বিদ্রোহ পদত্যাগের হিড়িক টালমাটাল এনসিপি

গোলাম মোস্তফা

প্রথম পাতা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠন করে তীব্র রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জোটের গুঞ্জন শুরু

2025-12-30T00:12:18+00:00
2025-12-30T00:12:18+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রথম পাতা
বিদ্রোহ পদত্যাগের হিড়িক টালমাটাল এনসিপি
গোলাম মোস্তফা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:১২ এএম 
জাতীয় নাগরিক পার্টি। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠন করে তীব্র রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জোটের গুঞ্জন শুরু হওয়ার পর থেকেই দলটির ভেতরে শুরু হয় প্রকাশ্য বিদ্রোহ ও অসন্তোষ। আপত্তি থাকার পরেও জোট গঠনের  আগে ও পরে দলটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা ডা. তাসনিম জারাসহ একাধিক শীর্ষ নেতা পদত্যাগ করেছেন, কেউ কেউ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ দল থেকে নিষ্ক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। তাই জামায়াতের সঙ্গে জোটকে কেন্দ্র করে এনসিপির আদর্শিক অবস্থান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দায়বদ্ধতা এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে দলটির ভেতরে ও বাইরে উভয় জায়গাতেই। ফলে সব মিলিয়ে জামায়াত প্রশ্নে এনসিপির অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এখন আরও প্রকাশ্য। আর  নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে এবং আরও অনেকেই পদত্যাগ করতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া সামনে আরও বড় ভাঙনের আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মূলত জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে এনসিপি। জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতাকে ‘আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য দলের কেউ কেউ। জামায়াত নিয়ে জুলাইয়ের তরুণদের নেতৃত্বে গড়া ওঠা নতুন এই দলের বড় ধাক্কা বলেও অভিহিত করেছেন অনেকেই।

নেতাদের মতে, এ ধরনের জোট এনসিপির রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং তরুণ ও নাগরিক ভোটব্যাংককে দল থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। তবে এনসিপির নেতা বলছেন ভিন্ন কথা। এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব বলছে, জামায়াতের সঙ্গে এই সমঝোতা আদর্শিক নয়; এটি কেবল নির্বাচনী কৌশল।

জানা গেছে, জামায়াত-এনসিপি জোটের বিষয়টি চূড়ান্ত হয় শুক্রবার রাতে। রোববার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে অস্থায়ী কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয় দলটি। এর আগে দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এনসিপির সঙ্গে সমঝোতা বা জোটে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেন। এর ফলে এই জোটে এলডিপিসহ মোট দলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১টিতে। তবে এনসিপির কোনো নেতা সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন না। দলের প্রার্থীরা নিজেদের দলীয় শাপলা কলি প্রতীকেই নির্বাচনে অংশ নেবেন। আর যেসব আসনে প্রার্থী থাকবে না, ওইসব আসনে জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। তবে এই জোট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এর আগেও  দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে তদবির বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, নারী কেলেঙ্কারিসহ নানা অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনসহ দেশের সর্বত্রই ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে। এসব অভিযোগের দায় নিয়ে অনেককে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে।
আরও পড়ুন

পদত্যাগ ও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো :
দলীয় সূত্র জানায়, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে লিখিত চিঠি দিয়ে জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির অন্তত ৩০ জন নেতা। চিঠিতে বলা হয়েছে, জামায়াতের সঙ্গে জোট এনসিপির ঘোষিত মধ্যপন্থি রাজনৈতিক দর্শন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা এবং গণতান্ত্রিক নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

স্বাক্ষরকারী নেতাদের মতে, এ ধরনের জোট এনসিপির রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং তরুণ ও নাগরিক ভোটব্যাংককে দল থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বিগত এক বছর ধরে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবিরের বিভাজনমূলক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, অন্যান্য দলের ভেতরে গুপ্তচরবৃত্তি ও স্যাবোটেজ, এনসিপির ওপর বিভিন্ন অপকর্মের দায় চাপানোর অপচেষ্টা, ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) এবং পরবর্তীতে ছাত্রশক্তি বিষয়ে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার, তাদের অনলাইন ফোর্সের মাধ্যমে এনসিপি ও আমাদের ছাত্র সংগঠনের নারী সদস্যদের চরিত্রহননের চেষ্টা এবং সর্বোপরি ধর্মকে কেন্দ্র করে সামাজিক ফ্যাসিবাদের উত্থানের আশঙ্কা দেশের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত হয়ে উঠেছে। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীনসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতারা।

আর জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে প্রথমে পদত্যাগ করেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন।

শনিবার এনসিপি থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা। এদিন সন্ধ্যায় এক ফেসবুক পোস্টে তাসনিম লিখেছেন, আমার স্বপ্ন ছিল একটি রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্ম থেকে সংসদে গিয়ে আমার এলাকার মানুষের ও দেশের সেবা করা। তবে বাস্তবিক প্রেক্ষাপটের কারণে আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এরপর দল ছাড়েন যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন। তিনি জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন না। এ ছাড়া দল ছাড়ার ঘোষণা না দিলেও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। নির্বাচনী সময় দলীয় কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় থাকার কথা জানিয়েছেন আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম। জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতাকে ‘আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন।

এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে এনসিপি ছাড়েন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব মীর আরশাদুল হক। ‘দল ও বড় অংশের নেতারা ভুল পথে আছে’ উল্লেখ করে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।

