রেকর্ড উৎপাদনেও দুর্দশায় চাষিরা

মাহী ইলাহি রাজশাহী

সারাদেশ

গত মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ আলুর ফলন হয়েছিল। উৎপাদন দেখে চাষিরা খুশি হলেও বাজারে দাম না পাওয়ার কারণে হতাশ হন। অতিরিক্ত

2025-12-29T03:37:37+00:00
2025-12-29T03:37:37+00:00
 
  সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬,
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
রেকর্ড উৎপাদনেও দুর্দশায় চাষিরা
মাহী ইলাহি রাজশাহী
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৩:৩৭ এএম 
সংগৃহীত ছবি
গত মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ আলুর ফলন হয়েছিল। উৎপাদন দেখে চাষিরা খুশি হলেও বাজারে দাম না পাওয়ার কারণে হতাশ হন। অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম কমে গেছে। এ কারণে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর কয়েক হাজার কৃষককে আর্থিক সংকটে পড়তে হয়েছে। 

আবার ঋণ করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় আছেন চাষিরা। কিন্তু উত্তরাঞ্চলের হিমাগারগুলোতে এখনও ২০ শতাংশ আলু মজুদ আছে। এগুলো বের করে নিতে তাগাদা দিচ্ছেন হিমাগার মালিকরা। বেশি উৎপাদন ও দাম না পাওয়াকে ‘দ্বিগুণ সংকটের মুখোমুখি’ বলছেন চাষিরা। 

তারা জানিয়েছেন, হিমাগারে সংরক্ষিত আলু বিক্রিতে ক্রেতার অভাব ছিল। যে কারণে আলুতে এবার কয়েকগুণ লোকসান হয়েছে। অন্যদিকে প্রাথমিক ফসল প্রতি কেজি ৮-১০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিল, যা উৎপাদন খরচের অর্ধেকেরও কম। এ জন্য চাষিরা দায়ী করছেন দুুর্বল বাজার নিয়ন্ত্রণ, বাজার পূর্বাভাসের অভাব এবং অকার্যকর সরকারি হস্তক্ষেপকে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর এবং উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের ভাষ্য মতে, সারের দাম বৃদ্ধি, সেচের জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে এই মৌসুমে আগাম জাতের ফসলের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। কিন্তু এ বছর বাজার তাদের সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ করেছে। পাইকারি দামের নিম্নমুখী পরিস্থিতির বিপরীতে কৃষকরা আগাম জাতের আলুর গড় উৎপাদন খরচ প্রতি কেজি ২০-২৫ টাকা অনুমান করেছিলেন। কিন্তু তার অর্ধেক দামেও বিক্রি হয়নি।

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, এক কেজি আলু (নতুন আলু) উৎপাদন করতে আমার প্রায় ২২ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু প্রতি কেজি ১০ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। বাজারে এখনও পুরাতন আলু ভরে আছে। দামও কম। তাই নতুন আলুর চাহিদা কম।

সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত মৌসুমে আনুমানিক ৯০ লাখ টনের অভ্যন্তরীণ চাহিদার বিপরীতে রেকর্ড ১.১৫ কোটি টন আলু উৎপাদন হয়েছিল। যার ফলে ২০ লাখ টনেরও বেশি আলু উদ্বৃত্ত ছিল। কিন্তু নওগাঁসহ উত্তরের জেলাগুলোতে  আলু গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। 

যার দাম প্রতি কেজি ৭-১০ টাকায় নেমে এসেছে, যা ফসল কাটা এবং পরিবহন খরচ মেটানোর জন্য যথেষ্ট। অতিরিক্ত উৎপাদন সরবরাহ শৃঙ্খলকে আটকে দিয়েছে। নতুন ফসল বাজারে আসার পরেও হিমাগারগুলোতে এখনও প্রচুর পরিমাণে মজুদ রয়েছে। 

হিমাগার মালিকরা বলছেন, গত মৌসুমের সংরক্ষিত আলুর ১৫-২০ শতাংশ অবিক্রিত রয়ে গেছে।

বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী শাখার সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান বলেন, বাজারের দাম হিমাগারের ভাড়ার চেয়ে কম হওয়ায় কৃষকরা তাদের আলু ছাড়তে চাচ্ছেন না। হিমাগারের গেটে আলুর দাম প্রতি কেজি ৪-৫ টাকায় নেমে এসেছে। যেখানে স্টোরেজ ভাড়া প্রতি কেজি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা।

গত আগস্ট মাসে সরকার কৃষকদের সুরক্ষার জন্য হিমাগারের গেটে প্রতি কেজিতে সর্বনিম্ন ২২ টাকা মূল্য ঘোষণা করেছিল। কিন্তু কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা বলেন, চার মাস পার হয়ে গেলেও এই নির্দেশ বাস্তবায়িত হয়নি। বাজার স্থিতিশীল করার জন্য সরকার ৫০ হাজার টন উদ্বৃত্ত আলু সংগ্রহের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছিল। কিন্তু চাষিরা বলেন, এই পরিকল্পনাটিও আলোর মুখ দেখেনি।

তানোর উপজেলার আলু ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান বলেন, হিমাগার থেকে আলু বাইরে নিলে প্রতি বস্তা ভাড়া ৪৫০ টাকা দিতে হবে। কিন্তু বাজারে সেই বস্তার দাম মাত্র ২০০ টাকা। হিমাগারে যেসব কৃষকদের আলু আছে তারা আর পরিদর্শনে যাচ্ছেন না। হিমাগারের মালিকরাও আলু বিক্রি করতে অনুরোধ করছেন।

কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, আলুর কারণে অনেক কৃষক ঋণের মধ্যে পড়ে গেছেন। কৃষকদের একটি বড় অংশ ব্যাংকঋণ এবং ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার ওপর নির্ভরশীল। ক্রমবর্ধমান দুর্দশা সত্ত্বেও সরকারি হস্তক্ষেপ মূলত অকার্যকর রয়ে গেছে। সিদ্ধান্তগুলো কেবল কাগজে-কলমেই থাকে।

দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির ফলে কৃষকরা আসন্ন মৌসুমে আলু চাষ কমাতে বাধ্য হতে পারে, যা ভবিষ্যতে সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ইলিয়াস হোসেন। 

তিনি বলেন, বারবার লোকসানের কারণে যদি কৃষকরা আলু চাষ কমিয়ে দেন, তা হলে ভবিষ্যতে দামের তীব্র অস্থিরতা এবং সরবরাহের ধাক্কা দেখা দিতে পারে। 

সময়ের আলো/এআর

  বিষয়:   রেকর্ড  উৎপাদন  চাষি 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: