২ বছর পর খুলছে কেওক্রাডং, স্বস্তিতে ব্যবসায়ীরা

বান্দরবান প্রতিনিধি

সারাদেশ

দুই বছর পর আগামীকাল ১ অক্টোবর থেকে বান্দরবানের রুমা উপজেলার পাহাড়চূড়ায় নির্মিত জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র কেওক্রাডং পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করেছে

2025-09-30T13:22:24+00:00
2025-09-30T13:22:47+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
২ বছর পর খুলছে কেওক্রাডং, স্বস্তিতে ব্যবসায়ীরা
বান্দরবান প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১:২২ পিএম  আপডেট: ৩০.০৯.২০২৫ ১:২২ পিএম
কেওক্রাডংয়ের চূড়া। ছবি : সংগৃহীত
দুই বছর পর আগামীকাল ১ অক্টোবর থেকে বান্দরবানের রুমা উপজেলার পাহাড়চূড়ায় নির্মিত জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র কেওক্রাডং পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করেছে জেলা প্রশাসন। এতে স্বস্তি ফিরে এসেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মাঝে।

পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, কেওক্রাডং দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় পুরো রুটে ব্যবসা একেবারে ধুঁকছিল। অনেক দোকানপাট বন্ধ হওয়ার উপক্রম ছিল। চলতি বছরের ৬ জুন রুমার বগালেক উন্মুক্ত হওয়ার পর কিছুটা আশার আলো জেগেছিল। এবার কেওক্রাডং খোলায় পর্যটকের পদচারণায় আবারও মুখর হয়ে উঠবে পাহাড়ি এই রুট। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে বিগত বছরের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া যাবে। 

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের দাবি, ধাপে ধাপে অন্যান্য স্পটও খুলে দেওয়া হলে বান্দরবানের পর্যটন ব্যবসা পুরোদমে আবারও চাঙ্গা হয়ে উঠবে।

রুমার বগালেক-কেওক্রাডং রুটে গাড়িচালক মনির হোসেন বলেন, টুরিস্ট না থাকায় গাড়িচালকরা অনেকেই অন্য পেশায় চলে গিয়েছিলেন। কেউ কেউ মালামাল পরিবহন করে জীবিকা চালাচ্ছিলেন। এখন পর্যটক এলে আবারও বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

টুরিস্ট গাইড মংক্য সিং মারমা বলেন, স্পট বন্ধ থাকায় অনেকেই বেকার হয়ে পড়েছিলেন। কেউ কেউ নিরুপায় হয়ে পেশা ছেড়ে দেন। তবে কয়েক মাস আগে বগালেক খোলার পর আবার পর্যটক আসা-যাওয়া শুরু হয়। এখন কেওক্রাডং খুলে দেওয়ায় আমরা অনেক খুশি।

রুমা টুরিস্ট গাইড অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সাফুল বড়ুয়া বলেন, রুমায় বগালেক প্রশাসনের পক্ষ থেকে চালু হওয়ার পর থেকেই পর্যটনে ভালো সাড়া মিলছে। কেওক্রাডং উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকে প্রবেশ আরও বাড়বে। সরকারি ছুটি সামনে থাকায় পর্যটক সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছি।

তিনি আরও বলেন, রুমায় বর্তমানে ৬১ জন অনুমোদিত ট্যুর গাইড আছেন। প্রতি ১৪ জন পর্যটকের জন্য একজন করে গাইড দায়িত্ব পালন করেন। একইভাবে প্রতি ৬টি মোটরবাইকের জন্য একজন গাইড ইন করা হয়। গাইড ভাড়া একদিনের জন্য ১ হাজার টাকা এবং রাতযাপন করলে ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।


জেলা আবাসিক হোটেল-মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন বলেন, চলতি বছরে গত ৬ জুন রুমার বগালেক এবং থানচির তিন্দু ও তুমাতুঙ্গি এলাকায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। এর পর থেকে পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে কেওক্রাডং খোলার পর পর্যটন আরও বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে জেলা জুড়ে হোটেল-মোটেলগুলো ১ অক্টোবর পর্যন্ত পুরোপুরি বুকিং হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্টে ১০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তবে তিনি থানচির নাফাখুম পর্যটকদের জন্য দ্রুত উন্মুক্ত করার দাবিও জানান।

এ বিষয়ে রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের জন্য পুলিশ ও সেনাবাহিনী সার্বিক সহযোগিতা করছে। ফলে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।

জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, সব দিক বিবেচনা করেই কেওক্রাডং পাহাড়চূড়ায় পর্যটক ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান নিয়মকানুন মেনে পর্যটকরা সেখানে ভ্রমণ করতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে এলাকায় সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তাজনিত কারণে কেওক্রাডং ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল প্রশাসন। 

আরআর


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: