দক্ষিণাঞ্চলে লঞ্চ চলাচল বন্ধ

আতিকুর রহমান ঝালকাঠি

সারাদেশ

ঘন কুয়াশার কারণে নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে রাজধানীর সদরঘাট থেকে দক্ষিণাঞ্চলের সব রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন

2025-12-30T01:28:30+00:00
2025-12-30T01:28:30+00:00
 
  সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬,
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
দক্ষিণাঞ্চলে লঞ্চ চলাচল বন্ধ
নদীতে ঘন কুয়াশা
আতিকুর রহমান ঝালকাঠি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:২৮ এএম 
ফাইল ছবি
ঘন কুয়াশার কারণে নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে রাজধানীর সদরঘাট থেকে দক্ষিণাঞ্চলের সব রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

রোববার বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে। এদিকে কোনোরকম আগাম ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

এ সংক্রান্ত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঘন কুয়াশার কারণে নৌপথের দৃশ্যমানতা কমে আসায় যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে চাঁদপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের সব রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া যেসব লঞ্চ এরই মধ্যে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়ে মাঝপথে রয়েছে সেগুলোকে অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল অধ্যাদেশ ১৯৭৬ অনুযায়ী নিরাপদ স্থানে নোঙর করে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঢাকা নদীবন্দরের (সদরঘাট) যুগ্ম পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক) মুহম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, সন্ধ্যার পর থেকেই বুড়িগঙ্গা ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায়। সামনে কিছুই দেখা যায় না। বড় নদীগুলোতে কুয়াশা আরও ভয়াবহ। এ অবস্থায় লঞ্চ চালানো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে। কুয়াশা না কাটা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

যাত্রীদের অভিযোগ, আগে থেকে আবহাওয়া বার্তা বা লঞ্চ বন্ধের তথ্য না পাওয়ায় তারা মালামাল ও পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। অনেকে লঞ্চ ছেড়ে আবার পরিচিত জনদের বাসাবাড়িতে ফিরেছেন। যাত্রীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ জানায়, সাধারণত দক্ষিণাঞ্চলের লঞ্চগুলো সন্ধ্যার পরই ঘাট ছাড়ে। তবে এত বেশি ঘন কুয়াশা পড়বে সেই তথ্য আবহাওয়া অধিদফতর থেকে আগেভাগে তাদের দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে ঘন কুয়াশার কারণে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। সেই দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ কোনো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। কুয়াশা পুরোপুরি না কাটা পর্যন্ত কোনো নৌযানকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। বৃদ্ধ আব্দুল মালেক ও তার স্বজনরা বলেন, ঢাকার একটি হাসপাতালে ১০ দিন চিকিৎসার পর বাড়ি ফেরার কথা ছিল। মিরপুর থেকে অনেক কষ্ট করে সদরঘাটে এসে জানতে পারি লঞ্চ চলবে না।

এই অসুস্থ শরীর নিয়ে এখন কোথায় যাব? থাকার জায়গাও নেই, টাকাও শেষ।

একই অবস্থা পোশাক শ্রমিক মরিয়ম বেগমেরও। তিনি গাজীপুর থেকে অনেক কষ্টে জ্যাম ঠেলে সদরঘাটে পৌঁছান কাঁঠালিয়ার আমুয়া যাওয়ার জন্য। কিন্তু ঘাটে এসে দেখেন লঞ্চ বন্ধ। তার কথায়, আগে থেকে জানলে আসতেন না তিনি। বাচ্চা নিয়ে কনকনে শীতে সারা রাত ঘাটে বসে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই তার।

এএডি/


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: