চাল-মরিচের দামে স্বস্তি

গোলাম রববানী হিলি (দিনাজপুর)

সারাদেশ

সরকার আমদানির অনুমতি দেওয়ায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে রেকর্ড পরিমাণ চাল আমদানি শুরু হয়েছে।এর আগে প্রায় চার মাস

2025-08-26T00:57:52+00:00
2025-08-26T00:57:52+00:00
 
  শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬,
২০ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
চাল-মরিচের দামে স্বস্তি
সরবরাহ কমায় বাড়ছে পেঁয়াজের ঝাঁজ
গোলাম রববানী হিলি (দিনাজপুর)
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫, ১২:৫৭ এএম 
ছবি : সময়ের আলো।
সরকার আমদানির অনুমতি দেওয়ায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে রেকর্ড পরিমাণ চাল আমদানি শুরু হয়েছে।

এর আগে প্রায় চার মাস দেশে চাল আমদানি বন্ধ ছিল। প্রথম দিকে চালের শুল্ককর নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা থাকলেও তা নিরসন হওয়ায় গত কয়েক দিনে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সাড়ে ১৪ হাজার মেট্রিকটন চালের চালান দেশে পৌঁছেছে। ফলে বন্দরের মোকামে কেজিতে অন্তত ২-৩ টাকা কমে পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে চাল।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, গত ১২ আগস্ট থেকে হিলি বন্দর ব্যবহার করে আমদানিকারকরা ভারত থেকে চাল আমদানি করছেন। এখন পর্যন্ত ৩৩২টি ভারতীয় ট্রাকে সাড়ে ১৪ হাজার মেট্রিকটন চাল আমদানি করা হয়েছে। বর্তমানে ২ শতাংশ শুল্কে দেশে চাল আমদানি হচ্ছে।

হিলি স্থলবন্দরের চাল আমদানিকারক ললিত কেশরা জানান, দেশে চালের বাজারে দামের অস্থিরতা ঠেকাতে ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা ভালো দিক। এই অবস্থায় আমরা চাল আমদানিকারকরা হিলি বন্দর দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণে চাল আমদানি করছি। চাল আমদানি করার ফলে দাম কমে গেছে। ভারত থেকে আসছে স্বর্ণা, শম্পা কাটারি, রত্মা ও মিনিকেটসহ বিভিন্ন জাতের চাল।

বন্দরের আমদানিকারক শাহীনুর ইসলাম জানান, ব্যাপক আকারে চাল আমদানির খবরে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকাররা আসছেন। দরকষাকষি করে তারা চাল কিনছেন। ভালো মানের চিকন চাল কেজিতে ৩ টাকা কমে ৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া আঠাশ জাতের চাল ৫৪-৫৫ টাকা আর স্বর্ণা জাতের চাল ৫২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

পাইকাররা জানান, দাম নাগালের মধ্যে আছে। প্রতিদিন আমদানি হওয়ায় বন্দরে চালের সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। আশা করছি আরও দাম কমে আসবে। চাল ছাড়াও কাঁচামরিচের আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম কমেছে।

তবে অভিযোগ উঠেছে, আমদানিকৃত কাঁচামরিচের মান তুলনামূলকভাবে খারাপ। অতিরিক্ত গরমে মরিচ পচে যাওয়ায় চাহিদা এবং দাম দুটোই কমেছে। 

সরেজমিন হিলি স্থলবন্দরে দেখা যায়, বন্দরের অভ্যন্তরে কাঁচামরিচ কেনাবেচায় ব্যস্ত ব্যবসায়ীরা। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা দরে, যা চলতি বাজার দরের তুলনায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা কম।

হিলি কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা জামান বাঁধন বলেন, হিলি স্থলবন্দরে আমদানিকৃত প্রতি মেট্রিকটন কাঁচামরিচ ৫০০ ডলারে শুল্কায়ন করা হয়েছে। প্রতি কেজিতে শুল্ক দিতে হচ্ছে ৩৬ টাকা ৭৮ পয়সা। আমদানিকৃত কাঁচা পণ্য দ্রুত ছাড়করণে কাস্টমসের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত ভারতীয় ১৬৯টি ট্রাকে মোট এক হাজার ৩০৮ টন কাঁচামরিচ আমদানি করা হয়েছে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, অতিরিক্ত গরমে আমদানিকৃত কাঁচামরিচ পচে যাওয়ার পাশাপাশি মান খারাপ হওয়ায় দাম কমেছে। 

কাঁচামরিচ আমদানিকারক সাহাবুল হোসেন বলেন, চাহিদার তুলনায় কাঁচামরিচের আমদানি বেড়ে যাওয়ায় দাম কমেছে। আমদানি হলেও তেমন ক্রেতা নেই বন্দরে। এ ছাড়া আমদানিকৃত কাঁচামরিচ গরমের কারণে পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে ১৮০ টাকার কাঁচামরিচ বাধ্য হয়ে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। আমদানি বাড়লে কাঁচামরিচের দাম আরও কমবে।

চাল ও মরিচের দাম কমায় ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি বিরাজ করলেও ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কমায় বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গত ১৭ আগস্ট থেকে ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি শুরু হয়। এতে দামে কিছুটা স্বস্তি এলেও দুদিন পরই ১৯ আগস্ট থেকে হঠাৎ নতুন করে কোনো আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) দেওয়া বন্ধ করে দেয় সরকার। 

এ কারণে বিপাকে পড়ে যান আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে কমে যায় সরবরাহ, যার প্রভাব পড়েছে পাইকারি ও খুচরা বাজারে। কয়েক দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৮ থেকে ১০ টাকা। সোমবার হিলি স্থলবন্দর ও আশপাশের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অল্প কিছু ট্রাক ভারতীয় পেঁয়াজ নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করছে। তবে তা বাজারের চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। ফলে দ্রুত বাড়ছে দাম। ইন্দোর জাতের প্রতি কেজি পেঁয়াজ আগে যেখানে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় পাওয়া যেত এখন তা ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নাসিক জাতের দামও ৫৫ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ টাকায়। 

অন্যদিকে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৬৫ টাকা থেকে বেড়ে মানভেদে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। হিলি কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ভারত থেকে ৭০টি ট্রাকে প্রায় ২ হাজার ৮৭ মেট্রিকটন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। 

বন্দর এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ী শাকিল বলেন, আমদানি শুরু হলে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছিল। কিন্তু আইপি বন্ধ হওয়ার পর ফের দাম বেড়ে গেছে। এতে ক্রেতারা যেমন ভোগান্তিতে পড়ছেন তেমনি আমরাও সমস্যায় আছি। 

আমদানিকারক নুর ইসলাম বলেন, সরকার হঠাৎ নতুন আইপি বন্ধ করে দেওয়ায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সীমিত কয়েকটি ট্রাক আসছে ঠিকই, কিন্তু তা দিয়ে দেশের চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। এজন্যই দাম বাড়ছে।

এমএইচ


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: