কুমিল্লার চান্দিনায় মো. ওমর ফারুক নামে এক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। তিন মাসের মধ্যে রোগীদেরকে পাইলসসহ সকল প্রকার জটিল রোগ থেকে সম্পূর্ণ আরোগ্যের আশ্বাস দেন তিনি। তবে তার চিকিৎসায় কোন ফল পাননি এক রোগী। বরং তিন দফায় মোট ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে ওই রোগীকে উল্টো হুমকি দিচ্ছেন এ চিকিৎসক।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে এসব অভিযোগে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর এ বিষয়ে একটি লিখিত দিয়েছেন ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ আল মামুন (৪৩)।
পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং স্থানীয় সেনা ক্যাম্প কমান্ডারকে অভিযোগের অনুলিপি প্রদান করেন তিনি।
অভিযুক্ত চিকিৎসক ওমর ফারুক চান্দিনার মহিচাইল ইউনিয়নের জামিরাপাড়া গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে।
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী মামুন উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন তিনি পাইলস রোগে ভুগছিলেন। স্থানীয় এক ব্যক্তির পরামর্শে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ওমর ফারুকের কাছে যান। প্রথমে ৫ হাজার টাকার কিছু ভেষজ ঔষধ দেন। কিন্তু কোনো উন্নতি না হওয়ায় পরবর্তীতে আরও ২০ হাজার টাকা দেন তিনি। কিছুদিন পর ভারত থেকে ওষুধ নিয়ে আসার কথা বলে আরও ২০ হাজার টাকা নেন অভিযুক্ত ওমর ফারুক।
ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রথমে তিনি (ওমর ফারুক) খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছিলেন, তিন মাসের মধ্যে ভালো করে দিবেন। ভালো না হলে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাসও দেন। কিন্তু আমার রোগ ভালো না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে তিনি উল্টো আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন। আমি প্রশাসনের নিকট সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওমর ফারুককে একাধিক কল দিলেও তিনি কল রিসিভ না করায় মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন, ভুক্তভোগী যদি প্রতারিত হয়ে থাকেন, থানায় মামলা করলে প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে।
এ বিষেয়ে চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাবেদ উল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এফআর