সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর পাড়ে ক্রসবার-৩ এলাকায় ফুলে ফুলে সাদা হয়ে আছে কাশবন। নীল আকাশে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘ আর বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুল যেন এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তৈরি করেছে। এ দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছে দর্শনার্থীরা। কেউ আসছে প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে, কেউ আবার প্রিয়জনের সঙ্গে স্মৃতি মুঠোফোনে বন্দি করতে।
প্রায় এক কিলোমিটার জায়গা জুড়ে জেগে ওঠা অসংখ্য কাশফুল। দূর থেকে মনে হয়, যমুনার তীরে সাদা চাদর বিছানো। শহর থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার কিংবা নৌকায় করে নানা বয়সের মানুষ আসছেন এই কাশবন দেখতে। শিশুরা দৌড়ঝাঁপে মেতে উঠছে, তরুণ-তরুণীরা ছবি তুলছে, কেউ কেউ হাতে নিচ্ছে কাশফুলের তোড়া।
শাহজাদপুর থেকে মেয়েকে নিয়ে বেড়াতে আসা স্বপ্না পারভিন বলেন, ‘যমুনার পাড়ে যত দূর চোখ যায় শুধু সাদা কাশফুল। এখানে এলেই মনটা প্রশান্ত হয়ে যায়।’
স্থানীয় বাসিন্দা শামিমা খাতুন, মজিবর রহমান ও শফিকুল ইসলাম জানান, ‘কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ আসেন। তবে এই ফুল বেশিদিন থাকে না ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যেই উড়ে যায় বাতাসে।’
কাশফুল মৌসুমে এলাকার ব্যবসায়ীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। ক্রসবার-৩ এলাকায় ফুসকা বিক্রেতা শফিক বলেন, ‘কাশফুল ফোটার পর থেকেই এলাকা সাদা হয়ে যায়। বিকেল হলে প্রচুর মানুষ আসে, আমাদের বিক্রিও ভালো হয়।’
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আ জা মু আহসান শহীদ সরকার বলেন, ‘কাশফুল আর যমুনার সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন বহু মানুষ এখানে আসেন। প্রশাসন দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।’
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান জানান, ছুটির দিনগুলোতে কাশবনে দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাঁদের নিরাপত্তায় পুলিশ ও প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি করে যাচ্ছে।
সময়ের আলো/কেএইচও