বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, উন্নয়ন, সমৃদ্ধি সবকিছুতেই টেকনোলজি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এর অপব্যবহার সমাজ, সভ্যতা বা উন্নয়ন সবকিছুর জন্য ক্ষতির কারণ।
কাজেই যদি এআই বা টেকনোলজির অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করে কেউ অপপ্রচার করে কিংবা যদি কেউ মানহানিকর কিছু করে, তা হলে এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন যেন শক্ত ভূমিকা রাখে। ইসিসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব মেকানিজম আছে। তারা সবাই মিলে এ বিষয়টা খেয়াল রাখবেন এবং আরও সক্রিয় হবেন বলে তারা বলেছেন।
রোববার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা বলেছি এটা বন্ধ করার প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ। কিন্তু যদি খুব দ্রুত ফ্যাক্টচেক করে ফেক বিষয় চিহ্নিত করেন, তা হলে নেতিবাচক প্রচারণাটা কম ক্ষতিকারক হবে। শুধু ভদ্রসম্মত কাজে তো হয় না। সে জন্য যারা এসব কাজ করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছি।
তিনি বলেন, আমি তো দলের প্রথম থেকেই আছি, নিজেকে ত্যাগী বলেই দাবি করি। কিন্তু আমি তো মনোনয়ন চাইনি, ত্যাগীরা সবার আগে দলের স্বার্থ এবং দেশের স্বার্থ দেখে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, আরপিওতে না থাকা সত্ত্বেও মনোনয়নপত্রে সন্তানেরও আয়করের হিসাব দেওয়ার বিষয়টি রাখা হয়েছে। যেটা নিয়ে সব জায়গায় একটা প্রশ্ন উঠেছে। কারণ অনেকের সন্তানরা নিজেরাই উপার্জনক্ষম এবং তারা নির্ভরশীল নন।
অনেকেই দেশের বাইরে থাকেন। অনেকেই নিজেরা আলাদাভাবেই ট্যাক্স দেন। এই বিষয়টা নিয়ে একটা জটিলতা হয়ে গেছে। যার জন্য আমরা নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছি এবং কথাও বললাম। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং তার সঙ্গে যারা ছিলেন, তারা বোঝাতে চেয়েছেন নির্ভরশীল সন্তানদের। তারা এর ব্যাখ্যা দেবেন যে এই সন্তান শব্দটার অর্থ হলো নির্ভরশীল সন্তান।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় বাড়ানোর বিষয়ে কোনো কথা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের দলের কোনো সিদ্ধান্ত নেই। এ বিষয়ে আমাদের আলোচনার কোনো ম্যান্ডেট ছিল না।
জামায়াতে ইসলামী ৩ জানুয়ারি সমাবেশ ডেকেছে, এটা নিয়ে আলোচনা করেছেন কি না জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম বলেন, আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে যেটা বুঝি, নির্বাচনি প্রচার এখন বন্ধ। যেকোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ নেই। ওনারা যা করবেন তাতে নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ হয় কি না এটা তারা আর নির্বাচন কমিশন বুঝবে।
শোনা যাচ্ছে যে এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের জোট হচ্ছে, এই বিষয়টা বিএনপি কীভাবে দেখছে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, সে হিসেবে সব রাজনৈতিক দলের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার স্বীকার করে।
যদি কোনো রাজনৈতিক দল তার ঘোষিত আদর্শ অনুযায়ী অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে চায়, সে অধিকার তাদের আছে। অবশ্য আমরা এটাও দেখলাম, তাদের এই ভাবনায় দ্বিমত পোষণ করে অনেক নেতা দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অর্থাৎ তাদের ঘোষিত আদর্শ বা ঘোষিত ভাবনার সঙ্গে তাদের এই নতুন চিন্তা বোধ হয় যাচ্ছে না। যাই হোক এটা তাদের ব্যাপার।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুই জায়গা থেকে নির্বাচনের মনোনয়নপত্র তুলেছেন। তিনি কোন আসন থেকে নির্বাচন করবেন জানতে চাইলে বিএনপির এ নেতা বলেন, বগুড়া থেকে করছেন এটা নিশ্চিত। ঢাকায় করছেন কি না এটা আমাদের দলের পক্ষ থেকে জানালে জানতে পারবেন।
সময়ের আলো/এআর