তিন গরু থেকে দেড় শতাধিক গরুর খামার

মেহেরাব হোসেন শিবচর (মাদারীপুর)

সারাদেশ

প্রবাসে না গিয়েও দেশে বসে গরু পালন করে সফলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা লিয়ন ঢালী।

2025-12-29T03:43:07+00:00
2025-12-29T03:47:10+00:00
 
  সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬,
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
তিন গরু থেকে দেড় শতাধিক গরুর খামার
মেহেরাব হোসেন শিবচর (মাদারীপুর)
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৩:৪৩ এএম  আপডেট: ২৯.১২.২০২৫ ৩:৪৭ এএম
মাদারীপুরের শিবচরে নিজ খামারে গরুকে খাবার খাওয়াচ্ছেন তরুণ উদ্যোক্তা লিয়ন ঢালী। ছবি : সময়ের আলো
প্রবাসে না গিয়েও দেশে বসে গরু পালন করে সফলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা লিয়ন ঢালী। ছোটবেলা থেকেই গরুর প্রতি ভালোবাসা আর যত্নের হাত ধরেই আজ তিনি গড়ে তুলেছেন একটি আধুনিক ও লাভজনক গরুর খামার।
 
লিয়নের বাবা বাড়িতে তিনটি গরু পালন করতেন। সেই গরুগুলোর দেখাশোনা করতে করতেই শিশুকাল থেকে গরুর প্রতি আলাদা টান তৈরি হয় তার। গরুর যত্ন নেওয়ার প্রতি ছিল বাড়তি মনোযোগ। এই ভালোবাসা থেকেই ধীরে ধীরে খামার গড়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তিনি। শুরুটা ছিল মাত্র তিনটি গরু দিয়ে। গরুর সংখ্যা পাঁচে পৌঁছালে খামারের স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেন লিয়ন। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পরামর্শ গ্রহণ এবং নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আজ তার খামারে গরুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড়শতে।

আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনাই তার সফলতার মূল চাবিকাঠি। খামারে গরুগুলোকে প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা হয়। গরুকে এক জায়গায় বেঁধে না রেখে চলাচলের জন্য রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত খোলা জায়গা। গরুর খাদ্যের জন্য ভুট্টা, হাইব্রিড ঘাস ও ধানসহ প্রয়োজনীয় খাবার তিনি নিজেই উৎপাদন করেন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় গরুর প্রাথমিক চিকিৎসাও এখন নিজেই দিতে পারেন তিনি।

প্রাকৃতিক পদ্ধতি ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে পরিচালিত হওয়ায় তার খামারের গরুগুলো স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি দুধ দিচ্ছে। বর্তমানে এই খামার থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪২০ লিটার দুধ সংগ্রহ করা হচ্ছে। মাসিক দুধ বিক্রি থেকে আয় হচ্ছে প্রায় ৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। ব্যয় বাদ দিয়ে তার মাসিক নিট আয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার টাকা। এই খামারের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান হয়েছে অন্তত ৯ জনের।

খামারের ম্যানেজার হালান খান বলেন, লিয়ন ভাইয়ের খামারের কারণে আমাদের আয়ের পথ তৈরি হয়েছে। পরিবার নিয়ে ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারছি। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসে কীভাবে গরুর খামার করতে হয়, তা শিখতে।

খামারের পরিচ্ছন্নতাকর্মী সাদ্দাম মিয়া বলেন, পাঁচ বছর ধরে এখানে কাজ করছি। এখানকার আয় দিয়েই আমার পরিবার চলে। আমাদের এই খামারের মতো খামার সারা মাদারীপুরে আর নেই।

নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে লিয়ন ঢালী বলেন, যারা গরুর খামার করতে চান, তারা কেনা গরুর চেয়ে পালের গরু দিয়ে গাভি তৈরি করার চেষ্টা করুন এতে লাভ বেশি হয়। শুধু দূরে বসে টাকা খরচ করলে সফলতা আসে না। নিজে সরাসরি যুক্ত থেকে পরিশ্রম করলেই সফল হওয়া সম্ভব।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তা হরিশ চন্দ্র বোস বলেন, লিয়ন ঢালীর খামার আমরা একাধিকবার পরিদর্শন করেছি। তিনি নিয়মিত আমাদের কাছ থেকে পরামর্শ নেন। আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা ও সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনার কারণে তার খামারটি দিন দিন উন্নতি করছে। রোগবালাইও প্রায় নেই বললেই চলে। সরকারি প্রশিক্ষণের সময় নতুন উদ্যোক্তাদের আমরা এই খামার দেখাতে নিয়ে যাই, যা তাদের আরও উৎসাহিত করে। 

সময়ের আলো/এআর

  বিষয়:   গরু  খামার 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: