বাড়তি দামের সয়াবিন না আসতেই মূল্যবৃদ্ধি

সাইফুদ্দিন তুহিন চট্টগ্রাম

প্রথম পাতা

বিদেশ থেকে অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি প্রচুর। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি হয় ২৭ লাখ মেট্রিক টনের বেশি।

2025-09-22T23:13:47+00:00
2025-09-22T23:13:47+00:00
 
  শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬,
২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
প্রথম পাতা
বাড়তি দামের সয়াবিন না আসতেই মূল্যবৃদ্ধি
সাইফুদ্দিন তুহিন চট্টগ্রাম
প্রকাশ: সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১১:১৩ পিএম   (ভিজিট : ২৭২)
ফাইল ছবি
বিদেশ থেকে অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি প্রচুর। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি হয় ২৭ লাখ মেট্রিক টনের বেশি। দেশের রিফাইনারিগুলোতে পরিশোধন করে উৎপাদনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত আছে। বৃহৎ উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোর গুদামে অপরিশোধিত এবং পরিশোধিত দুই ধরনের সয়াবিনসহ ভোজ্য তেল লাখ লাখ টন মজুদ আছে। এই অবস্থায় ভোজ্য তেলের বাজার ফের অস্থির হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দুটি কারণে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং রেট বৃদ্ধি। আরেকটি আমদানিতে উৎসে কর আরোপ। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, গুদাম ভর্তি আছে অপরিশোধিত বাড়তি দামের সয়াবিন না আসতেই মূল্যবৃদ্ধি সয়াবিন তেল। আমদানির অনুমতি নেওয়া ভোজ্য তেলের বেশিরভাগ সরবরাহ পৌঁছে গেছে দেশে। বুকিং রেট বাড়লে দেশের বাজারে এখনই দাম বৃদ্ধির প্রয়োজন নেই।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বলছে, উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের গোডাউনে আরও ছয় মাসের সয়াবিনসহ ভোজ্য তেল মজুদ আছে। যা দিয়ে আগামী রমজান পর্যন্ত চলবে। বুকিং রেট বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দাম বৃদ্ধির জন্য তোড়জোড় করার কোনো প্রয়োজন নেই। সাধারণ ক্রেতাদের পকেট কাটার জন্য দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।

এদিকে সোমবার ঢাকায় সচিবালয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈঠকে ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে লিটারপ্রতি কত এবং কখন থেকে বাড়ানো হবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়নি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভোজ্য তেল আমদানিতে ১ শতাংশ হারে উৎসে কর ধার্য করেছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরা বলছেন আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ছে সয়াবিনের বুকিং রেট। কর আরোপ করার পরই বাজারে দামের লাগাম ধরে রাখা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ভোজ্য তেল আমদানিতে কখনো উৎসে কর আরোপ করা হয়নি। এমনিতে বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধির জেরে খুচরা বাজারে দাম বাড়ানোর দাবি আছে। এ অবস্থায় ১ শতাংশ হারে উৎসে কর আরোপ করায় ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

এনবিআর গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে সয়াবিন, সানফ্লাওয়ার, পাম ও ভুট্টার তেল আমদানিতে এক শতাংশ উৎসে কর আরোপ করেছে। এরপর থেকে ভোজ্য তেলের বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে খাতুনগঞ্জের আড়ত থেকে পাইকারিতে বেশি দামে ভোজ্য তেল সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। তবে আড়তদাররা বেশি দামে এখনই ভোজ্য তেল সরবরাহের অভিযোগ স্বীকার করেছেন না। এর আগে সরকার সয়াবিন, সানফ্লাওয়ার, পাম ও ভুট্টার তেল আমদানিতে অগ্রিম কর ও ভ্যাট থেকে ছাড় দিয়েছিল। এবার উৎসে কর আরোপের কারণে অগ্রিম কর ভ্যাট ছাড়ের সুফল নাও মিলতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, উৎসে করের কারণে আমদানি ব্যয় বাড়বে।

চট্টগ্রামের বৃহত্তম আড়ত চাক্তাই খাতুনগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারি হারে ভোজ্য তেল বিক্রি হয়। বিক্রি করা এসব ভোজ্য তেল দেশের খুচরা ব্যবসায়ীরা বাজারজাত করেন। সাধারণ খুচরা ক্রেতারা বাজার কিংবা অলিগলির মুদি দোকান থেকেই ভোজ্য তেলগুলো কেনেন।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, ১ শতাংশ হারে উৎসে কর আরোপ করায় তেলের দাম বাড়বে। বাড়তি দামে বিক্রি না করার উপায় নেই। বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎসে করের প্রভাব এখনই পড়েছে বাজারে। এক ভাগ উৎসে কর আরোপ মানে অনেক টাকা। আমদানিকারকরা একদিকে বেশি দামে ভোজ্য তেল কিনতে বাধ্য হবেন। অন্যদিকে উৎসে করের কারণে আমদানিতে ব্যয় বাড়বে। এতে সাধারণ ক্রেতারাও দুর্ভোগের মুখে পড়বেন।

খাতুনগঞ্জের ভোজ্য তেলের আড়তদার এমদাদুল হক রায়হান সময়ের আলোকে বলেন, ভোজ্য তেলে উৎসে কর আরোপ করার কথা কখনো শুনিনি। এই ভোজ্য তেলে সরকার ১ শতাংশ হারে উৎসে কর আরোপ করেছে। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের বুকিং রেট অনেক বেশি। বেড়েই চলেছে বুকিং রেট। এ অবস্থায় উৎসে কর ব্যবসায়ীদের নতুন করে সংকটে ফেলেছে। সোজা কথায় ক্রেতাদের কাছে বেশি দামে ভোজ্য তেল বিক্রি করতে হবে। এতে সাধারণ ক্রেতারা আবার দাম বৃদ্ধির কারণে ক্ষতির মুখে পড়বেন।

দেশের অন্যতম ভোজ্য তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ। চট্টগ্রামে তাদের বিভিন্ন প্ল্যান্টে আমদানি করা সয়াবিন পরিশোধন করে ভোজ্য তেল উৎপাদন করা হয়। গত বছরের ৫ আগস্টের পর এই গ্রুপের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। এরপর আমদানির জন্য ব্যাংকে ঋণপত্র (এলসি) খোলা বন্ধ রয়েছে। এতে তাদের চট্টগ্রামের ভোজ্য তেলের কারখানায় উৎপাদন হচ্ছে সর্বনিম্ন পর্যায়ে।

এস আলম গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন রানা সময়ের আলোকে বলেন, আমাদের প্ল্যান্ট থেকে আগে যে পরিমাণ ভোজ্য তেল উৎপাদন ও বাজারে সরবরাহ হতো তা বলতে গেলে নেই। চট্টগ্রামে আমাদের ভোজ্য তেলের কারখানায় সর্বনিম্ন পর্যায়ে উৎপাদন হচ্ছে। তাই এস আলম ব্র্যান্ডের ভোজ্য তেলের সরবরাহ নেই বললেই চলে। যা উৎপাদন হচ্ছে তা দিয়ে কেবল দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করা হচ্ছে।

ব্যাংকে এলসি খোলা বন্ধ থাকায় অপরিশোধিত সয়াবিন আমদানি হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, উৎসে কর আরোপ করার পাশাপাশি বুকিং রেট বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দাম বাড়তে পারে।

উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র, সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক ড. শাহ আলম সময়ের আলোকে বলেন, অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানির আগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আমাদের কাছ থেকে অনুমতি নেয়। সে হিসেবে শুধু সয়াবিন আমদানির মাস বা বার্ষিক পরিসংখ্যান আমাদের বিভাগে সংরক্ষিত থাকে। ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত শুধু সয়াবিন আমদানি হয়েছে ২৭ লাখ  ৮ হাজার ৬৯৬ মেট্রিক টন। যা অপরিশোধিত সয়াবিন তেল। এর মধ্যে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে ৭ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। এ সময়ে অনুমতি নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো আমদানি করেছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৯৯১ মেট্রিক টন সয়াবিন।

দেশের অন্যতম ভোজ্য তেল আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান টিকে গ্রুপ। এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, এক ভাগ হারে উৎসে কর বাড়ানোর কারণে আমদানি ব্যয় বাড়বে সন্দেহ নেই। তবে আমরা মনে করছি উৎসে করের চেয়ে বুকিং রেট বৃদ্ধির কারণে দামের তারতম্য হবে। তাই আমরা লিটারপ্রতি দাম বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব দিয়ে রেখেছি। বিষয়টি নিয়ে আমাদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হয়েছে।