গাইবান্ধা-৩ আসনে এনসিপি থেকে প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) নাজমুল সোহাগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও পরিবর্তনের আকাক্সক্ষায় জাতীয় নাগরিক পার্টি গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী একমাত্র মধ্যপন্থি রাজনীতির ভরসাস্থল ছিল। আমি জানতাম ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে একক নির্বাচনের সিদ্ধান্তই অটুট থাকবে।

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট, পদত্যাগ ও নির্বাচন নিয়ে নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, মধ্যমপন্থায় পৌঁছানো কোনো সহজ বা তাৎক্ষণিক প্রক্রিয়া নয়। ভিন্ন মতাদর্শ ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে আসা মানুষদের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টিতে মতভিন্নতা ও অভ্যন্তরীণ বিতর্ক স্বাভাবিক ও অনিবার্য। পার্টির মাত্র ১০ মাসের পথচলায় সাংগঠনিক মধ্যমপন্থার চূড়ান্ত রূপ নির্ধারিত হয়ে যাবে এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। ফল ‘ইনার পার্টি স্ট্রাগল’ একটা অবশ্যম্ভাবী বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।

সামান্তা শারমিন বলেন, পার্টির ঘোষিত অবস্থান অনুযায়ী এটি কোনো আদর্শিক জোট নয়; ফলে আদর্শিকভাবে জামায়াতের রাজনীতির বিরোধিতা করা এনসিপির অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠনের বিষয়ে এনসিপির এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মোড়। এর ফলাফলের সঙ্গে পার্টির ভবিষ্যৎ রাজনীতি অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িয়ে গেছে। একই সঙ্গে এনসিপির ভেতরে আমার নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও এই সিদ্ধান্তের পরিণতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। আমি আমার অবস্থানের রাজনৈতিক ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করব। সময়ই এর চূড়ান্ত মূল্যায়ন করবে।

এনসিপির নেতারা বলেন, কৌশলগত কারণে বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে জামায়াতসহ সমমনা সঙ্গে নির্বাচনে জোট করার নেওয়া হয়েছে। তাতে দলের নির্বাহী পরিষদদের সঙ্গে আলোচনা করে, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে জোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। কেউ দলে থাকবে কি না বা নির্বাচন করবে কি না, সেটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে যারা বিরোধিতা করছে, তাদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে শীর্ষ নেতাদের পদত্যাগ এবং  আপত্তি নিয়ে দলে ভাঙন আনছে কি না এমন  প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিপির এক নেতা সময়ের আলোকে বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটের কারণে  এনসিপির ভেতরে আরও বড় বিভাজন তৈরি হওয়ার ঝুঁকি হয়েছে এবং অনেকের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। কারণ এই জোট এনসিপির ঘোষিত আদর্শ ও গণতান্ত্রিক নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে জোটে স্বল্পমেয়াদে লাভবান হলেও দীর্ঘমেয়াদে এনসিপির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

আসিফ মাহমুদের যোগদান : এনসিপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তবে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। তিনি এনসিপির মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধানের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে তাকে।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে নাহিদের পাশে বসে থাকা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, আগামী নির্বাচনে তিনি অভ্যুত্থানের ‘সহযোদ্ধাদের’ জয়ী করতে কাজ করবেন।

এদিকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করা মাহফুজ আলম। রোববার লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসন থেকে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হলেও জমা দেওয়ার শেষ দিন সোমবার তিনি তা জমা দেননি।

সোমবার সন্ধ্যায় এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপির পক্ষ থেকে ৪৭ জন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও এটি এখনও চূড়ান্ত নয়। ভুলত্রুটি হওয়াসহ বিভিন্ন চিন্তা মাথায় রেখে বাড়তি কিছু মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এনসিপির পক্ষ থেকে মোট কতজন প্রার্থী হচ্ছেন, তা কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হবে।

এনসিপির প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়া অনেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তাদের বিষয়গুলো দলের পক্ষ থেকে সামলানো হবে। এই সময়ে আমরা যে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেটি আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতেই। ফলে দলের স্বার্থে এবং এই সময়ের রাজনীতির বৃহত্তর স্বার্থে সবাই বিষয়টি মেনে নেবে এবং তাদের যে ব্যক্তিগত আত্মত্যাগ, সেটি দল পরবর্তী সময়ে মূল্যায়ন করবে।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও প্রার্থী হচ্ছেন না মাহফুজ : এদিকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করা মাহফুজ আলম। রোববার লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসন থেকে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হলেও জমা দেওয়ার শেষ দিনে তিনি তা জমা দেননি।

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী সোমবার ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। সোমবার রাতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হন মাহফুজ আলম। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত ১০ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারিতে থেকে আন্দোলনের নীতি-কর্মসূচি প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন মাহফুজ আলম। তার আন্দোলনের সহযোদ্ধারা গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠন করেন। শুরুতে দলটিতে মাহফুজের প্রভাব থাকলেও পরে তা কমে আসে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দিতে দেখা গেছে তাকে। মাহফুজ বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষে নির্বাচন করবেন, এমন আলোচনাও শোনা গিয়েছিল।

সর্বশেষ রোববার জামায়াত ও সমমান দলগুলোর ১০ দলীয় নির্বাচনী সমঝোতায় এনসিপির যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পর মাহফুজ ফেসবুকে লেখেন, এই সমঝোতার আওতায় প্রার্থী হতে প্রস্তাব তাকেও দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি এই এনসিপির অংশ হচ্ছেন না।

এএডি/


  বিষয়:   এনসিপি  নারী  জাতীয় সংসদ নির্বাচন  প্রার্থী  তালিকা 


Loading...
Loading...
প্রথম পাতা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: