ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু, জানতে চাওয়ায় স্বজনদের নির্যাতন

রংপুর ব্যুরো

সারাদেশ

রংপুরের কমিউনিটি (ডক্টরস) হাসপাতালে এক রোগীর হার্টে রিং পরানোর সময় ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনা জানতে চাওয়ায় স্বজন ও

2025-11-07T18:20:02+00:00
2025-11-07T19:00:25+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু, জানতে চাওয়ায় স্বজনদের নির্যাতন
রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫, ৬:২০ পিএম 
ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু, জানতে চাওয়ায় স্বজনদের নির্যাতন
রংপুরের কমিউনিটি (ডক্টরস) হাসপাতালে এক রোগীর হার্টে রিং পরানোর সময় ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনা জানতে চাওয়ায় স্বজন ও সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দিবাগত রাতে এ  ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে লোহার পাইপ, বাঁশ ও হকস্টিক দিয়ে ভুক্তভোগীদের ওপর হামলা চালায়।

জানা যায়, এর একদিন আগে বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বুকের ব্যথা নিয়ে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য মোকছেদুল ইসলাম (৫০) কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চিকিৎসকরা তার হার্টে রিং পরানোর পরামর্শ দেন।

স্বজনদের অভিযোগ, পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক একজনের স্বাক্ষর নিয়ে তড়িঘড়ি করে রোগীর অপারেশন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে ভুল চিকিৎসায় মোকছেদুল ইসলামের মৃত্যু হলেও বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ তথ্য জানাতে গেলে স্বজনদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করা হয়। এতে পুরো হাসপাতালে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকের অবহেলা ও দালাল চক্রের প্রতারণার কারণে মোকছেদুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। অপারেশন চলাকালীন অবস্থাতেই রোগীর মৃত্যু হয়।

অভিযোগ সূত্রে আরও জানা গেছে, রোগীর মৃত্যু হওয়ার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইসিইউতে তাকে জীবিত হিসেবে প্রদর্শনের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্বজনরা জোর করে আইসিইউতে প্রবেশ করলে মোকছেদুল ইসলামকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। মুহূর্তেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে সম্প্রচার হলে হাসপাতালের কর্মচারী ও তাদের সহযোগিরা স্বজন ও উপস্থিতদের ওপর হামলা চালায়। এতে কারমাইকেল কলেজ ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ একজন আহত হন।

নিহতের ছেলে শাফিউল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, অপারেশন রুম থেকে শুধু বাবার ‘আ-আ’ শব্দ শুনছিলাম। পরে যখন আইসিইউতে নেওয়া হয়, বাবা কোনো নড়াচড়া করছিলেন না। তখনই বুঝে যাই বাবা মারা গেছেন। কিন্তু হাসপাতাল তা গোপন রাখে।

নিহতের শ্যালক হুমায়ুন কবির বলেন, আইসিইউতে ঢুকে দেখি দুলাভাই অনেক আগেই মারা গেছেন। আমি ফেসবুকে লাইভে গেলে হাসপাতালের পেটোয়া বাহিনী আমার ওপর চড়াও হয়। পরিচালককে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনারা কার বন্ডে স্বাক্ষর নিয়েছেন- তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি। এরপর আমাকে টেনে-হিঁচড়ে নিচে নামানো হয়, ৫০-৬০ জন মিলে মারধর করে। আমার মোবাইল ফোন নিয়ে নেয় এবং পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলে।

এ ঘটনার পর রাত ৯টার দিকে এলাকাবাসী হাসপাতাল ঘেরাও করে, দোষীদের শাস্তির দাবি জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা জানান, হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত একটি দালাল চক্র প্রায় দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে অপারেশনের ব্যবস্থা করেছিল।

ঘটনার পর রাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করে, যা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা দ্রুত ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকের অবহেলা ও দালাল চক্রের প্রতারণায় মোকছেদুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। হার্টের সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে বুধবার রাতে মোকছেদুল ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার চিকিৎসক মো. আবু জাহিদ বসুনিয়া তার এনজিওগ্রাম করেন। এ সময় রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তার অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে ভুল বুঝিয়ে একটি বন্ডে স্বাক্ষর করিয়ে দ্রুত রিং পরানোর সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসক। অপারেশন চলাকালীন অবস্থায়ই মোকছেদুলদ মারা যান বলে পরিবারের দাবি।

স্বজনদের অভিযোগ, রোগী মৃত্যুর পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাশ আইসিইউতে জীবিত হিসেবে প্রদর্শনের চেষ্টা করে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বজনরা জোরপূর্বক আইসিইউতে প্রবেশ করলে মকসেদকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। মুহূর্তেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে সম্প্রচার করা হলে হাসপাতালের কর্মচারী ও তাদের সহযোগীরা স্বজন ও উপস্থিতদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে কারমাইকেল কলেজ ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ অনেকে আহত হন।

নিহতের ছেলে শাফিউল ইসলাম বলেন, ‘অপারেশন রুমে শুধু বাবার ‘আ আ’ শব্দ শুনছিলাম। পরে যখন আইসিইউতে নেয়া হয়, বাবা কোনো নড়াচড়া করেননি। আমরা বুঝে গেছি তখনই বাবা মারা গেছেন। কিন্তু হাসপাতাল তা গোপন করে।’

নিহতের শ্যালক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আইসিইউতে ঢুকে দেখি আমার দুলাভাই অনেক আগেই মারা গেছেন। আমি ফেসবুকে লাইভে গেলে হাসপাতালের পেটোয়া বাহিনী আমার ওপর চড়াও হয়।

তিনি আরও বলেন, আমি একটা কথা বলেছিলাম হাসপাতালের পরিচালককে, আপনারা কার বন্ড সই নিয়েছেন, তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি। উপর থেকে আমাকে টেনে হিচড়ে নিচে নামায় আরো ৫০-৬০ জন মিলে বলে এ বেটাকে মারো। আজকে শেষ করবো। আমার মোবাইলটা নিয়ে চলে গেলো তারা। তারপরে আমাকে তারা মারতে মারতে আমার পরনে থাকা পাঞ্জাবি ছিঁড়ে যায়।


এ ঘটনার পর রাত ৯টার দিকে এলাকাবাসী হাসপাতাল ঘেরাও করে দোষীদের শাস্তি দাবি করে। স্থানীয়রা বলেন, হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত একটি দালাল চক্র প্রায় দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে অপারেশনের ব্যবস্থা করেছিল।

অন্যদিকে, হাসপাতালের পরিচালক মেরাজ মহসিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই জড়িত নয়। রোগী নিজেই পরামর্শ নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। আমরা কেবল অপারেশন থিয়েটার ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলাম। রোগীর অবস্থা খারাপ হলে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং সেখানে মারা যান। পরে স্বজনরা জোর করে প্রবেশ করে ফেসবুকে লাইভে যান।

রংপুর গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুল আলম আল আমিন এর সাথে এবিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায় নি।

রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার ওসি আতাউর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, উত্তেজিত পরিস্থিতি আমরা নিয়ন্ত্রণে এনেছি। রোগীর পরিবারের পক্ষে থেকে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সময়ের আলো/জেডআই


  বিষয়:   ভুল চিকিৎসা  রোগীর মৃত্যু  হাসপাতাল  রংপুর 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: