কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ও অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হওয়ার আগমুহূর্তে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গোলাগুলি ও সংঘর্ষের আশঙ্কায় শত শত রোহিঙ্গা বাড়িঘর ছেড়ে সীমান্তে জড়ো হয়েছে। তারা বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করলেও কড়া নজরদারির কারণে এপারে আসতে পারছে না দাবি করেছে বিজিবি।
কিন্তু স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে নাফ নদী পেরিয়ে ও স্থল সীমান্ত মাড়িয়ে অন্তত ১ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে।
গত শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত টেকনাফ সীমান্তঘেঁষা মিয়ানমারের মংডু ও আশপাশে জান্তা সেনা ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নাফ নদীর এপারে বসবাসরত স্থানীয় বাসিন্দারাও রাতভর গুলির শব্দ শুনেছে। এতে সীমান্তের গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সিরাজুল মোস্তফা চৌধুরী লালু বলেন, গত রাত থেকে ভোর পর্যন্ত সীমান্তের ওপারে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। সীমান্তঘেঁষা চিংড়িঘেরের শ্রমিকরা ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে এসেছেন।
বিজিবি-২ টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, কিছু রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে কাউকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সীমান্তে টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মো. জুবায়ের জানান, মংডুর দক্ষিণ মেরুল্লা এলাকায় সেনা মোতায়েনের পর শত শত রোহিঙ্গা লালদিয়া দ্বীপে জড়ো হয়েছেন। সংঘর্ষের শঙ্কায় তারা আশ্রয় খুঁজছেন। সুযোগ পেলে তারা বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করবে।
স্থানীয় রোহিঙ্গা নেতারা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার সকালে মিয়ানমার নেভির একটি জাহাজে প্রায় ৩০০ সেনা মেরুল্লায় নামানো হয়। পরে আরাকান আর্মির একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং স্থানীয় গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে অন্তত কয়েক হাজার রোহিঙ্গা বাড়িঘর ছেড়ে সীমান্তে অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও অধিকারের প্রশ্নে কক্সবাজারে আজ রোববার থেকে শুরু হচ্ছে ৩ দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে যোগ দেবেন। রোহিঙ্গারা সেখানে নিজেদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে মাতৃভূমিতে ফেরার দাবির কথা তুলে ধরবে।
রোহিঙ্গা সিভিল সোসাইটির সভাপতি সৈয়দ উল্লাহ বলেন, ‘আমরা সমতার ভিত্তিতে মাতৃভূমিতে ফিরতে চাই। সেই দাবি বিশ্ব নেতাদের সামনে তুলে ধরব।’
তবে রাখাইন রাজ্যের চলমান অস্থিরতা ও নতুন অনুপ্রবেশের চেষ্টার কারণে শরণার্থী সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, অনুপ্রবেশের তথ্য আমরা পাচ্ছি। তবে নতুন করে আরও রোহিঙ্গা এলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
এমএইচ