোলাকার, উচ্চতা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি, পরনে ছিল চকলেট রঙের পাঞ্জাবি ও চেক লুঙ্গি। ডান গালের ওপরে একটি আঁচিলের দাগ ছিল এবং মুখে হালকা চাপ দাড়ি। তিনি রাজশাহী আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতেন।
তার স্ত্রী মোছা. মনোয়ারা বেগম দুর্গাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন তখন। সংবাদমাধ্যম, মাইকিং, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিখোঁজ সংবাদ, পোস্টার, বিজ্ঞপ্তি—সবই করা হয়েছে। তবুও মানুষটির খোঁজ আর পাওয়া গেল না।