লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ৬৩৩টি খামারের ১ লাখ ৩০ হাজার ৯১৫টি গবাদিপশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খামারিরা। এসব গবাদিপশুর মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে লাম্বি ভাইরাস বা এলএজটি নামে একটি রোগ, যাকে পক্স ভাইরাস বলা হয়। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া অ্যানথ্রাক্স নিয়েও আতঙ্কে রয়েছে এ অঞ্চলের গরুর খামারিরা। গবাদিপশুর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় খামারিদের অভিযোগ সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারিভাবে নেই কোনো উদ্যোগ। এই রোগের জন্য সরকারিভাবে টিকা দেওয়ার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ উদাসীন। গরুর খামারিদের জনসচেতনতা নিয়েও কোনো সহায়তা করছেন না।
পশু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, লাম্বি ভাইরাস বা এলএজটি রোগটি গবাদিপশুর জন্য খুবই ক্ষতিকর। এর মধ্যে যদি অ্যানথ্রাক্স রোগটিও ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে এ অঞ্চলে ১ লাখ ৩০ হাজার ৯১৫টি গবাদিপশু ও সাধারণ মানুষের অবস্থা খারাপ হতে পারে। তাই শুরুতেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
পক্স ভাইরাস ও অ্যানথ্রাক্স মূলত গবাদিপশুর থেকে ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ঢুকে পড়ে। এই রোগের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারিভাবে টিকা দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় অঞ্চল রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। ইতিমধ্যে অধিকাংশ খামারের গরু, ছাগল ও ভেড়ার মধ্যে লাম্বি ভাইরাস বা এলএজটি রোগ ছড়িয়ে পড়লেও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাউকে পাশে পাচ্ছেন না বলে জানান কয়েকজন খামার মালিক।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, রামগতিতে ১০২টি গরুর খামারে ৬৭ হাজার ২৫১টি গরু, ১৩৯টি ছাগলের খামারে ১৩ হাজার ৩৩৮টি ছাগল, ৫৯টি ভেড়ার খামারে ১০ হাজার ২২৮টি ভেড়া ও ৮ হাজার মহিষসহ মোট ৯৯ হাজার ১০৭টি গবাদিপশু রয়েছে।
কমলনগরে ২৫০টি গরুর খামারে ২০ হাজার ২৩০টি গরু, ৫০টি মহিষের খামারে ৬ হাজার ৫২৫টি মহিষ, ২৫টি ছাগলের খামারে ৪ হাজার ৫৯৮টি ছাগল ও ৮টি ভেড়ার খামারে ৪৫৫টি ভেড়াসহ মোট ৩১ হাজার ৮০৮টি গবাদিপশু আছে। দুই উপজেলায় মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৯১৫টি গবাদিপশু রয়েছে।
রামগতির চরগাজী ইউনিয়নের ডেইরি ফার্মের মালিক মো. মিলন বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস আছে শুধু নামেই, কাজের বেলায় তাদের পাওয়া যায় না। খামারিদের কোনো প্রকার সহায়তা বা সময়মতো ওষুধও দিচ্ছে না। আনোয়ার ডেইরি ফার্মের মালিক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রাণিসম্পদ অফিসের কাউকে ফোন করলেও ফোন ধরেন না। আমাদের খামারের কোনো খোঁজ নেয় না। গরু, ছাগল ও ভেড়াগুলো বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত।
রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খামার মালিক আবুল কালাম বলেন, তার খামারের সবগুলো গরুর মধ্যে লাম্বি ভাইরাস বা এলএজটি রোগ রয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে ফোন দিলে তারা ফোন ধরেন না। কোনো খবরও নিচ্ছেন না।
কমলনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে গবাদিপশু বা মানুষের মধ্যে অ্যানথ্রাক্স রোগ ধরা পড়লেও আমাদের এ অঞ্চলে এখন পর্যন্ত এ ধরনের রোগের খবর আমরা পাইনি। তবে কয়েকটি গরু ও ছাগলের খামারে লাম্বি ভাইরাস বা এলএজটি রোগ ধরা পড়েছে। আমরা কিছু কিছু খামারের গরুকে টিকা দিচ্ছি। পর্যায়ক্রমে সবগুলো খামারে টিকা দেওয়া হবে।
অন্যদিকে রামগতি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার রুবেল সরকার বলেন, রামগতি উপজেলায় এখনও অ্যানথ্রাক্স রোগ ধরা পড়েনি তবে কিছু খামারে লাম্বি ভাইরাস বা এলএজটি রোগ ধরা পড়েছে। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতেছি। ইতিমধ্যে কিছু খামারে টিকা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি খামারগুলোতে এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সময়ের আলো/এআর