বুকিং রেট বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে ১ হাজার ২০০ ডলার ছুঁয়েছে। এ ছাড়া সয়াবিন ও পাম অয়েলের দামও ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করা হয় ১৮৯ টাকা ও পাম অয়েল ১৬৯ টাকা। এরপর ১২ আগস্ট পাম অয়েলের দাম কমানো হয়। পাম অয়েলের দাম ১৯ টাকা কমিয়ে লিটারপ্রতি ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে এ সময় সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ছিল ১৮৯ টাকা। এবার সেই দাম আরও বাড়ানোর তোড়জোড় চলছে।

চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের সংশ্লিষ্টরা জানান, ভোক্তা পর্যায়ে ভোজ্য তেলের চাহিদা বাড়ছে। গড় হিসাবে প্রতি বছর ভোজ্য তেলের চাহিদা প্রায় ২৪ লাখ টন। গত জুলাই মাসে ব্যাংকে তিন লাখ মেট্রিক টনের বেশি সয়াবিন আমদানির এলসি খোলা হয়। আমদানি করা ভোজ্য তেলের মধ্যে পাম অয়েল পরিশোধিত আকারে দেশে আনা হয়। আর দেশের বৃহত্তম বড় কয়েকটি গ্রুপ অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি করে। পরে এসব সয়াবিন নিজেদের রিফাইনারিতে পরিশোধন করে বাজারজাত করা হয়। বড় কয়েকটি গ্রুপের আমদানির পরিমাণ আমদানির প্রবাহের ওপর সয়াবিনের দাম ওঠানামা নির্ভর করে। বলতে গেলে কয়েকটি গ্রুপই সয়াবিনের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে।

এস আলম গ্রুপের ঢাকা কার্যালয়ে কর্মরত মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, এক ভাগ হারে উৎসে কর আদায় করলে ভোজ্য তেলের দাম বাড়বে। এক ভাগ মানে অনেক টাকা। এস আলম গ্রুপের ভোজ্য তেল পরিশোধন কারখানা মিনিমাম পর্যায়ে রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগে এসব তেল আমদানিতে উৎসে কর ছিল না। এখন উৎসে কর আরোপ করার কারণে গ্রাহক পর্যায়ে বাড়তি দাম নেওয়া হতে পারে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগের সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন সময়ের আলোকে বলেন, বুকিং রেট যখন কম ছিল তখন দেশের বাজারে দাম কমায়নি ব্যবসায়ীরা। উল্টো তখনও দাম বাড়িয়েছিল। ওই সময় বিদেশ থেকে আমদানি করা সয়াবিন এখন দেশের উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের গোডাউনে ভর্তি করা আছে। এসব মজুদ সয়াবিন দিয়ে আগামী রমজান পর্যন্ত চাহিদা মেটানো যাবে। যদি বাড়তি রেটে সয়াবিন আমদানিও করতে হয় তা গোডাউন পর্যন্ত পৌঁছতে অন্তত চার মাস লাগবে। কিন্তু এখনই দাম বৃদ্ধির চেষ্টা তদবির করা হচ্ছে ক্রেতাদের পকেট কাটার জন্য।

চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাইকাররা দাম বেশি নেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছেন। বহদ্দারহাট বাজারের আরজু স্টোরের ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, পাইকাররা সরাসরি বেশি দাম এখনও চায়নি। তবে মনে হচ্ছে দাম বাড়াবে। রবি ও সোমবার টিকে গ্রুপের পুষ্টি সয়াবিন তেল পলিপ্যাক প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ১৮০ টাকা। রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের পলিপ্যাক প্রতি লিটার ১৮৬ টাকা। দুটি ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম কিছুটা বেশি। এর মধ্যে পুষ্টি প্রতি লিটারের বোতল ১৯০ টাকা এবং রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের ২ লিটারের বোতল ৩৮৬ টাকা। এসব সয়াবিন তেল আমাদের কাছ থেকে কিনে অলিগলির মুদি দোকানে লিটারে ৭-৮ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছেন।

সময়ের আলো/ এসকে/ 


Loading...
Loading...
প্রথম পাতা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: