দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে সৌদি আরবের খেজুর চাষে সাফল্য পেয়েছেন কুয়েত ফেরত প্রবাসী জাকির হোসেন। বছরে আয় করছেন ৩০ লাখ টাকা।
জাকির হোসেনের বাড়ি ফুলবাড়ীর স্বজনপুকুরে। সেখানেই তিন বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন খেজুর বাগান। কুয়েতে থাকতে খেজুর বাগানের প্রেমে পড়েন জাকির। তখন ভেবেছিলেন, একদিন দেশে ফিরে বাগান করবেন। যেই ভাবা সেই কাজ।
বাড়ি ফিরে তিন বিঘা জমিতে শুরু করলেন খেজুর গাছ রোপণ। বর্তমানে বাগানে আছে মরিয়ম, আজওয়া, বাহির, খলিজি, আম্বার আর মেডজুল খেজুর। বাগানের পাশে এক একর জমিতে করেছেন নার্সারি। সেখানে লাগানো হয়েছে ১২ হাজারের বেশি চারা। প্রতিটি চারা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকায়। কলমি চারা বিক্রি হচ্ছে ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকায়। বাগানে কাজ করেন তিনজন শ্রমিক।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, থোকায় থোকায় ঝুলে আছে খেজুর। কোনোটা হলদে, কোনোটাতে পড়েছে লাল হলদের আবরণ। কোনোটা আবার রসে টইটম্বুর। কাছে গেলে একটা কাঁচা গন্ধ নাকে লাগে। মাদকতা চলে আসে দেহ ও মনে।
জাকির হোসেন বললেন, তিন বিঘা জমিতে সৌদি মরিয়ম, আজওয়া, বাহির, খলিজি, আম্বার আর মেডজুল এই ছয় জাতের খেজুর চাষ হচ্ছে। প্রতিটি গাছে ধরেছে লাল, হলুদ টসটসে ফল। বাগানের পাশেই এক একর জমিতে রয়েছে নার্সারি, যেখানে তৈরি হয়েছে ১২ হাজারের বেশি চারা। সাধারণ চারা বিক্রি হচ্ছে এক হাজার, আর কলমি চারা ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকায়।
জাকিরের বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে অনেকেই চারা সংগ্রহ করে নিজ জমিতে রোপণ করেছেন। জাকিরের সাফল্যে খুশি কৃষি বিভাগও। তারা নিয়মিত পরিদর্শন করছেন বাগানটি।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আফজাল হোসেন বলেন, দেশি মাটিতে বিদেশি ফল চাষ করে শুধু নিজের নয়, বদলে দিচ্ছেন এলাকার অর্থনীতিও। জাকিরের মতো মানুষদের হাত ধরে দেশে গড়ে উঠছে নতুন সম্ভাবনার কৃষি বিপ্লব। সৌদি খেজুর এখন আর মরুভূমির নয়, এটা এখন দিনাজপুরের বাস্তবতা।
আরআর