বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ এবং চলমান অমাবস্যার প্রভাবে সৃষ্ট অতিরিক্ত জলোচ্ছ্বাসে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
শুক্রবার দুপুর থেকেই জোয়ারের পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। ফলে উপজেলার নলচিরা, চানন্দী, চানন্দী, চরঈশ্বর, চরকিং, সুখচর, সোনাদিয়া, তমরদ্দি, জাহাজমারা, ইউনিয়নের অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়। সম্পূর্ণ তলিয়ে যায় নিঝুমদ্বীপের প্রধান সড়কটি।
জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, পুকুর-দিঘী ও এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক। এতে দুর্ভোগে পড়েছে হাজারো পরিবার। নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যানে বসবাসরত হরিণসহ অন্যান্য বন্য প্রাণীও হুমকির মুখে পড়েছে।
নিঝুমদ্বীপ নামার বাজারের বাসিন্দা এনায়েত হোসেন জানান, জোয়ারে নিঝুমদ্বীপের নামার বাজার এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বাজারের উপরে রাস্তাটি দুই ফুট উচ্চতার পানিতে তলিয়ে যায়। মানুষের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে যায়। এই এলাকার অনেকের পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। প্রধান সড়কের উপর পানি উঠে যাওয়ায় প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ ছিল নামার বাজার থেকে বন্দরটিলা বাজারের যোগাযোগ ব্যবস্থা। নিঝুম দ্বীপের দক্ষিণপাশে বেড়িবাঁধ না থাকায় অস্ববাভিক জোয়ারে সহজে পানিতে প্লাবিত হয় চারপাশ। রাতের জোয়ারে একই অবস্থা হবে বলে জানান তিনি।
একই অবস্থা বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল ঢালচর ও চরগাসিয়ায়। এই দুটি চরে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বসবাস করে। বেড়িবাঁধ না থাকায় অস্ববাভিক জোয়ারে সহজে তলিয়ে যায় লোকালয়। চরগাসিয়া জনতা বাজারের ব্যবসায়ী রিয়াজ জানান, সকাল ১১ টার মধ্যে চরে মাঠঘাট সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে যায়। চরের অধিকাংশ মানুষ সরকারি আশ্রয়ান কেন্দ্রে এসে অবস্থান করেছে অনেকেই জোয়ারের পানি নেমে যাওয়অর পর বাড়ি ঘরে ফিরে গেছেন।
অপরদিকে জননিরাপত্তার স্বার্থে হাতিয়া-চট্টগ্রাম এবং হাতিয়া-নোয়াখালী নৌরুটে লঞ্চ, স্পিডবোট ও ট্রলার চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আলাউদ্দিন জানান, হঠাৎ দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল হয়ে পড়েছে। লোকালয়ে পানি চলে এসেছে। এতে নিঝুমদ্বীপ সহ বেশ কয়েকটি এলাকার মানুষ বিপদে আছে। আমরা আমাদের মতো করে খোঁজ খবর নিচ্ছি। প্রয়োজন সকল ধরেনরে সহযোগিতা পাঠানো হবে। নদী ও সাগর উত্তাল থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে নৌ যোগাযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পুনরায় চলাচল শুরু হবে।
সময়ের আলো/এমএইচ