শ্রমিক অসন্তোষ, সংঘর্ষ এবং স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড)। এতে সিইপিজেডে বেড়েই চলছে বেকার শ্রমিকের সংখ্যা।
গত প্রায় ১১ মাসে অন্তত ৬০ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে চলতি মাসেই বেকার হয়েছেন অন্তত ৪০ হাজার শ্রমিক। ১৭ অক্টোবর শ্রমিক অসন্তোষের জেরে প্যাসিফিক জিন্সের আটটি কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হঠাৎ বেকারের তালিকা দীর্ঘ হয়ে যায়।
গত ১৬ অক্টোবর সিইপিজেডের অ্যাডামস ক্যাপস এবং জিহং মেডিক্যাল প্রোডাক্টের আটতলা ভবনে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। ১৭ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এ আগুন জ্বলে। এ আগুনে হাজার কোটি টাকার সম্পদ পুড়ে ছাই হয়েছে। ফলে এক নিমিষে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে প্রায় তিন হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান।
বর্তমানে যারা বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত আছেন তাদের মধ্যে বাড়ছে নানা শঙ্কা। শ্রমিকদের অনেকেই বলেছেন, তারা আর আস্থা রাখতে পারছে না। এক শ্রেণির শ্রমিক আন্দোলন করবে আর মালিকপক্ষ বন্ধের নোটিশ দেবে। এতে কারও উপকার হচ্ছে না। দেশের অর্থনীতি মন্দার দিকে যাচ্ছে। শ্রমিক বেকারের তালিকা কেবল দীর্ঘ হচ্ছে।
শ্রমিকদের বেকারের তালিকা দীর্ঘ হওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, কেন সিইপিজেডের কারখানা বন্ধ হচ্ছে এবং কেন শ্রমিকরা বেকার হচ্ছে তা তদন্ত করা দরকার। সরকার এখনই কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সামনে কারখানা বন্ধের ঝুঁকি বাড়বে। দেশের বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ সময়ের আলোকে বলেন, চট্টগ্রাম ইপিজেডে শুধু প্যাসিফিক জিন্সের একাধিক কারখানা বন্ধ হওয়ায় অন্তত ৩৫ হাজার শ্রমিক বেকার হয়েছেন। আরও অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ায় বেকার হয়ে পড়েছেন শ্রমিকরা। এটা বেশ উদ্বেগের খবর। সরকার দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সামনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, ম্যানেজিং স্টাফদের সঙ্গে শ্রমিকদের যে দ্বন্দ্ব ও শারীরিক আক্রমণ দেখা যাচ্ছে, তাতে সামনে ফ্যাক্টরি কী করে চালাব, সেই ভয় লাগছে। এই অস্থিরতার পেছনে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি। এ পরিস্থিতিতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে।
আরআর