প্রকাশ: বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২:৪৬ এএম
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিঙ্গা এলাকায় কর্নপুর গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চরম শিক্ষার্থী সংকটে ভুগছে। ছবি : সময়ের আলো গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিঙ্গা এলাকায় অবস্থিত কর্নপুর গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বর্তমানে চরম শিক্ষার্থী সংকটে ভুগছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাক্সিক্ষতসংখ্যক শিক্ষার্থী না থাকা, শিশুদের খেলাধুলার জন্য মাঠের অভাব, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট না থাকাসহ নানা সংকটে ক্রমাগত কমে যাচ্ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে বিদ্যালয়টির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের। কর্নপুর গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর বিপরীতে বর্তমানে পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত। স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষার্থী সংকটের কারণে বিদ্যালয় চলাকালে শিক্ষকরা কার্যত অলসভাবে কাটাচ্ছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিন বিদ্যালয়ে দেখা যায়, কোনো শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নেই। বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে দরজা বন্ধ করে পাঁচজন শিক্ষক বসে ছিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, শীতের কারণে দরজা বন্ধ করে একসঙ্গে বসে আছেন তারা।
প্রথম দিকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তথ্য দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করলেও পরে জানা যায়, বর্তমানে প্রথম শ্রেণিতে ১৯ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১৪ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ১৬ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ১১ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৭ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। তবে সর্বশেষ বার্ষিক পরীক্ষায় কতজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে সে বিষয়ে কোনো লিখিত প্রমাণ দেখাতে পারেননি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
এদিকে, গত ৩০ ডিসেম্বর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের নির্দেশনা থাকলেও কর্নপুর গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তা প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগম বলেন, আমরা ৩১ ডিসেম্বর ফলাফল প্রকাশ করব। শিক্ষার্থী সংকটের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই, ভালো ওয়াশব্লক নেই। এসব কারণে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। আশপাশে আরও কয়েকটি বিদ্যালয় থাকায় অনেক শিক্ষার্থী সেসব বিদ্যালয়ে চলে যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন বলেন, বিদ্যালয়টিতে কাক্সিক্ষতসংখ্যক শিক্ষার্থী না থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের জমির অবস্থান ও কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে গাজীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদ ভূইয়া বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও আশ্বাস প্রদান করেন গাজীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদ ভূইয়া। জানা গেছে, ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টিতে চার কক্ষবিশিষ্ট একটি দ্বিতল ভবন থাকলেও শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য কোনো খেলার মাঠ নেই। বিদ্যালয়ের সামনে থাকা একটি সরকারি পুকুর ভরাট করে মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেটি এখনও খেলাধুলার উপযোগী করা হয়নি। পুকুর ভরাট করা জায়গাটি বিদ্যালয় ভবনের চেয়ে প্রায় ৭-৮ ফুট নিচু হওয়ায় মাঠ হিসেবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া জমি সংকটের কারণে বিদ্যালয়টিতে স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াশব্লক নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিদ্যালয়ের সামনে টিনের ছাপরা দিয়ে নির্মিত খোলা টয়লেটই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে রয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময় কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি। এ অবস্থার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের দুর্বল মনিটরিং ব্যবস্থাকেই দায়ী করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গুচ্ছগ্রাম ও আশপাশের এলাকার শিশুদের জন্য বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলেও পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করাচ্ছেন। তবে লেখাপড়ার মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের আন্তরিকতা, আলাদা খেলার মাঠ বরাদ্দ, ভবন সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হলে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে পারে বলে তারা মনে করেন।
সময়ের আলো/এনএ