ভোটের মাঠে দেখা যেতে পারে জিয়া পরিবারের নতুন মুখ

সাব্বির আহমেদ

প্রথম পাতা

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারের নতুন কাউকে ভোটের মাঠে দেখা যেতে পারে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা

2025-08-16T00:27:16+00:00
2025-08-16T00:27:16+00:00
 
  শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬,
৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রথম পাতা
ভোটের মাঠে দেখা যেতে পারে জিয়া পরিবারের নতুন মুখ
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৫, ১২:২৭ এএম   (ভিজিট : ৪৬২)
সংগৃহীত ছবি
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারের নতুন কাউকে ভোটের মাঠে দেখা যেতে পারে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ছাড়াও প্রথমবারের মতো এবার ভোট করবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জিয়াউর রহমানের পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমানেরও নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া এবার খালেদা জিয়ার পরিবারের কয়েকজনকে ভোটের মাঠে দেখা যেতে পারে।
 
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অন্তত তিনটি আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও অন্তত একটি আসনে লড়তে পারেন। অন্যদিকে তার পুত্রবধূ জুবাইদা রহমান সিলেট-১ আসনে নির্বাচন করবেন, এটি মোটামুটি নিশ্চিত বলে জানা গেছে। সিলেট-১ আসনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা ইতিমধ্যে এলাকায় এ সংক্রান্ত পোস্টার সাঁটিয়েছেন। দেশে ফিরে গত ২৩ জুন ভোটার হয়েছেন জোবাইদা।

ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য তার তথ্য সংগ্রহ করেছে নির্বাচন কমিশন। তারেক-জুবাইদা দম্পতির একমাত্র কন্যা জাইমা রহমান এবারের নির্বাচনি মাঠে আসছেন না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে তিনি রাজনীতির অঙ্গনে ইতিমধ্যে পা রেখেছেন। গত ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে’ জাইমা রহমান যোগ দেন। সেখানে তিনি তার বাবা তারেক রহমানের প্রতিনিধিত্ব করেন। তবে জিয়াউর রহমানের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দ শামিলা রহমান ও তার দুই মেয়ের আপাতত রাজনীতিতে ও নির্বাচনে আসার সম্ভাবনা নেই।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বাবা-মায়ের পাঁচ ছেলের মধ্যে দ্বিতীয়। সবার ছোট ভাই আহমেদ কামাল ২০১৭ সালে মারা যান। জীবদ্দশায় তিনি পর্যটন করপোরেশনের জিএম হিসেবে কাজ করেন। বাকিরা অনেক আগেই মারা গেছেন। তাদের সন্তান-সন্ততি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। একমাত্র জিয়াউর রহমান ছাড়া জিয়া পরিবারের কেউ-ই রাজনীতিতে জড়াননি। আর জিয়াউর রহমানও চাইতেন না, তার পরিবারের সদস্যরা রাজনীতিতে জড়াক। যদিও খালেদা জিয়া তার ভাই-বোনকে সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত করেছেন। জিয়ার দুই সন্তানের মধ্যে ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালে মারা গেছেন। বড় ছেলে তারেক রহমান বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তার মা খালেদা জিয়ার ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যাওয়ার পর লন্ডন থেকে তারেক রহমানই দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।  

এদিকে চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে খালেদা জিয়া চতুর্থ। ১৯৮১ সালের ৩০ মে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহিদ হওয়ার পর রাজনীতির অঙ্গনে পা রাখেন গৃহবধূ খালেদা। প্রথমে দলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে তিন দফা বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন খালেদা জিয়া। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার, মা বেগম তৈয়বা মজুমদার। তারা সবাই মারা গেছেন। পৈতৃক নিবাস ফেনীর ফুলগাজী হলেও তার শৈশব-কৈশোর কেটেছে দিনাজপুরে বাবার কর্মস্থলে। খালেদা জিয়ার বড় বোন বেগম খুরশীদ জাহান হক (চকলেট) দিনাজপুরে তিনবারের সংসদ সদস্য। তিনিও মারা গেছেন ২০০৬ সালে। বেগম খুরশীদ জাহানের জ্যেষ্ঠপুত্র শাহরিয়ার আখতার হক ডন এবারের নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এবার জিয়া পরিবার থেকে আসতে পারে নতুন মুখ। যারা ভোটের লড়াইয়ে প্রার্থী হতে পারেন। বিশেষ করে বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা সামনে আসতে পারেন।

খালেদা জিয়ার ভাগনে নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এ খালাতো ভাই এবারের নির্বাচনেও মনোনয়ন চাইবেন। আরেক ভাগনে সাইফুল ইসলাম ডিউক; নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কমান্ডার। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট মামলায় কারাভোগ করেন তিনি।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান সময়ের আলোকে বলেন, জিয়া পরিবার বলতে খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, ডা. জুবাইদা রহমান ও ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। অন্যদের সেই অর্থে জিয়া পরিবারের বলা যাবে না। নির্বাচনের ডামাডোল শুরু হলে শেষ পর্যন্ত কারা ভোট করবেন, তা স্পষ্ট হবে। এর আগে সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাবে না।

খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের একজন চিকিৎসক সময়ের আলোকে বলেন, ম্যাডাম নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন; এটা মোটামুটি নিশ্চিত। যদি ওনার স্বাস্থ্যগত নতুন বড় কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হয়। এটা ওনার ইচ্ছা। ইদানীং অনেকেই তাকে নির্বাচন করার ব্যাপারে উৎসাহিত করছেন। ওনার গ্রহণযোগ্যতা অনেক। দেশের বর্তমান স্বার্থে তাকেই নির্বাচন করতে হবে বলে অনেকে বলার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ম্যাডাম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার, তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা ও ছেলে অভিক ইস্কান্দারের মধ্যে কাউকে নির্বাচনে দেখা গেলেও যেতে পারে। তারা ম্যাডামের খুবই ঘনিষ্ঠ।
  
খালেদা জিয়া গত কয়েক বছর অসুস্থতার মধ্যে থাকায় তিনি গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’য় চিকিৎসকদের পরিচর্যায় আছেন। নেতাকর্মীদের তিনি সাক্ষাৎ দেন না। তবে তার ঘনিষ্ঠ স্বজনরা বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করেন। এর মধ্যে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে চার মাস কাটান তিনি। সেখান থেকে গত ৬ মে দেশে ফেরেন। এরপর এক যুগের বেশি সময় পর গত ১০ মে দুই পুত্রবধূকে নিয়ে গুলশানে ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের বাসায় যান তিনি।

রাজনীতির বিষয়ে প্রশ্ন করলে শামীম ইস্কান্দার সময়ের আলোকে বলেন, আই হ্যাভ নো কমেন্টস। খালেদা জিয়ার কারাগারে যাওয়া এবং অসুস্থ হওয়ার পর থেকে মেজো বোন সেলিমা ইসলাম সবসময় তার পাশে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি সময়ের আলোকে বলেন, আমি নিজেই শারীরিকভাবে অসুস্থ। দেশের বাইরেও ছিলাম অনেক দিন। রাজনীতির কোনো বিষয় আমি বলতে পারব না।

এমএইচ


Loading...
Loading...
প্রথম পাতা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: