স্বামীর দায়ের করা যৌতুক নিরোধ আইনের মামলায় স্ত্রী কামরুন নাহারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে চাঁদপুরের শাহরাস্তি আমলী আদালত।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তন্ময় কুমার দে এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আসামি কামরুন নাহার (৩২) শাহরাস্তি উপজেলার বেরনাইয়া গ্রামের মজিবুর রহমানের স্ত্রী। গত ২০ জুলাই নিজের স্ত্রীর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৮-এর ৩ ধারায় (সি আর নং-৩৭১/২০২৫) মামলা দায়ের করেন মজিবুর রহমান।
পরে গত ২১ আগস্ট আদালত আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করে। তবে আদালতে হাজির না হওয়ায় ৫ অক্টোবর অভিযুক্ত কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কামরুন নাহারের অবস্থান শনাক্ত করে ৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় কালি বাড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে শাহরাস্তি থানা পুলিশ। পরদিন (৪ নভেম্বর) তাকে আদালতে হাজির করা হলে জামিন নামঞ্জুর করে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুন শাহরাস্তি উপজেলার উল্লাশ্বর গ্রামের আবুল কালামের কন্যা কামরুন নাহারের সঙ্গে একই উপজেলার বেরনাইয়া গ্রামের আবুল কাশেমের পুত্র মজিবুর রহমানের বিবাহ হয়। বিয়েতে দুই লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করা হয়। বরপক্ষ প্রায় চার লাখ টাকার স্বর্ণালংকারসহ আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ আরও আড়াই লাখ টাকা ব্যয় করে। বিয়ের পর থেকে কামরুন নাহার তার স্বামীকে নগদ অর্থ, জমিজমা ও শহরে ফ্ল্যাট কেনার জন্য চাপ দিতে থাকেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, স্বামী মজিবুর রহমানের কাছ থেকে ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট এক লাখ ৯৭ হাজার এবং ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আরও এক লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নিয়ে ফেরত দেননি স্ত্রী কামরুন নাহার।
স্বামী মজিবুর রহমানের আইনজীবী চাঁদপুর বারের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাইফুল মোল্লা বলেন, যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৮-এর ৩ ধারায় বিয়ের কোনো পক্ষ যদি অপর পক্ষের কাছে যৌতুক দাবি করে, তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। স্ত্রীও যদি যৌতুক দাবি করেন, তার বিরুদ্ধেও মামলা করা যায়। আদালত আমাদের মামলাটি আমলে নিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কামরুন নাহার সংসারে এসে স্বামীর প্রতি অযৌক্তিক চাহিদা তুলেছিলেন। এর আগেও তার কয়েকটি সংসার ভেঙেছে বলে দাবি করেন তারা। বিষয়টির সুষ্ঠু বিচার দাবি তাদের।
এফআর